পাঠকের লেখা
দিল আফরোজ চৌধুরী
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৩ ১৩:৩০ পিএম
আপডেট : ২২ মে ২০২৩ ২০:১৪ পিএম
নারীদের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’। যেখানে উঠে আসত গ্রামগঞ্জসহ নানা স্তরের নারীদের চিত্র। জন্মনিরোধ, পরিবার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে মেয়েদের জীবনবোধ থেকে লেখা চিঠিও। এছাড়াও সাহিত্য, রান্না, সেলাই ও রূপচর্চা বিষয়ে আলাদা আয়োজন। প্রকৃত অর্থে বেগম পত্রিকা ছিল নারী প্রগতি ও স্ত্রী শিক্ষার পক্ষে অদম্য এক মাধ্যম। এই পত্রিকার মাধ্যমে সর্বমহলের নারীর ভাষ্য প্রকাশ পেত।
১৯৬৫ সালের ২৮ জুন আমার বিয়ে হবার পর নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানার ভাতসাইল গ্রামে শ্বশুরবাড়ি চলে যাই। আমি তখন ছাত্রী ছিলাম। তবুও শ্বশুরবাড়িতে ডাকযোগে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকা নিতাম। বাড়ির খুব কাছে পোস্টঅফিস থাকায় এবং কর্মকর্তা আমার ভাসুর হওয়ায় অফিসের লোকজন বাসায় পত্রিকা পৌঁছে দিত।
আমার স্বামীর নাম শাহ্ আলম চৌধুরী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। শ্বশুরবাড়িতে তখন আমি একা থাকতাম। বেগম পত্রিকাই ছিল আমার সারাদিনের সঙ্গী। সংসারের বিভিন্ন কাজ শেষ করে আমি খুঁটে খুঁটে নানা বিষয় পড়তাম পত্রিকা থেকে। সপ্তাহজুড়ে বেগমের পাতাগুলো ছিল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রবন্ধ, গল্প, শিশুদের পাতা, রান্না, সেলাই, মেয়েদের রূপচর্চাসহ নানা বিষয়ে পাতা থাকত পত্রিকায়। অপেক্ষায় থাকতাম সাতদিন পর কবে আসবে আমার বেগম।
বেগম পত্রিকা আমার জীবনে অনেক প্রভাব রেখেছিল। সাংসারিক জীবনের নানা বিষয় জানতে পারতাম। শিশুবিষয়ক লেখাগুলো পড়ে জেনেছি- কেমন করে বাচ্চাদের খাওয়াতে হয়, পরিচর্যা করতে হয়, সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়। এছাড়া সেলাই, নকশা ও রান্না সম্পর্কে তথ্য জানা যেত। যা পরবর্তীতে জীবনের নানা ক্ষেত্রে ব্যবহার করতাম। তবে গল্প ও উপন্যাস পড়তে বেশি ভালো লাগত। ধারাবাহিক গল্পগুলো যেন ছিল জীবনের প্রতিচ্ছবি।
পরবর্তীতে আমার স্বামী নওগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক হলে গ্রাম থেকে আমরা নওগাঁ শহরে চলে আসি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমরা শহরের সব ছেড়ে আবার গ্রাম চলে যাই। আমাদের পরিবারের লাইব্রেরিতে অনেক বই ছিল, তার সাথে আমার প্রিয় বেগম পত্রিকার অনেকগুলো সংখ্যা। কিন্তু সব লুটপাট হয়ে গিয়েছিল। তাই এখন আর আমার সংগ্রহে কোনো সংখ্যা নেই। বেগম পত্রিকায় কখনও লেখা না হলেও আমি ছিলাম একনিষ্ঠ পাঠক।