অন্যকথা
ইসমত শিল্পী
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:২৯ পিএম
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৩৭ পিএম
বিপরীত লিঙ্গের দুটি মানুষের সম্পর্কে জড়িত হওয়ার ঘটনা থেকে দেখা যায় ঘটছে হত্যা বা আত্মহত্যার ঘটনা। যা থেকে সৃষ্টি হচ্ছে সমাজ তথা পরিবার ও রাষ্ট্রে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা।
যেকোনো সম্পর্কে একে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা থাকে। অপরকে বিশ্বাস করে বা ভালোবেসে অথবা তার ওপরে নির্ভর করার মাঝে এক ধরনের তৃপ্তি আছে। সেটা যতক্ষণ ভালোবাসা থাকে, ততক্ষণ। নির্ভরতা শুধুমাত্র অর্থ বা বৈষয়িক নয়, নির্ভরশীলতা আবেগীয় হয়, বন্ধুত্বের হয়, প্রেমের হয়। সম্পর্কেরও তেমনি রয়েছে বিভিন্ন প্রকার।
এটা তো ভুল নয়, কোনো ব্যক্তি কোনো কিছু বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকে বলেই আরেকজনকে বিশ্বাস করে। আর এসব কারণেই কখনও কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়। কিন্তু যখন একজন আরেকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে এবং ওই সম্পর্ককে ভিত্তিহীন বলে প্রচার করে, একপক্ষীয় বলে চালাতে চায়; আর সব দোষ গিয়ে পড়ে ভুক্তভোগীর ওপর। ভুক্তভোগী অপরাধী না হলেও সব দোষ তখন তার।
এ রকম হাজারো ঘটনা আছে, যেখানে শেষ পর্যন্ত নারীর ওপরেই দোষ চাপানো হয়। এটি একটা সামাজিক ব্যাধি বলা যায়; কুৎসিত দৃষ্টিভঙ্গি। আর অর্থ দিয়ে হাজার হাজার অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার উদাহরণের ঘটনা আমরা সবাই জানি।
এ কথা ভুলে গেলে চলবে না, পুরুষতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে নারীরাও কম দায়ী নয়। এই তত্ত্বকে জাগিয়ে দিতে নারী-পুরুষ উভয়ই ভূমিকা রাখছে। আর তখনই একজন নারী মানুষ হিসেবে অধিকার হারায় এবং অজস্র দোষে অলংকৃত হয়। যেখানে নারীর চাওয়া-পাওয়ার হিসাব খুবই নগণ্য, সেখানেও দিতে হচ্ছে প্রাণ। হারাতে হচ্ছে সম্ভ্রম। যেমন- ভূত ছাড়াবার জন্য ওঝা কর্তৃক আসরগ্রস্ত (রোগগ্রস্ত) নারীকে ঝাড়ু মারা বা ঝাড়ু দিয়া পিটানো অপরাধ। [দণ্ডবিধি ৪০ ধারা]
মূল কথা, অভিপ্রায়ই হলো অপরাধ সংঘটনের মৌলিক উপাদান। তাই কোনো ব্যক্তির অপরাধ সংঘটনের মধ্যে যদি কোনো অভিপ্রায় থেকে থাকে তাহলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। উদ্দেশ্য, অভিপ্রায়, প্রতারণা, অবহেলা ইত্যাদি বিদ্যমান থাকলে তা অবশ্যই আইনগতভাবে অপরাধ। সার্বিক চিত্র অনুধাবন করলে পরিষ্কার বোঝা যায়, আসল দোষী কে? অপরাধী কে? আর হ্যাঁ, ভুল, অন্যায় বা অপরাধ এগুলোর পার্থক্যও আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে। ভুল করা অপরাধ নয়। হত্যা করা অপরাধ। আইনগতভাবে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করাও অপরাধ।
এটা শুধু অন্যয় নয়, তাই কথা বলাবলি করে অপরাধ ঢাকার চক্রান্ত না করে অপরাধীর কঠোর শাস্তি প্রদানই একমাত্র সঠিক বিচার। অপরাধ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে শাস্তির পথটিও অপেক্ষাকৃত সুষ্ঠুভাবে হয়।