গল্প
শরীফ উদ্দিন সবুজ
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৩ ১৪:৩১ পিএম
অলংকরণ: জয়ন্ত সরকার
ঈদের ছুটিতে আরিনরা এলো ওদের গ্রামের বাড়ি। গ্রামের বাড়িটা বেশ বড়। বাড়ি ঘিরে আম আর কাঁঠাল গাছ। সামনে একটা পুকুর। ওর ফুপু বাড়িতে হাঁস পালে। হাঁসের বাচ্চাগুলো একটু পরপর প্যাক প্যাক করতে করতে ওদের মায়ের সঙ্গে পুকুরে নেমে যায়।
ঈদের দিন সকালে ওরা এ বাসায়-ও বাসায় বেশ ঘোরাঘুরি করল।
রাইসা আপুদের বাসায় গিয়ে আরিন ওর বড় বোন ইলিনের কানে কানে বলল, ‘আপু আমি বড়লোক হয়ে গেছি।’
কেন? ইলিন জিজ্ঞেস করল।
আরিন ফিসফিস করে বলল, ‘৪০০ টাকা সালামি পেয়েছি।’
ইলিন মুখ গম্ভীর করে বলল, ‘কাউকে খাওয়াবি না। বাসায় গিয়ে মার কাছে টাকা জমা দিবি।’
আরিন আসলে রাইসা আপুকে আইসক্রিম খাওয়াতে চাচ্ছিল। গত বছর ও যখন ক্লাস ওয়ানে পড়ত, তখন রাইসা আপুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। এখন ও ক্লাস থ্রিতে পড়ে। এতদিন পরে দেখা হয়ে রাইসা আপুর জন্য ওর অনেক মায়া লাগছে। তাই ও রাইসা আপুকে খাওয়াতে চাচ্ছে।
এখন কী করবে বুঝতে পারছে না।
পাড়া ঘুরে ওরা বাসায় যেতে না যেতেই ঝুমবৃষ্টি নামল। খাইয়ে দাইয়ে ইলিন, আরিনকে ঘুম পাড়িয়ে দিল ওদের মা। নতুন জামা-পাজামা-ওড়না পরেই ঘুমাল আরিন। সঙ্গে তার ব্যাগটা। ঈদের পোশাকের এ ব্যাগটা ওর অনেক প্রিয়।
ঘুম ভাঙল রাইসা আপুর হালকা ডাকে। চোখ খুলতেই ইশারায় ওকে বাইরে আসতে বলল রাইসা আপু।
‘মাছ ধরবি?’ রাইসা আপু জিজ্ঞেস করল।
‘মাছ! কীভাবে?’
‘হাত দিয়েই ধরা যায়।’
আরিনকে নিয়ে বাড়ির পেছনের মাঠে গেল রাইসা। বৃষ্টির কারণে আরিনদের পুকুরের পানি উপচে মাঠে চলে এসেছে। মাঠের ওপর দিয়ে যাচ্ছে পাশের খালে। পানির সঙ্গে মাছও যাচ্ছে।
রাইসা টুপটাপ বেশ কয়েকটি মাছ ধরে ফেলল। কিন্তু রাখবে কোথায়? আরিন বলল, ‘আমার ঈদের সালামির ব্যাগটায় রাখো। ব্যাগ খালি। টাকা মা রেখে দিয়েছে।’
আরিনের ব্যাগে মাছ জমা হতে থাকল। কিন্তু হাত দিয়ে ঠিকমতো মাছ ধরা যাচ্ছিল না। পুকুরের পানি যেখানে গিয়ে খালে পড়ছে সেখানে বেশ স্রোতের মতো তৈরি হয়েছে। সেখানে যদি একটা কাপড় ধরা যেত অনেক মাছ পাওয়া যেত।
ওরা দুজন মিলে আরিনের ওড়নাটা স্রোতের মুখে ধরল। আসলেই অনেক মাছ ধরা পড়ল।
এদিকে বাসায় তখন শোরগোল। রাইসা, আরিন কোথায় গেল? কোথায় গেল?
খুঁজতে খুঁজতে সবাই এলো খালপাড়। কাদাপানিতে মেখে ওরা মাছ ধরছে। তার ওপর আরিন সাঁতার জানে না। যদি খালে পড়ে যেত!
দুজনকে বাসায় নিয়ে দেওয়া হলো কঠিন পিটুনি। বিকালে পিটুনি খেলেও রাতে অবশ্য ওরা মাছ খেতে পেল। নিজেদের ধরা মাছ। আহা কী যে মজা!