ইমরান হোসাইন
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৫:১৮ পিএম
একটি হাত নেই। তার পরও থেমে নেই মারুফের জীবন। এক হাত না থাকার পরও বেঁচে থাকার সংগ্রামে মারুফ প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন। গতিশীল বাসের চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। যাকে বলা হয় বাসের হেল্পার। সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে তার নিরন্তর লড়াই।
২৩ বছরের যুবক মারুফ হাসানের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সরাইচণ্ডী গ্রামে। বাবা আব্দুস সালাম মণ্ডল। বাব-মার সন্তানের মধ্যে মারুফ তৃতীয়। আর দশটা সাধারণ পরিবারের সন্তানের মতো মারুফ অভিভাবকের ইচ্ছায় ভর্তি হন শ্যামপুর দাখিল মাদ্রাসায়। সবকিছু চলছিল ভালোই। কিন্তু বিধিবাম! আট বছর আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারুফ হারায় তার শরীরের মূল্যবান বাঁম হাত। ঠাঁই হলো মাদ্রাসা থেকে হাসপাতালের বেডে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর সুস্থ হন। এ দুর্ঘটনা তার শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটে। বেঁচে থাকাটা হয়ে ওঠে তার জন্য বাস্তবতা।
এক হাত নিয়ে কী কাজইবা করবেন। কেউ কেউ তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে বলেন। অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকায় আত্মসম্মান নেই। সিদ্ধান্ত নিলেন জীবিকা নির্বাহের জন্য বাসচালকের সহকারী করবেন। সেখানেও বিপত্তি! অনেক বাসমালিক নিতে চাননি। অবশেষে পরিচিত এক বাসের চালককে বলেকয়ে বর্তমান পেশায় নেমেছেন।
এ দৃঢ়তাই তাকে জীবন গুছিয়ে নিতে প্রত্যয়ী করেছে। প্রতিদিন এক হাত নিয়ে জীবিকা অর্জনের পথে করেছে সাহসী। হাসপাতাল থেকে এই কঠিন পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ভিড়ের মধ্যেও এক হাতে বাসের দরোজায় দাঁড়িয়ে চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করছেন।
এভাবেই চলছে মারুফ হাসানের দিন। তবু চিন্তিত ভবিষ্যতের এই পেশায় সংসার চলবে কি না! মারুফ হাসান বলেন, ‘হেলপারি করব কখনও ভাবিনি। কপালের ফের, সেজন্যই আজ এ পেশায়। এ পেশায় সংসার চলবে না। এখনও বিয়ে করি নাই। জীবন চলছে সকাল-সন্ধ্যা সংগ্রামে। তবু হার মানব না।’
পরাজয় মানতে চান না এই অদম্য যুবক। চলন্ত বাসের দরজায় ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে দিগন্তের দিকে তাকিয়ে মারুফের চোখে ভেসে ওঠে ফেলে আসা দিন। ভাবেন, মরীচিকা নয়, জীবন হবে পরিশ্রমী। জীবন হবে সম্মানের। জীবন হবে মর্যাদার। পরাভব মানবেন না মারুফ। চোয়ালটা কাদামাটি থেকে পাথরের মতো শক্ত হয়ে ওঠে। ভাবেন, সামনে আর চলন্ত বাসের চাকার ওপরে জীবন রাখবেন না তিনি। দাঁড়াবেন নিজের পায়ে। নিজেই শুরু করবেন একটি স্বাধীন ব্যবসা।