তৌকির মুহাইমিন
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৩ ০০:১০ এএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৩ ১১:১২ এএম
অলংকরণ: মামুন হোসাইন
ওজিলদের বাড়ি রূপপুর গ্রামে। জন্মের কয়েক মাস পরই ওর মা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ওজিলের বাবা দিনমজুরের কাজ করে যে সামান্য টাকা আয় করতেন, তা দিয়েই নিজে না খেয়ে ওজিলের সব আবদার পূরণ করতেন। একদিন কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত ওজিলের বাবা মালিকের খুব দামি একটা জিনিস ভেঙে ফেলেন। এতে মালিক তাকে প্রচণ্ড মারধর করে কাজ থেকে বের করে দেয়। তারপর ওজিলের বাবা কাঁদতে কাঁদতে ওখান থেকে চলে যান। কিন্তু তিনি ওজিলকে কীভাবে খেতে দেবেন, এ নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন। বাজারের পাশে বসে আছেন, তখন দেখতে পান অনেকেই সবজি বিক্রি করছে। তখন ওজিলের বাবা বাড়ির বাগানের সবজি ভ্যানে করে বিক্রির জন্য নিয়ে যান। বিক্রি করে দেখেন এতে তার আগের চেয়েও ভালো উপার্জন হয়। এভাবে তাদের দিন খুব ভালোই চলতে থাকে। কিন্তু বাজারের এক অসাধু ব্যবসায়ী একদিন ওজিলের বাবার অগোচরে তার সবজিতে বিষাক্ত পদার্থ মিলিয়ে দেয়, ফলে তার কাছ থেকে সবজি কিনে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে পুলিশ ওজিলের বাবাকে ধরে নিয়ে যায় এবং তার দুই বছরের জেল হয়। ছোট্ট ওজিল আর বাবা খুব কাঁদতে থাকে, মা-বাবা ছাড়া ওজিল তখন অনাথ আশ্রমে থাকে। দুই বছর পর ওজিলের বাবা মুক্তি পান। তখন তিনি দেখতে পান তাদের গাছে অনেক আম ধরেছে। তিনি ওজিলকে এতিমখানা থেকে তার কাছে নিয়ে আসেন। তারপর ভ্যানে করে তার গাছের আম থেকে জুস বানিয়ে বিক্রি করতে যান। কিন্তু কেউ তার কাছ থেকে জুস কিনছিল না। একদিন এক মেয়ে আর বাবা ওজিলের বাবার কাছ থেকে জুস কেনে, তার পর থেকেই সবাই তার কাছ থেকে জুস কিনতে শুরু করে। ওজিলের বাবা আবার সুখের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন, ওজিলকে একটা ভালো স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। জুস বিক্রির আয় দিয়ে তাদের দিন ভালোই কাটতে থাকে। এভাবে ওজিল পড়াশোনা শেষ করে ভালো চাকরি করে। ওজিল তার বাবাকে জুস বিক্রি বন্ধ করে ঘরে বিশ্রাম নেওয়ার অনুরোধ করলেও ওজিলের বাবা জুস বিক্রির মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পান। একদিন ওজিল তার বাবার কাছে যাচ্ছিল এমন সময় দেখতে পায় সেই অসাধু সবজিওয়ালা তার বাবার ভ্যানের কাছে দাঁড়িয়ে জুসের মধ্যে বিষাক্ত কিছু মেশানোর চেষ্টা করছে। সঙ্গে সঙ্গে ওজিল পুলিশকে খবর দেয় এবং পুলিশ সেই অসাধু ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর ওজিল আর তার বাবা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকেন। এভাবেই বাবার ভালোবাসার কাছে সব বাধা, সব কষ্ট, সব অসাধু শক্তি হেরে যায়।
তৃতীয় শ্রেণি, উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বরিশাল