চায়ের জন্য ইতিহাসে বেশকিছু যুদ্ধ ও আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে; যার মধ্যে অন্যতম ‘বোস্টন টি পার্টি’ ও ‘ওপিয়াম যুদ্ধ’
বোস্টন টি পার্টি
আঠারো শতকে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে কয়েক দশকের আমেরিকান রেভল্যুশনে চায়ের প্রভাব ছিল দীর্ঘমেয়াদি। ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশদের টি-অ্যাক্ট, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর নানাবিধ অন্যায্য বাণিজ্যিক কর আরোপ এবং ব্রিটিশদের চা বাণিজ্যে কর না দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় ‘সনস অব লিবার্টি’ নামে আমেরিকার স্বাধীনতাপন্থি একটি সংগঠন। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে একই বছর বোস্টন বন্দরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ৯২ হাজার টন চা পাতা ধ্বংস করে তারা। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। এ আন্দোলন ইতিহাসে ‘বোস্টন টি পার্টি’ নামে পরিচিত। আলোচিত এ ঘটনা আমেরিকানদের মধ্যে বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটায়।
ওপিয়াম যুদ্ধ
উনবিংশ শতকের শুরুতে ব্রিটেন, ইউরোপ ও আমেরিকার অধিকাংশ অঞ্চলে চীন থেকে চা, মাটির তৈজস ও সিল্কের রপ্তানি করা হতো; যার বিনিময়ে চীন সিলভার আমদানি করত ব্রিটেন থেকে। ব্রিটিশরা চীনে তাদের বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে গোপনে নিষিদ্ধ মাদক আফিম সরবরাহ শুরু করে। এ কাজে বাধা দেওয়ায় চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ওপিয়াম যুদ্ধ নামে খ্যাত। ব্রিটিশদের সঙ্গে যুক্ত হয় ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ।
১৮৩৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮৪২ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম দফার যুদ্ধ হয়। এর কয়েক বছর পর আবারও শুরু হয় যুদ্ধ। ১৮৫৬ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ১৮৬০ সালের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আরেকটি যুদ্ধ হয়। দুটি যুদ্ধেই চীন দারুণভাবে পরাজিত হয়ে ব্রিটিশদের অন্যায্য কিছু ব্যবসায়িক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।