সৌরভ শাহরিয়ার
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৪৪ পিএম
মানুষের মস্তিষ্ক থেকে অপ্রয়োজনীয় বিষয় আলাদা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় মেডিটেশন বা ধ্যান। এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে নিমগ্ন হতে এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতা নিখুঁতভাবে ব্যবহার করতে শেখায়। গবেষকদের মতে, মেডিটেশন আমাদের আইকিউর মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ২০১১ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা বলছে, আট সপ্তাহ বা তার বেশি মেডিটেশনের ফলে আমাদের মস্তিষ্কের ‘লেফট হিপ্পোক্যাম্পাস, পোস্টেরিয়র কনজুয়েলেট করটেক্স’ এবং ‘টেমপ্রো পারশিয়াল জংশন’ বৃদ্ধি লাভ করে। মেডিটেশন বা ধ্যানের মাধ্যমে যেসব সুফল পাওয়া যাবে।
একাডেমিক পড়াশোনার চাপমুক্তি
একাডেমিক পড়াশোনার এই ধকল দূর করার অনেক ভালো একটি উপায় হলো মেডিটেশন। মেডিটেশনের ফলে মানুষের মস্তিষ্কের ‘অ্যামিগডালা’ অংশের সেল ভলিউম হ্রাস পায়, যার ফলে আমাদের ভয়, উদ্বেগ ও ধকল কমে যায়। এ ছাড়া মেডিটেশন আমাদের মস্তিষ্কে আলফা ওয়েভের নিঃসরণ বাড়ায়; যা দুশ্চিন্তা, দুঃখ ও রাগের মতো অনুভূতিগুলো কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
মনোযোগ বৃদ্ধি
পড়ার টেবিলে মনোযোগ স্থির রাখা সবার জন্যই কিছুটা কঠিন। বিশেষত পরীক্ষার দিনগুলোয় একটি বিষয়ের ওপর দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখা সত্যিকার অর্থেই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। পরীক্ষার দিনগুলোয় দৈনিক কিছুক্ষণ মেডিটেশন মনোযোগ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
মেডিটেশন চিন্তাশক্তিকে একটি বিষয়ে কেন্দ্রীভূত করতে শেখাবে, যার ফলে যেকোনো একটি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাও বাড়বে এবং পড়ার সময় অন্যসব চিন্তা মস্তিষ্ক থেকে দূরে থাকবে।
খারাপ অভ্যাসগুলো ত্যাগে সহায়ক
ছাত্রজীবনের কিছু অভ্যাস আছে যেগুলো আমরা খারাপ জেনেও সহজে ত্যাগ করতে পারি না। এর কারণ যথেষ্ট ইচ্ছাশক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব; যার জন্য দায়ী মস্তিষ্কের সামনের অংশের ‘ডরসলাটেরাল প্রিফরেনটাল করটেক্স (ডিআইপিএফসি)’। মেডিটেশন ডিআইপিএফসিকে প্রভাবিত করে, যার ফলে আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায় এবং বাজে অভ্যাসগুলো সহজে ত্যাগ করতে পারি।
শারীরিক সুস্থতা
সঠিকভাবে জ্ঞানার্জন ও পরীক্ষায় ভালো ফলের অন্যতম পূর্বশর্ত শারীরিক সুস্থতা। মেডিটেশন আমাদের দেহে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোট্রিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে; যার ফলে আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।
মেডিটেশন একজন ছাত্রের বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩১% কমিয়ে দেয়। মাত্র তিন মাস নিয়মিত মেডিটেশন উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি প্রায় ৫২% কমিয়ে আনে। নিয়মিত মেডিটেশন ক্লান্তি ও অবসন্নতা দূর করেন। ফলে পুরো উদ্যমে পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজ একই তালে চালিয়ে যাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মেডিটেশন করার অভ্যাসধারীদের দেহে অ্যান্টিবডির পরিমাণ তথা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি থাকে।
হতাশাকে বিদায়, এবার আনন্দের পালা!
যুক্তরাষ্ট্রের ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীর একজন ছাত্রজীবনে কোনো না কোনো সময় ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় ভোগে। এমনকি প্রতিবছর ১ হাজারের বেশি ছাত্র শুধু বিষণ্নতার কারণেই আত্মহত্যা করে!
বিষণ্নতা কাটিয়ে ওঠার অন্যতম সেরা উপায় মেডিটেশন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলেম কেউকেনের মতে, একজন বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে মেডিটেশন অনেকটা বিষণ্নতা নিরোধক ওষুধের মতো কাজ করে। এ ছাড়া মেডিটেশন একজন ছাত্রের বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩১% কমিয়ে দেয়।