আসমাউল হুসনা
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৩ ১১:২৪ এএম
চলছে বালিশ নিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা
ঘুমাতে যাওয়ার সময় ভাই-বোন কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে খুনসুটি হওয়া মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। কোনো কোনো সময় এই খুনসুটি পরিণত হয় মারামারিতে। আর এই মারামারিতে একে অপরকে আঘাত করার জন্য অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় বালিশ। মিষ্টি এ যুদ্ধে বালিশ ছিঁড়ে গেলেও পক্ষ ও প্রতিপক্ষ কেউ কিন্তু শারীরিকভাবে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হোন না। ছেলেবেলার এই দুষ্ট-মিষ্টি খেলা যদি আন্তর্জাতিকভাবে আয়োজিত হয় তবে কেমন হয়!
২০০৮ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বালিশযুদ্ধ খেলার আয়োজন করেছে ‘পিলো ফাইট ক্লাব’ নামক একটি সংগঠন। ফাইট ক্লাব নামের অভূতপূর্ব একটি ফিল্ম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় পিলো ফাইট ক্লাব সংগঠন। পিলো ফাইট ক্লাব প্রথমে লন্ডন, সান ফ্রান্সিসকো ও নিউইয়র্ক সিটির মতো শহরগুলোতে শুরু হলেও এখন এটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবছর এপ্রিল মাসের প্রথম শনিবার আন্তর্জাতিক পিলো ফাইট দিবস পালিত হয়।
ইতিহাস খুঁজে জানা যায়, ৭০০০ অব্দে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় বসবাসকারী লোকেরা প্রথম বালিশ ব্যবহারের প্রচলন করেছিলেন। তখন কেবল ধনীরাই বালিশ ব্যবহার করলেও বর্তমানে সর্বস্তরের মানুষের বেডরুমে শোভা পাচ্ছে বাহারি ধরনের বালিশ। সেই সঙ্গে বালিশ নিয়ে মারামারি অর্থাৎ বালিশযুদ্ধ প্রতিযোগিতাও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পালক বালিশ ব্যবহার করে খেলাটি অনেক বেশি মজাদার ও উৎসাহমূলক হলেও, পশু-পাখির কল্যাণের কথা ভেবে কিছু বালিশ লড়াই সংগঠক অনুরোধ করেন, পালকের বালিশ ব্যবহার না করতে।
বালিশযুদ্ধ দিবস বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়। কারণ বালিশ মারামারি খেলা দৈনন্দিন জীবন থেকে চাপ কমানোর একটি চমৎকার উপায়। এটি সবাইকে আনন্দ দেয়। লোয়াড়রাও (পুনরায়) তাদের শৈশবের দুষ্টুমি আবিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে উদ্দীপনা, শক্তি অর্জনের চাপ থেকে মুক্তি পায়।
এ ছাড়াও বালিশযুদ্ধ করা খেলাটি বাচ্চাদের কীভাবে কৌশল বিকাশ করতে হয় তা শেখানোর একটি দুর্দান্ত উপায় হতে পারে। শুধু খেলায় অংশগ্রহণ করে নয়, দর্শক সারিতে দাঁড়িয়েও খেলাটি উপভোগ করা যায়। দিনটি গৃহহীনদের মাঝে বালিশদান করেও উদযাপন করা হয়।