× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দেড়শ বছরের ঐতিহ্য

চট্টগ্রামের চন্দনপুরা তাজ মসজিদ

আজহার মাহমুদ

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৩ ১৭:০১ পিএম

আপডেট : ০৪ মে ২০২৩ ১৭:১৫ পিএম

চট্টগ্রামের চন্দনপুরা তাজ মসজিদ

ইসলামি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন স্থাপনার একটি চন্দনপুরা তাজ মসজিদ। বন্দরনগরীর চকবাজার ওয়ার্ডের সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কে এটি অবস্থিত।

মসজিদের ইতিহাস

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৬৬৬ সালে শায়েস্তা খানের সেনাবাহিনী আরাকান মগরাজাদের কবল থেকে চট্টগ্রাম মুক্ত করলে এখানে মুঘল শাসন কায়েম হয়। তখন শাহি ফরমানবলে বিজিত অঞ্চলে অনেক মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে সে সময়কার হামজা খানের মসজিদ, আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদ, অলি খাঁ জামে মসজিদ অন্যতম। বাংলায় মুঘল শাসনামলে এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও মূলত ব্রিটিশ শাসনামলে চন্দনপুরা তাজ মসজিদটি প্রথম সংস্কার করেন মাস্টার হাজি আব্দুল হামিদ।

চট্টগ্রাম নগরীর সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কের পশ্চিম পাশে মুঘল স্থাপত্যশিল্পের আদলে ১৮৭০ সালে মাটি ও চুন-সুরকির দেয়াল আর টিনের ছাদের মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন আবদুল হামিদ মাস্টার। তখনও মাটির দেয়াল কারুকাজে ভরপুর ছিল। তার বংশধর ব্রিটিশ সরকারের ঠিকাদার আবু সৈয়দ দোভাষ ১৯৪৬ সালে এ মসজিদের সংস্কারকাজে হাত দেন। মসজিদের কারিগর ও নির্মাণসামগ্রী ভারত থেকে আনা হয়। এতে ৫ লাখ টাকার অধিক খরচ হয়। চারপাশের দেয়ালগুলো ভেন্টিলেশন সিস্টেমের। দেয়ালের ফাঁক গলে ঢুকছে আলো। আলোর ঝরনাধারায় ভেতরটা করছে ঝলমল। আছে বাতাসের কোমল পরশ। ব্রিটিশ আমলের শেষে শুরু হয়ে পাকিস্তান আমলের প্রথম দিকে ১৯৫০ সালে মসজিদের প্রথম সংস্কারকাজ সমাপ্ত হয়।

অনেকের কাছে এ মসজিদটি চন্দনপুরা বড় মসজিদ বা তাজ মসজিদ নামেও পরিচিত। এখন মসজিদটির বয়স ১৫৩ বছর। চট্টগ্রামের পর্যটনশিল্পের পরিচয় তুলে ধরতে মসজিদটির ছবি ব্যবহার করা হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রকাশনায়। এসব প্রকাশনায় এ মসজিদের ছবি থাকায় বিদেশ থেকে পর্যটকরাও আসেন এখানে। আবু সৈয়দ দোভাষ সে সময় কলকাতা থেকে কারিগর ও দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে উপকরণ এনে ১৩ শতক জায়গার ওপর দোতলা মসজিদটি গড়ে তোলেন।

মসজিদের বর্ণনা

মসজিদের চারদিকে যেন রঙের মেলা। মসজিদটির প্রতিটি অংশে সবুজ, নীল, হলুদ, সাদা, গোলাপিসহ হরেক রঙ ব্যবহার করা হয়। লতাপাতার নকশা আর নানান কারুকাজে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুনিপুণ হাতে। অনেক দূর থেকে দেখা যায় মসজিদটির বাহ্যিক সৌন্দর্য।

মসজিদে রয়েছে ছোটবড় ১৫টি গম্বুজ। এর মধ্যে বড় গম্বুজটি নির্মাণ করতে প্রায় ১৩ মণ রুপা ও পিতলের প্রয়োজন হয়েছিল। প্রতিটি গম্বুজে যাওয়ার জন্য আছে সিঁড়ি। গম্বুজ ও সিঁড়িতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মুঘল স্থাপত্য নিদর্শনের প্রতিচ্ছবি। গম্বুজের চারপাশে রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবির নাম। যখন মাইকের ব্যবহার ছিল না, তখন চার তলা সমান উঁচু মিনারে উঠে আজান দেওয়া হতো। এ রকম দুটি মিনার এখনও আছে। বর্তমানে প্রতি পাঁচ বছর পর একবার রঙ করা হয়। বৈরী আবহাওয়ায় মসজিদের অনেক জিনিস যেমন নষ্ট হয়েছে তেমনি সংস্কারের সময়ও অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। পরে বড় গম্বুজে সবুজ, গোলাপি ও হলুদ রঙ করে দেওয়া হয়।

পর্যটক ও মুসল্লির আনাগোনা

বর্তমানে এ মসজিদে একজন ইমাম, একজন হাফেজ ও দুজন মুয়াজ্জিন রয়েছেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন মুসল্লি এ মসজিদে নামাজ আদায় করতে ও দেখতে আসেন। আশপাশে অনেক নতুন মসজিদ গড়ে উঠলেও এ মসজিদে নিয়মিত মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণত দিনে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ লোক নামাজ পড়েন এ মসজিদে। শুক্রবার জুমায় ৫ হাজার মুসল্লি ছাড়িয়ে যায়। তখন মসজিদে জায়গাসংকুলান না হলে সংলগ্ন রাস্তা বন্ধ করে সেখানেই নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। মসজিদটিতে রয়েছে দুর্লভ ইসলামি নিদর্শনাবলির সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা; যা দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্থ থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন।

যেভাবে যাবেন

চন্দনপুরা মসজিদটি চট্টগ্রামের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা রোডে অবস্থিত। চট্টগ্রাম শহরে নেমে রিকশা বা সিএনজি নিয়ে এ মসজিদ ঘুরে যেতে পারেন। চট্টগ্রামের জিইসি থেকে সিএনজিতে ১০০ টাকায় মসজিদের সামনে চলে যেতে পারবেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা