রিয়াজুর রহমান
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২০:৪৯ পিএম
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:২২ পিএম
তুরস্ক-সিরিয়ার ভয়াবহ ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। বাংলাদেশও এই শঙ্কার বাইরে নয়। রিখটার স্কেলে ৭ বা ৮ মাত্রার ভূমিকম্প যেকোনো সময় মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রাজধানী ঢাকা রয়েছে এই তালিকার শীর্ষে। যে ভূতাত্ত্বিক গঠন ও অবস্থানের কারণে বড় ভূমিকম্প হয়ে থাকে, বাংলাদেশে সে রকম ১৪টি ফল্ট রয়েছে। এসব ফল্ট থেকে যেকোনো সময় ভয়াবহ ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন।
আকাশে মেঘ বা অতিবৃষ্টি দেখে আপনি বজ্রপাত বা বন্যার পূর্বাভাস জানতে পারবেন। সতর্ক হলে ক্ষয়ক্ষতি থেকে অনেকাংশে মুক্তও হয়তো হতে পারবেন। কিন্তু ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই আলাদা। কখন ভূমিকম্প হবে তা জানার প্রযুক্তি এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। উপরন্তু, অপরিকল্পিত নগরায়ণ আমাদের আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
তুরস্কের মতো ঢাকায় যদি রিখটার স্কেলে ৭ বা ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, সেক্ষেত্রে যা ঘটতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন—
১. রাস্তাঘাট ধসে তার ওপর লাইটপোস্ট পড়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ, ভবনের কাচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে নিচে পড়া এবং পথের ধারের বিলবোর্ড ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে রাস্তায় থাকা যানবাহনও জ্যামে আটকা পড়বে।
২. বিদ্যুৎ ও ফোন সংযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। মোবাইল ফোনের টাওয়ার ধসে পড়ে বা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মোবাইল সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
৩. মাটির নিচে দিয়ে যাওয়া গ্যাস ও পানির লাইন ফেটে ওপরে উঠে এসে তাতে বিদ্যুতের কেবল পড়ে আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
৪. আগুন নেভানোর পানির সংকট দেখা দেবে। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে পারবে না।
ভূমিকম্পের সময় যা করতে হবে—
১. গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দিন এবং ভবনের মেইন গ্যাস লাইন বন্ধ করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
২. অবস্থা বুঝে বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ
করতে হবে। লিফট থাকলে তার সুইচও বন্ধ
করে দিন।
৩. ঘর থেকে বেরোনোর সময় অবশ্যই মাথায় বালিশ নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে হবে। কোনো অবস্থাতেই লিফট ব্যবহার করা যাবে না।
৪. ঘর থেকে বের হওয়া না গেলে, ইটের তৈরি পাকা ঘর হলে ঘরের কোণে এবং কলাম ও বিমের তৈরি ভবন হলে কলামের গোড়ায় আশ্রয় নিন। আধাপাকা বা টিন দিয়ে তৈরি ঘর থেকে বের হতে না পারলে শক্ত খাট বা চৌকির নিচে আশ্রয় নিন।
সতর্কতা ও সচেতনতা
১. ভূমিকম্প সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিন।
২. ঝুঁকি ও করণীয় সম্পর্কে অবহিত থাকতে হবে।
৩. ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি থাকতে হবে।
৪. এলাকাভিত্তিক প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল গড়ে তুলতে হবে।
৫. বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সভা, সেমিনার এবং গণমাধ্যমের সাহায্যে জনগণের সচেতনতা বাড়াতে হবে।
৬. স্কুল, হাসপাতাল ও দমকলের মতো অত্যাবশ্যকীয় প্রতিষ্ঠানের গঠন সুচারুভাবে করা উচিত।
৭. বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ আইন অনুযায়ী তৈরি করলে দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব।