নগরে নতুন
তৌহিদুল ইসলাম তুষার
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৫:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৫:৩৭ পিএম
প্রবা ফটো
পদ্মার ঠিক পাড় ঘেঁষে আধুনিক রেস্তোরাঁর সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চালু হলো ‘ইশো বিচ ক্লাব’। দেশে পপ-আপ রেস্তোরাঁর ধারণার প্রবর্তন ঘটে করোনা মহামারির ঠিক পরই। তার অনেক মাস পর বিদেশি এ কনসেপ্ট নিয়ে এসেছে ইশো। শুধু ধারণাটিই ভিনদেশি নয়, রেস্তোরাঁটির ইন্টেরিয়র থেকে খাবারদাবার সবকিছুতে মিলবে পশ্চিমা ফ্লেভার। যা-ই হোক এটা আমাদের দেশের জন্য বেশ ইতিবাচক।
নগরজীবনের ব্যস্ততার মাঝে একটু ছুটি পেলেও, এই স্বল্প সময়ে কোথাও যাওয়াটাও যেন কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে উঠেছে। তাই অনেকে ছুটির দিনগুলোয় পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটাতে রেস্তোরাঁয় ঢুঁ দেন। এক ইট-পাথরের দেয়াল থেকে আর এক জায়গায়। খুব একটা পার্থক্য মেলে না। আবার কাছের কোনো রিসোর্টে ডে আইটে গেলেও বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। এ সবকিছুর সহজ সমাধান দেবে ইশো বিচ ক্লাব। একদিকে ডে আউটও হবে, অন্যদিকে ঢাকার রেস্তোরাঁয় খাওয়ার মতোই খরচ। গত বুধবার খুব সাদামাটাভাবেই রেস্তোরাঁটির যাত্রার ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকার মাওয়া থেকে লৌহজংয়ের মৃধাবাড়ির পাশেই তৈরি হয়েছে পপ-আপ রেস্তোরাঁটি। ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে আসতে পারবেন খুব সহজেই। আর গণপরিবহন ব্যবহার করলে মাওয়া থেকেই মিলবে অটোরিকশা। মৃধাবাড়ির কথা বললে ঝামেলা ছাড়াই চলে আসতে পারবেন। একটু ভেতরের দিকে হওয়ায় অনেকটাই নিরিবিলি। আর পদ্মার পাড়ে বসে মজাদার খাবারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক এ পরিবেশ আপনাকে শতভাগ পূর্ণ তৃপ্তি দেবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাদের সঙ্গে দেশি ঘরানার মিশ্রণে তৈরি বিভিন্ন খাবার পাওয়া যাবে মেন্যুতে। যার মধ্যে থাকছে হ্যান্ডক্রাফটেড বার্গার, অ্যাপিটাইজার, গ্রিল, অ্যাসোর্টেড প্ল্যাটার্স এবং রকমারি মকটেইলস। খাবার পরিবেশনেও থাকছে রুচিশীলতার ছোঁয়া, যাতে ইশোর পণ্যের মতো এখানেও নান্দনিকতার ছাপ থাকে স্পষ্ট। রোমান্টিক ডিনার বা প্রমোদভ্রমণ, অ্যানিভার্সারি, জমকালো পার্টি, করপোরেট মিটিং, পারিবারিক কিংবা অফিসিয়াল মিলনমেলা, বিবাহপূর্ব ফটোশুট, বাগদানসহ সব ধরনের অনুষ্ঠান খুব সহজেই আয়োজন করা যাবে। এখানে আরও থাকছে নৌকাভ্রমণ, রাতে খোলা আকাশের নিচে বসে বিভিন্ন ব্যান্ড বা আর্টিস্টের লাইভ মিউজিক্যাল পারফরম্যান্স। আর থাকবে বারবিকিউ উপভোগের সঙ্গে অসাধারণ কিছু স্মৃতি তৈরির সুযোগ। ইশোর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়ানা হোসেন বলেন, ‘নাগরিক কোলাহল ফেলে একটুখানি শ্বাস দিতে ইশো বিচ ক্লাবটি ডিজাইন করা হয়েছে। মানসম্পন্ন খাবার ও সেবা প্রদান করছি আমরা। তাই সবার কাছে বিচ ক্লাবটি গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তেমনটিই আশা করছি আমরা।’ সুবিধামতো যেকোনো দিন যেতে পারেন রেস্তোরাঁটিতে। পরিবার বা অফিস গেট-টুগেদার হতে পারে নিমেষেই। তবে যাওয়ার আগে বুকিং দিয়ে গেলে ভালো। তাদের ওয়েবসাইট www.isho.com/beachclub থেকে খাবারের দাম ও বুকিং সম্পর্কে সব তথ্য পাওয়া যাবে।
আউটডোর ফার্নিচারের প্রদর্শনী
রেস্তোরাঁয় আগত অতিথিরা যেন নদীর অপার সৌন্দর্য উপভেগ করতে পারেন সেই ব্যবস্থাও রয়েছে। রেস্তোরাঁটির বাইরে রয়েছে আরামদায়ক বসবার নানা ফার্নিচার। এসব ফার্নিচার আড্ডার আমেজ যেন বাড়িয়ে দেবে দ্বিগুণ। ২০১৯ সালে আধুনিক আসবাব ও বিশ্বমানের জীবনধারার সংযোগ তৈরি করতে বাজারে আগমন ঘটে ইশো ব্র্যান্ডের। গত বছর ‘মোনজা’ নামে আউটডোর ফার্নিচার বাজারে নিয়ে আসে। এখানে সেগুলোই ভিন্ন আঙ্গিকে প্রদর্শন করছে প্রতিষ্ঠানটি। মোনজা আউটডোর কালেকশনের প্রতিটি পণ্য নজরকাড়া ও রুচিসম্মত ডিজাইনে তৈরি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সোফা, দোলনা, চেয়ার, ডে-বেড ইত্যাদি। বাড়ির বাইরে বা প্রকৃতির মাঝেও গ্রাহকদের আরামদায়ক ও স্বস্তিময় অভিজ্ঞতা প্রদানে এই নতুন পণ্যগুলো বাজারে এনেছে ইশো। এটি দেশের প্রথম ওয়াটারপ্রুফ ফেব্রিক এবং ফ্রেমে ওয়াটার-রেসিস্ট্যান্ট বার্নিশ দ্বারা প্রস্তুতকৃত কাঠের আউটডোর কালেকশন। প্রতিটি পণ্যই যথেষ্ট টেকসই ও মজবুত এবং বাড়ির ভেতরে বা বাইরে উভয় স্থানেই ব্যবহারযোগ্য।