বিল্লাল হোসেন সোহাগ, শেরপুর
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৩ ১৩:৩৮ পিএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৩ ১৩:৩৮ পিএম
কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন শারমিন সুলতানা রাকা
সরকারি চাকরি করেন তিনি। পাশাপাশি হয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা। ভিন্নধর্মী এ উদ্যোক্তার কাজ আলোড়ন তুলেছে। বলছি শেরপুরের শারমিন সুলতানা রাকার কথা।
শেরপুর সদর উপজেলার চর মোচারিয়া ইউনিয়নের নলবাইত গ্রামের রফিকুল ইসলাম রঞ্জুর কন্যা রাকা শেরপুর সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। সম্প্রতি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে চাকরিও নিয়েছেন তিনি। পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রাইভেট টিউশনি করতেন। সঙ্গে চাকরিও খুঁজছিলেন। সরকারি এ চাকরিতে স্বস্তি এসেছে জীবনে। তবু তিনি থেমে থাকেননি।
চাকরির কারণে রাকাকে ঘুরে বেড়াতে হয় নিজ ইউনিয়নের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তিনি খেয়াল করলেন নিজ গ্রাম এবং আশপাশের গ্রামে অসংখ্য জমি পতিত রয়েছে। ভাবলেন এসব জমিতে চাষাবাদ করলে কেমন হয়! সেই ভাবনা থেকে নিজেই কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখলেন।
প্রাইভেট পড়িয়ে জমানো কিছু টাকা এবং নানার সহযোগিতা নিয়ে পরিবার ও অন্যের জমি মিলিয়ে ৭ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেন। মে মাসের শুরুতে তুলেছেন ফসল। হয়েছে বাম্পার ফলন।
নিজের এ উদ্যোগে শারমিন সুলতানা রাকা বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি কয়েকটি টিউশনি করতাম। সেখান থেকে একটা অংশ সঞ্চয় করতাম। কিছুদিন অনলাইনে জামা-কাপড়ের ব্যবসাও করেছিলাম। সেখানকারও কিছু টাকা হাতে ছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসে চাকরি হওয়ার পর কাজের উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়ি বাড়ি যেতে হয়। এ সময় দেখলাম, গ্রামের অনেক জমিতে কোনো চাষাবাদ হয় না। আমাদেরও কিছু জমি পতিত পড়ে ছিল। ভাবলাম, এই জমিগুলোয় চাষাবাদ করতে পারলে ভালোই হবে। ভাবলাম নিজেই হয়ে যাব কৃষি উদ্যোক্তা। শুরু করলাম ভুট্টা দিয়ে। আমার আবাদকৃত ভুট্টার ফলন দেখে অনেকেই উৎসাহ দিয়েছিলেন। কেউ-বা আবার নিজে চাষ করার জন্যও পরামর্শ নিয়েছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহায়তা পেয়েছি অনেক। শুরুতে সরকারি প্রণোদনার ভুট্টা বীজের পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধাও পেয়েছিলাম। ধানের চেয়ে ভুট্টার আবাদ লাভজনক বলেই আমি এতে ঝুঁকেছি। আগামীতে ভুট্টার নতুন কিছু জাতের চাষাবাদের ইচ্ছা আছে। এবার ৭ বিঘা জমিতে রোপণ করা ভুট্টায় শ্রমিক ও সারসহ অন্যান্য খরচ পড়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ভুট্টা বিক্রি করেছি।
রাকার এ সাফল্য নিয়ে কথা হয় ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহানারা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, রাকা আমাদের অফিস থেকে প্রণোদনার ভুট্টাবীজ নিয়ে ভুট্টার আবাদ করেছে। ফলনও হয়েছে বেশ। তার মতো সাহস করে অন্যেরা এগিয়ে এলে গ্রামের কোনো জমি পতিত থাকবে না।