বিশেষ আয়োজন
আহমাদ শামীম
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৩ ১২:২২ পিএম
ছবি: আর রবি
সারা দিন গায়ে খেটে চা-শ্রমিকরা বর্তমানে পায় ১৭০ টাকা মজুরি। গত বছরের আগস্ট মাসের আগে সেটা ছিল ১২০ টাকা। ফলে মজুরি ন্যূনতম ৩০০ টাকার জন্য আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন জেলার চা-শ্রমিকরা। তিন সপ্তাহের আন্দোলন শেষে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ৫০ টাকা বাড়ানোর আশ্বাসে কাজে ফেরেন তারা।
সে সময় তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, ভূমি অধিকার, মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধিসহ অন্য দাবিগুলোর বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। ভর্তুকি মূল্যে রেশন সুবিধা, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের পেনশন, রক্ষণাবেক্ষণ, গোচারণভূমি বাবদ ব্যয়, বিনা মূল্যে বসতবাড়ি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ শ্রমিক কল্যাণ কর্মসূচি এবং বাসাবাড়িতে উৎপাদন বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছিল। যার অনেকাংশে বাস্তবায়ন এখনও হয়নি বললেই চলে।
১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনিছড়ায় ব্রিটিশদের তত্ত্বাবধানে প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়। তিন বছর পর সেই বাগান থেকে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়। আসামসহ সিলেটের অন্যান্য অঞ্চলেও চা-বাগান বাড়তে থাকে। ফলে প্রচুর শ্রমিকের চাহিদা দেখা দেয়। ব্রিটিশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের ‘নলেজ, এভিডেন্স অ্যান্ড লার্নিং ফর ডেভেলপমেন্ট’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভারতের বিহার, ওড়িশা, মাদ্রাজ, অন্ধ্র প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর প্রদেশ থেকে চা-বাগানের কর্মীদের নিয়ে আসা হতো। তাদের বেশিরভাগ ছিল গরিব এবং দুর্বল, সাধারণত নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। দালালরা তাদের ভালো চাকরি এবং উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে নিয়ে আসত, যা পরবর্তী সময়ে পূরণ করা হতো না।’
আজ থেকে প্রায় একশ বছর আগে চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনের শোষনের গল্প নিয়ে মুলকরাজ আনন্দ লিখেছেন তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’। আজকের দিনের চা শ্রমিকদের জীবন এই উপন্যাসের গঙ্গু, সজনী, লীলা ও বুদ্ধদের জীবনের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়।