ঈদের দিনের বিশেষ আকর্ষণ থাকে বাহারি সব খাবার। ভোজন রসিক তো বটেই, ছোট-বড় সবাই থাকে এই দিনের অপেক্ষায়। ঈদের দিনের ভূরিভোজের সুস্বাদু ও মজাদার কিছু রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী ফারজানা আহাম্মেদ।

কাশ্মিরি পোলাও
যা যা লাগবে
পোলাওয়ের চাল ১ কেজি, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, গাজর কুচি ৩টি, তেজপাতা ২টি, এলাচ ৪-৫টি, দারুচিনি ৪টি, ঘি আধা কাপ, গুঁড়োদুধ ১/৪ কাপ, লবণ ১ টেবিল চামচ, কিশমিশ ৩ টেবিল চামচ ও ড্রাই ফ্রুটস আধা কাপ।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। চুলায় একটি পাত্রে ঘি দিয়ে তাতে পেঁয়াজ বেরেস্তা করে নিতে হবে। এবার গাজর দিয়ে হালকা ভেজে চাল, তেজপাতা, দারুচিনি ও এলাচ দিয়ে ভাজতে হবে। চাল ২ মিনিট ভাজার পর গুঁড়োদুধ ছিটিয়ে নাড়তে হবে আরও কিছুক্ষণ। এরপর লবণ ও বেরেস্তা দিতে হবে। এবার ফুটন্ত গরম পানি দিয়ে নেড়ে চুলায় মাঝারি আঁচে ঢেকে রাখতে হবে। পানি কমে এলে ড্রাই ফ্রুটস, বাদাম, বেরেস্তা, কাঁচা মরিচ ছিটিয়ে তাওয়ার ওপর অল্প আঁচে দমে রাখতে হবে। ১৫ মিনিট পর দম থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন কাশ্মিরি পোলাও।

