× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উদ্যোগ

গয়নার নকশাকার

নুসরাত খন্দকার

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৩ ১২:৪৩ পিএম

আপডেট : ১৮ মে ২০২৩ ১৫:০৬ পিএম

ছবি : সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি

ছবি : সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি

একেক সময় একেক থিম নিয়ে কাজ করতে দেখা যায় এই নকশাকারকে। কখনও জামদানি মোটিফ তো কখনও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী। কাজ করছেন পুরোনো দিনের গয়না  নিয়েও। ঐতিহ্য ধরে রাখতে যে গয়নাগুলো এখন প্রায় বিলুপ্ত, সেই ধাঁচে গয়নার ডিজাইন করেছেন

দেশের মানচিত্র ডিজাইনের গয়না


গয়নার জন্য পরিচিত একটি নাম সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি। যার নেপথ্যে আছেন জেরিন তাসনিম খান লোরা। পড়াশোনা করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যশিল্পে। ২০১৪ সালে ফাইনাল ইয়ারে পড়ার সময় বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন নিজের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। বাড়িতে মায়ের যে শাড়ির সংগ্রহ ছিল তা দেখে বন্ধুরা বলেছিল ঢাকায় এগুলো অনেক দাম দিয়ে কিনতে হয়। এখান থেকে কিনে ঢাকায় বিক্রি করা যেতে পারে। আর কম দামে সবাই নিজের পছন্দমতো শাড়ি কেনে সেখান থেকে। পরে ঢাকায় আসার পরও বন্ধুরা বলেছিল আবার যেন কিছু শাড়ি তাদের এনে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারটা লোরা খানকে বেশ ভাবায়। ছোটবেলা থেকেই এগুলো দেখে আসছেন তিনি; কিন্তু এর মূল্য সেইভাবে উপলব্ধি করা হয়নি। এর পর নিজে কিছু করবেন এই চিন্তা থেকে সংগ্রহ করলেন শাড়ি। ফেসবুকে পেজ খুলে আপলোড করেন সেই শাড়ির ছবি। শাড়ি যেহেতু ছয় গজের হয়, তাই পেজের নাম দিয়েছিলেন সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি। শাড়ির ছবি তোলার সময় মডেলদের নিজের সংগ্রহ করা গয়না  পরাতেন। গয়নার ব্যাপারে তিনি ছিলেন খুব শৌখিন। তাই গয়না কিনে সেইগুলো আবার নিজের মতো করে কাস্টোমাইজ করতেন। পেজে শাড়ির দামের সঙ্গে মডেলের পরা গয়নার দাম বা কোথায় পাওয়া যায়, এসব প্রশ্ন ক্রেতাদের থেকে শুনতে হতো। তখন তিনি ভাবলেন, এমন গয়না খুব একটা পাওয়া যায় না এবং সবাই যখন এত পছন্দ করছে- তা হলে একটা উদ্যোগ নিয়ে দেখা যায়। যেহেতু ডিজাইন নিয়েই ছিল তার পড়াশোনা, তাই খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি। প্রথমে ছোট ছোট কিছু কানের দুল ডিজাইন করে পেজে ছবি দিয়েছিলেন এবং খুব ভালো সাড়া পান। এর পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। 

জামদানি মোটিফের গয়না


নিজের গয়নার ব্যাপারে আমি খুব শৌখিন। গয়না কিনে নিজে সেইগুলো আবার কাস্টমাইজ করতাম। সবাই গয়নাগুলো খুব পছন্দ করত। তখন মনে হলো এমন গয়না তো পাওয়া যায় না। তাই এক্সপেরিমেন্ট করতে গয়নার ডিজাইন শুরু করি। তখনও বুঝিনি এত সাড়া পাব। দেশীয় সবকিছু আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করে। তাই গয়নার ডিজাইনে সেইগুলোকে প্রতিফলিত করি
জেরিন তাসনিম খান লোরা
স্বত্বাধিকারী, সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি

শুরুটা করেছিলেন মেটাল গয়না দিয়ে। এখন সোনা-রুপাসহ হীরা দিয়েও গয়না তৈরি করেন। এ ছাড়া মেটালের ওপর গোল্ড কিংবা সিলভার প্লেটেড কাজও দেখা যায়। বেশিরভাগ গয়নায় থাকে ব্রোঞ্জ মেটাল। এর সঙ্গে কখনও পার্ল কখনও স্টোন বাড়িয়ে দেয় গয়নার সৌন্দর্য। আংটি, কানের দুল, নথ, নাকফুল, ব্রেসলেট, চুড়িসহ আছে নানা ডিজাইনের গয়নার সেট। চাইলে ইচ্ছেমতো গয়না নিয়ে সেট মিলিয়ে নেওয়াও যায়। রুপার বেশকিছু স্বকীয় ডিজাইনের গয়না মেলে পেজটিতে। বিয়ের গয়নার জন্য আছে তাদের বিশেষ ব্যবস্থা। কনেরা চাইলে তাদের অফিসে গিয়ে দেখে বুঝে বা তাদের চাহিদা জানিয়ে গয়না কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন। 

আরও পড়ুন :  দেশি ফেব্রিকে বিয়ের পোশাক

পোশাকের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া মেটাল জুয়েলারি-জালি সেট


একেক সময় একেক থিম নিয়ে কাজ করতে দেখা যায় এই নকশাকারকে। কখনও জামদানি মোটিফ তো কখনও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী। কাজ করছেন পুরোনো দিনের গয়না নিয়েও। ঐতিহ্য ধরে রাখতে যে গয়নাগুলো এখন প্রায় বিলুপ্ত, সেই ধাঁচে গয়নার ডিজাইন করেছেন তিনি। আরও একটি ইউনিক কাজ হলো পোশাকের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া মেটাল জুয়েলারি জালি সেট। সঙ্গে একই ডিজাইনের কানের দুল, হাতের চুড়ি, খোঁপার কাঁটাও মেলে সেখানে। বাংলাদেশের মানচিত্রের ডিজাইনে করেছেন জুয়েলারি। 

কাজের শুরুর দিকে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। কারিগররা মনে করত শখের বশে ব্যবসা করতে এসেছে। তাই বেশিদিন কাজ হবে না। তা ছাড়া সোনা-রুপা বাদ দিয়ে মেটাল গয়না বানাতে চাইত না। তাদের বুঝিয়ে কাজ করাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। নয় বছর ধরে সাফল্যের সঙ্গে চলছে সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি। শাড়ি এবং গয়না নিয়ে সামনে আরও বেশি কাজ করতে চান এই উদ্যোক্তা। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা