আসমাউল হুসনা
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৪:৪১ পিএম
কামরুন নাহার কলি
আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠা কামরুন নাহার কলি ২০১৭ সালে আত্মপ্রকাশ করেন একজন শুটার হিসেবে। সম্প্রতি জাকার্তায় অনুষ্ঠিত শুটিং বিশ্বকাপে ৬২৮.৪ স্কোর অর্জন করে মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল শুটিংয়ে সেরা আটে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পদক জয় করতে না পারলেও ফাইনালে উঠেই ইতিহাস গড়েছেন কলি। ২০১৮ সালে আন্তঃক্লাব প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয় করে নিজের অস্তিত্ব জানান দেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপেও স্বর্ণপদক জয় করেন কলি। তার স্বপ্ন এখন ২০২৪ সালে ফ্রান্স অলিম্পিকে পদক জয়ের।
শুটিংয়ের প্রতি কেন এত ভালোবাসা জানতে চাইলে কামরুন নাহার কলি বলেন, ‘খেলাধুলা নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না কখনও। নিজে কখনও খেলোয়াড় হব সেটাও ভাবিনি। এমনকি পরিবার পরিচিতদের মধ্যে কেউই খেলার সঙ্গে যুক্ত নন। নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সামনে দিয়ে নিয়মিত যাওয়া-আসা ছিল আমার। সেই থেকেই মনে একরকম কৌতূহল জেগে উঠেছিল। কি হয় এই ক্লাবে। তখন অ্যাকশন মুভির বেশ কয়েকটি সিন মনে পড়ত। অনেকটা মনের কৌতূহল মেটাতেই ২০১৭ সালে ক্লাবের মধ্যে প্রবেশ করা। এরপর সেই বছরের এপ্রিলে ভর্তি হলাম। তখনও শুটিং সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না আমার। তবে হ্যা, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল নিজের চাওয়াগুলো নিজেই পূরণ করব। অনেক নামিদামিদের কাতারে নিজেকে দেখার স্বপ্নটা বরাবরেরই।’
২০২২ সালে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাকে রাইফেল ইভেন্টে একের পর এক রেকর্ড তৈরি করতে থাকেন তিনি। কামরুন নাহার কলি তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এর মধ্যে দুটি অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ কোরিয়ায় এবং একটি মিশরে। মিশর প্রতিযোগিতায় ৬২৯.২ স্কোর করে বাংলাদেশের সেরা স্কোরার শুটার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। এই চ্যাম্পিয়নশিপে ১৩৪ জন শুটারের মধ্যে তিনি হন ১৪তম। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল উইমেন ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ে কলির বর্তমান অবস্থান নবম।
মাত্র সাত মাসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি হয়ে উঠেছেন দেশ ও জাতির গর্ব। তার এই সাফল্যের পিছনে তার পরিবার ও কোচের অবদান কম নয়। কলি জানান, তার এই স্বপ্ন জয়ের পথে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন তার নানা-নানি ও বাবা-মা। ইরানি কোচ জায়ের রেজাইও শিখিয়েছেন অনেক কিছু। নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের হাত ধরে পথচলা শুরু হলেও বর্তমানে তিনি খেলছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে। মাঝে ক্লাব প্রত্যয়নপত্র জটিলতার কারণে ২০২০ এবং ২০২১ সালে নিতে হয়েছিল দুই বছরের কর্মবিরতি। সে সময় কামরুন নাহার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পূর্ণ সহযোগিতায় আবারও ফিরে আসেন শুটিংয়ে।
বর্তমানে শুটিংয়ের পাশাপাশি রাজধানীর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন কামরুন নাহার কলি। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান তিনি। শুটিং ক্যারিয়ারে তার আদর্শ হাঙ্গেরিয়ার আর্মির ক্যারোলি টাক্যাকস, যিনি ছিলেন একজন দেশ সেরা পিস্তল শুটার। আর্মি ট্রেনিংয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় এক হাত হারানো ক্যারোলি ৩৮ বছর বয়সে একহাতে শুট করে স্বর্ণপদক জয় করে নিয়েছিলেন অলিম্পিকে।
কারোলি টাক্যাকসের মতো অদম্য সাহস নিয়ে কামরুন নাহার কলিও নিজের স্বপ্ন জয় করবে এটাই কাম্য।