ঘরে ফেরার গল্প
মুহম্মদ আল-আমীন
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৩ ১১:০০ এএম
ক্লাস এইটে পড়ুয়া সানিয়াতের জন্য এবার একসঙ্গে দুই ঈদ। কারণ এক যুগ বাদে দেশে ফিরছেন তার বাবা বেলায়েত মোল্লা।
এক আকাশ দরিদ্রতা নিয়ে জন্মভিটা ছেড়ে ছিলেন তিনি। সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার ছিল সানিয়াত তখন মায়ের গর্ভে। মাত্র তিন মাস। প্রয়োজনের মুখে চেয়ে বুকে পাথর চেপে তাকে বিদায় দেন সানিয়াতের মা রাশেদা।
সানিয়াতের বাবার পাঠানো টাকায় হাসি ফোটে পরিবারে। তবে সানিয়াতের বাবা কেমন আছেন, অজানা সানিয়াতের। ভিডিওকলে খানিক কথা বলতেই দুই চোখে বান ডাকে।
দোচালা ঘরের বদলে দোতলা প্রকাণ্ড বাড়ি উঠেছে। যার সামনে শোভা পায় চামেলি আর কৃষ্ণচূড়ার গাছ।
মাগরিবের আজান ছড়িয়ে পড়ছে। শিরীষের ডালপাতা ভেদ করে তীব্র শিস দিয়ে দেখা দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত চাঁদ।
খানিক বাদে মায়ের ফোনে একটা কল এলো। লেখা ‘সানিয়াতের বাবা’।
- কে বলছেন?
অপরিচিত স্বর।
মা খানিকটা চমকে জিজ্ঞেস করলেন, ফোনটা আমার স্বামীর। কোথায় পেলেন, তিনি ঠিক আছেন তো?
- হ্যাঁ, তবে হঠাৎ বুকে ব্যথা উঠেছিল। নয়নপুর ক্লিনিকে আছেন। এসে নিয়ে যান। আর ‘সানিয়াত সানিয়াত’ করছেন উনি।
ঈদের আনন্দ যেন থমকে গেল সানিয়াতের। দাদা, দাদি কাঁদছেন। মায়ের সঙ্গে ২ কিলোমিটার দূরের নয়নপুরের দিকে পা দেয় সানিয়াত।
খানিকটা হাঁটতেই একটা ইজিবাইক পাওয়া গেল। মিনিট দশেকের মধ্যে ক্লিনিকে পৌঁছাল তারা।
বাবাকে জীবনে প্রথমবারের মতোন দেখতে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে সানিয়াত। বেলায়েত একবার ছেলের কপালে চুমু আঁকছেন, একবার দুই চোখে তাকিয়ে দেখছেন ছেলেকে।
অদূরে দাঁড়িয়ে আছেন সানিয়াতের মা। সেদিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন বেলায়েত।
ডাক্তার সাহেব এতক্ষণ চুপচাপ দৃশ্যটি উপভোগ করছিলেন। নীরবতা ভেঙে বললেন,
বেলায়েত সাহেব, ভয়ের কিছু নেই। হিটস্ট্রোকের ভয় করেছিলাম। পানিটা ঠিকমতোন খাবেন।
তাচ্ছিল্যের একটা হাসি হাসলেন বেলায়েত মোল্লা। বললেন, সৌদিতে ৪০-৪১ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রোজ কাজ করেছি ডাক্তার। এই গরম আর কী!
তার পরও সাবধানে থাকবেন, বলে সাবধান করলেন ডাক্তার।
বাবাকে নিয়ে বাসায় ফিরছে সানিয়াত। মাথার ওপর একফালি চাঁদ। ঈদের চাঁদ। সেই চাঁদের আলোয় ঝলমল করছে সানিয়াতের ঈদের চাঁদ, বাবা বেলায়েত মোল্লার মুখ।