সহজ মানুষ
মো. রফিকুল ইসলাম
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৩ ১২:১৫ পিএম
কাঁধে ঝোলা আর আঞ্চলিক গানের সুর বাঁশিতে তুলে অর্ধশত বছর ধরে ছুটে চলছেন তিনি। বাংলার এই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা আবুল হোসেনের সঙ্গে দেখা মেলে সাঁথিয়া উপজেলাধীন করমজা চতুর হাটের বগুড়া বাসস্ট্যান্ডে রাস্তার পাশে। আবুল হোসেন সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার পুঙলীদাও গ্রামের বাসিন্দা। বাঁশি বাজিয়ে, বাঁশি বিক্রি করে ছয় সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন ৯৩ বছর বয়সি মানুষটি।
বাবার সম্পত্তি না থাকায় নিত্যদিনের চাহিদা মেটাতে বেকায়দায় পড়েন তিনি। নিজের বাঁশি বাজানোর বিদ্যাটুকু কাজে লাগিয়ে খুঁজে নেন চলার শক্তি। আর এভাবে অর্ধশত বছর ধরে এ জীবিকা নির্বাহ ও বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে নিজ হাতে তৈরি বাঁশি বিভিন্ন মেলা ও হাটবাজারে বিক্রি করেন।
মুলিবাঁশে তৈরি হয় বাঁশি, আর একটি বাঁশে পাঁচ থেকে ছয়টি বাঁশি তৈরি করা যায়। তিনি বলেন, বাঁশগুলো অনেক চিকন এবং বাঁশের গিরা বা পোড়গুলো এক থেকে দেড় হাত পরপর হওয়ায় অনেক সময় ২০০ থেকে ৩০০টি কাঁচা বাঁশের প্রয়োজন হয়। বাঁশ ক্রয় করার পর প্রথমে বাঁশির মাপ অনুযায়ী বাঁশ কেটে নিতে হয়। পর্যায়ক্রমে বাঁশগুলো রোদে শুকিয়ে নিয়ে বাঁশি তৈরির কাজ শুরু করতে হয়। হাপরের আগুনে বাঁশ পুড়িয়ে রজন, চাঁচ দিয়ে শিরিশ মারার পর গরম লোহার রড দিয়ে বাঁশের বাঁশিগুলো ফুটো করতে হয়। এ ক্ষেত্রে মোটা-চিকন সবমিলে পাঁচটি রড লাগে। বাঁশিতে সাধারণত তিন থেকে চারটি অথবা পাঁচ-সাতটি ফুটো থাকে। এর জন্য প্রয়োজন আধুনিক যন্ত্রপাতির। অর্থাভাবে সেসব যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে না পারায় কোনো রকমে তার পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাঁশিগুলোকে কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। প্রতিটি বাঁশি তৈরিতে খরচ হয় ১০ থেকে ১৫ টাকা। বিক্রি হয় ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকায়। বড় বাঁশি ৮০ থেকে ১২০ টাকায়ও বিক্রি হয়।
আবুল হোসেন জানান, অন্য কোনো কাজ করতে পারেন না। বাঁশি বিক্রি না করলে খাবেন কী? সরকার থেকে মাসে ১৫০০ টাকা বয়স্ক ভাতা আর বাঁশি বিক্রি করে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা থাকে, তা দিয়েই কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। আগে রাঙামাটি এলাকা থেকে মুলিবাঁশ কিনে আনতেন। এখন যেতে পারেন না, তাই বগুড়া থেকে বাঁশি কিনে এনে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, যদি একটা চালের কার্ড পাই, তাহলে আমার অনেক উপকার হবে।