বাদামি চিকেন
যা যা লাগবে : মুরগির মাংস ৫০০ গ্রাম, ঘি ৪ টেবিল চামচ, মরিচ ও হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ আধা চা-চামচ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বাটা ৪টি, কাঠ বাদাম বাটা ২৫ গ্রাম, পোস্ত বাটা ২ টেবিল চামচ, আস্ত জিরা ২ টেবিল চামচ, এলাচ ৪টি, লবঙ্গ ৪টি, কালো গোলমরিচ ৫টি, দারুচিনি ২টি, তেজপাতা ১টি, গরম মসলা গুঁড়া ১/৪ চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ১/৪ চা-চামচ, ফ্রেশ ক্রিম ৫ টেবিল চামচ, দুধ ৫০ গ্রাম, লবণ পরিমাণমতো ও ধনেপাতা সামান্য।
যেভাবে তৈরি করবেন : মুরগির মাংসের সঙ্গে লবণ, আদা-রসুন বাটা, মরিচ ও হলুদ গুঁড়া মেরিনেট করে নিতে হবে। গরম মসলা সব একসঙ্গে টেলে গুঁড়া করে নিতে হবে। প্যানে ঘি দিয়ে গরম হলে পেঁয়াজ বাটা দিয়ে হালকা ভেজে নিতে হবে। পেঁয়াজের রঙ বাদামি হয়ে এলে মেরিনেট করা চিকেন দিয়ে নাড়তে হবে ৫ মিনিট। এরপর বাদাম বাটা দিয়ে কষাতে হবে আরো কিছুক্ষণ। দুধ ও ফ্রেশ ক্রিম দিয়ে ভালোমতো মিশিয়ে পরিমাণমতো লবণ দিয়ে কষাতে হবে তেল ওপরে উঠে না আসা পর্যন্ত। এরপর আধা কাপ পানি দিয়ে অল্প আঁচে ঢেকে রান্না করতে হবে। পানি কমে এলে ওপরে ধনেপাতা ছিটিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন বাদামি চিকেন।
যা যা লাগবে : ধাপ-১ : গরুর মাংস ৭৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ২টি, টমেটো ২টি, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, আদা ১ টেবিল চামচ, রসুন আধা টেবিল চামচ, পানি ২ কাপ, তেল ১/৩ কাপ, কাশ্মীরি লাল মরিচ গুঁড়া ১/২ টেবিল চামচ, টক দই আধা কাপ, ধনিয়া গুঁড়া ১ টেবিল চামচ। ধাপ-২ : লবঙ্গ ৫-৬টি, দারুচিনি ২টি, কালো এলাচ ২টি, সবুজ এলাচ ২টি, কাজুবাদাম ১৮-২০টি, আস্ত জিরা আধা টেবিল চামচ। ধাপ-৩ : কাঁচা মরিচ ২-৩টি, পুদিনা পাতা ১০-১২টি, ধনিয়া পাতা বাটা ২-৩ টেবিল চামচ, পানি ১/৪ কাপ।
যেভাবে প্রস্তুত করবেন : প্রথমে ধাপ-২-এর গরম মসলা ও বাদাম একসঙ্গে গুঁড়া করে নিতে হবে। এরপর ধাপ-৩-এর সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। মাংসের সঙ্গে তেল, পেঁয়াজ কুচি, টমেটো টুকরা, হলুদ, লবণ, আদা ও রসুন দিয়ে প্রেশার কুকারে মাঝারি আঁচে ২০-২৫ মিনিট সিদ্ধ করে নিন। উচ্চ তাপে পানি শুকিয়ে নিতে হবে ৪-৫ মিনিটে। এবার কাশ্মিরি লাল মরিচ গুঁড়া, ধনে গুঁড়া ও গরম মসলা গুঁড়া মিশিয়ে নিতে হবে। কিছুক্ষণ নেড়ে এর সঙ্গে টক দই, ধনিয়া পাতা, পুদিনা পাতা পেস্ট করা মিশ্রণটি দিয়ে মাংস আরো কিছুক্ষণ কষাতে হবে। ফ্রেশ ক্রিম দিয়ে দমে রেখে চলা বন্ধ করে দিন। তৈরি বিফ মাখানি। পছন্দমতো সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
যা যা লাগবে : আলু ১ কাপ, গাজর আধা কাপ, শসা আধা কাপ, আপেল আধা কাপ, ক্যাপসিকাম অর্ধেকটি, মেয়োনেজ ১/৩ কাপ, লেবুর রস ২ চা-চামচ, চিনি ১ চা-চামচ, সাদা গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ ও লবণ স্বাদমতো।
যেভাবে তৈরি করবেন : আলু ও গাজর খোসা ছাড়িয়ে চারকোনা আকারে টুকরা করে কেটে সিদ্ধ করে নিতে হবে। শসা, আপেল ও ক্যাপসিকাম চারকোনা আকারে কেটে নিতে হবে। মেয়োনিজে লবণ, চিনি, গোলমরিচ ও লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণটি টুকরা করে রাখা সালাদের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। ইচ্ছামতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন রাশান সালাদ।

জিরা পানি
যা যা লাগবে : জিরা (টালা গুঁড়া) ১ চা চামচ, আখের গুড় ২ টেবিল চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ, পানি ১ কাপ, তেঁতুলের ক্বাথ ২ টেবিল চামচ ও লেবুর রস ২ টেবিল চামচ।
যেভাবে তৈরি করবেন : আখের গুড় ও চিনি পানিতে গুলে নিতে হবে। এবার ওই পানিতে তেঁতুলের ক্বাথ ও লেবুর রস মিশিয়ে ছেঁকে নিন। জিরার গুঁড়া মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিতে হবে ৩-৪ ঘণ্টা। ইচ্ছামতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন ঠান্ডা ঠান্ডা জিরা পানি।

গাজরের ক্ষীর
যা যা লাগবে : দুধ ১ কেজি, পোলাওয়ের চাল ১/৪ কাপ, চিনি আধা কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, গাজর ১টি ও এলাচ গুঁড়া আধা চা-চামচ।
যেভাবে তৈরি করবেন : চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রেখে দিতে হবে ৩০ মিনিট। এরপর মিহি করে বেটে বা ব্লেন্ড করে নিতে হবে। ঠান্ডা দুধের সঙ্গে চালের গুঁড়া ও চিনি মিশিয়ে নেড়ে নেড়ে জ্বাল দিন। অন্য একটি পাত্রে ঘি দিয়ে গাজর কুচি ভেজে দুধের পাত্রে দিয়ে দিতে হবে। অনবরত নাড়তে নাড়তে ঘন হয়ে এলে এলাচ গুঁড়া দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। ঠান্ডা হলে বাদাম কিশমিশ দিয়ে পরিবেশন করুন মজার স্বাদের গাজরের ক্ষীর।