× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মৌসুমি ফল

এখন সময় লটকনের

ইকবাল খন্দকার

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৩ ১১:৪৩ এএম

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৩ ১১:৪৩ এএম

এ সময়ে বাজারে সর্বোচ্চ পরিমাণ লটকনের সরবরাহ থাকে                                                ছবি : শামীম মিয়া

এ সময়ে বাজারে সর্বোচ্চ পরিমাণ লটকনের সরবরাহ থাকে ছবি : শামীম মিয়া

ফলটির আকার কুল বা বরইয়ের মতো। নরসিংদীবাসী যাকে চেনেন ‘বুগী’ নামে। আর সারা দেশ চেনে ‘লটকন’ নামে। স্থানীয়ভাবে নামটার ব্যাখ্যা- ডালে ডালে ঝুলে থাকে বা লটকে থাকে বলে এর নাম লটকন। তবে ‘বুগী’ নামের কী ব্যাখ্যা, তা জানা নেই নরসিংদীবাসীর। তারা শুধু এইটুকু জানেন, বুগী এমন এক ‘গোটা’, যা ফলাতে শ্রম বা যত্নের প্রয়োজন হয় না।

হ্যাঁ, নরসিংদীবাসী বুগী তথা লটকনকে এক সময় ‘গোটা’ হিসেবেই চিনতেন এবং জানতেন। কোনো পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠা উদ্ভিদ গোটাকে তখনও তারা ‘ফল’ হিসেবে এর গুরুত্ব দেননি। কিন্তু এখন? এখন এই লটকন ‘ফল’ নরসিংদীবাসীর আয়ের অন্যতম উৎস।

এক সময় লটকন বিনাযত্নে উৎপাদিত হলেও, এখন পরিমাণে বেশি উৎপাদনের জন্য কৃষকদের নিষ্ঠার প্রয়োজন হয়। এই যত্নের শুরু করতে হয় চারা রোপণের সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকেই। তবে এক্ষেত্রে প্রাধান্য দিতে হয় জৈবসারকে। আর প্রাধান্য দিতে হয় বিচক্ষণতাকে। কারণ, বিচক্ষণ না হলে চেনা যাবে না কোন চারাটা নর,  আর কোন চারাটা নারী। বলা বাহুল্য, ফল পেতে হলে নারী চারাই রোপণ করতে হবে। যেহেতু নর চারা ফল দেয় না। তাই চার রোপণের পর কৃষককে অপেক্ষা করতে হয় বড়জোর তিন বছর। তার পর লটকনের ফলে ফলে ডাল ঢেকে যায়। লটকনের বসতবাড়ি বা জন্মস্থান হিসেবে নরসিংদী প্রসিদ্ধ হলেও, এই জেলার সব এলাকায় লটকন ফলে না। এই ফলের মূল জন্মস্থান বেলাব উপজেলা। পলাশ এবং শিবপুর উপজেলায়ও লটকন ফলে। তবে বেলাব উপজেলার তুলনায় তা একেবারেই যৎসামান্য।

বিশ বছর আগেও বর্ষার মৌসুমে বেলাববাসীর আয়-উপার্জন নির্ভর করত কাঁঠালের ওপর। কিন্তু ধীরে ধীরে কমতে থাকে কাঁঠালের উৎপাদন। কৃষকরা খুঁজতে থাকেন আয়ের নতুন উপায়। বর্তমানে তাদের সেই নতুন রাস্তার নামই বুগী বা লটকন। ব্যবসায়ীরা এখন কৃষকদের কাছ থেকে গাছ কিনে নেন মৌসুমের শুরুতেই। একটা গাছের দাম ধরেন সর্বনিম্ন আড়াই হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা। যার যত বেশি গাছ, এই মৌসুমে তিনি তত বেশি টাকার মালিক।

বেলাব উপজেলার ভাবলা, চন্দনপুর, চিতাইন, হাড়িসাংগান, বাঘবেড়, দক্ষিণধুরু, ধলিরপাড় এই গ্রামগুলো লটকনের অভয়ারণ্য।

ভাবলা গ্রামের লটকনচাষি মো. কাজল মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় অন্যরকম কিছু বিষয়। তিনি জানান, লটকন চাষের জন্য দরকার লাল মাটি। শুধু নরসিংদী নয়, এই মাটি যেখানে আছে সেখানেই লটকনের বাগান করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, ‘পাকা লটকনের প্রধান শত্রু কাঠবিড়ালি, কলাবাদুড়, আর পাড়ার দুষ্টু ছেলেরা। তাদের খপ্পর থেকে বাঁচাতে পরিপক্ব ফল বিক্রির দিন পনেরো আগে থেকে বিশেষ পাহারা বসাতে হয় লটকন বাগানে।’

নরসিংদীর বাজারগুলোর বড় অংশ এখন লটকনের দখলে। তবে বিশেষভাবে উল্লেখ্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের মরজাল বাজারের কথা। এখানে লটকন কেনা যাবে ৭০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে। লটকনের দাম কম-বেশি হয় বাহ্যিক সৌন্দর্যের কারণে। মৌসুমের শুরু এবং শেষদিকের তুলনায় মাঝের সময়টায় দাম কমই থাকে বলা যায়। যেহেতু এ সময়ে বাজারে সর্বোচ্চ পরিমাণ লটকনের সরবরাহ থাকে।

 যদি নরসিংদী আসেন আর কোনো কৃষকের কাছে লটকনের প্রতি আপনার ভালোবাসা, ভালোলাগার কথা জানান- তাহলে আপনাকে কোনো টাকাই গুনতে হবে না। তারা আপনাকে লটকন খাইয়েও দেবেন, ব্যাগ ভরে দিয়েও দেবেন। চলতি মৌসুমে জেলায় লটকন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬শ ৯৫ হেক্টর জমি এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৩শ ১৫ মেট্রিক টন। নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক, কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রশীদ বলেন, ‘লটকন চাষকে আরও সম্প্রসারণ এবং এর রপ্তানি বাড়াতে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তা ছাড়া আধুনিক পদ্ধতিতে লটকনের ফলন বাড়াতে উন্নত জাতের চারা উৎপাদনের প্রচেষ্টা চলছে।’


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা