নাজমুল হুদা
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:৪১ পিএম
অলংকরণ : জয়ন্ত সরকার জন
শিশুরা টিভি দেখতে, গেম খেলতে, ফোন কল করতে এবং মেসেজ পাঠাতে এখন সেলফোন ব্যবহার করে। অনেক শিশু এবং কিশোর-কিশোরীর নিজস্ব সেলফোন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে যে, আসলেই কি স্মার্টফোন শিশুদের স্মার্ট করে তুলছে? পাঠ্যবই আত্মস্থ করা, চিন্তা-ভাবনায় আধুনিক হয়ে ওঠার জন্য কিংবা নিতান্ত খেলাচ্ছলে আমাদের সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেব? বিশ্বজোড়া পাঠশালা রেখে ছয় ইঞ্চি পর্দায় তাদের দৃষ্টি-চিন্তার জগৎ সীমাবদ্ধ করে ফেলব? শিশুদের এই ধরনের মোবাইল ব্যবহারের ঝুঁকি আছে, সেটা সবারই জানা। কম বয়সে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তাই শিশুদের সেল ফোন ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক কি না তা জানাও গুরুত্বপূর্ণ। এ নিয়ে বিজ্ঞান কী বলে, জেনে নেওয়া যাক।
শিশুদের মন ও দেহ চারপাশের পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত, সেলফোনের বিকিরণ তাদের অনন্যভাবে দুর্বল করে তোলে। যেহেতু সেলফোন এক ধরনের বিকিরণ নির্গত করে, যা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি-ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নামে পরিচিত, এটি মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ নামেও পরিচিত। গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষের মস্তিষ্ক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণের প্রতি সংবেদনশীল। মোবাইল ফোন প্রাথমিকভাবে সকল প্রকার যোগাযোগের জন্য ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের ওপর কাজ করে, এমনকি অভ্যন্তরীণ এবং মস্তিষ্কের নিজস্ব বৈদ্যুতিক আবেগ রয়েছে, যেখানে নিউরাল নেটওয়ার্কে যোগাযোগ করা হয়, এটি সম্ভবত মস্তিষ্ক প্রভাবিত করতে পারে। তাদের ব্যবহার এতটাই ব্যাপক হয়ে উঠেছে যে, যাকে ‘নোমোফোবিয়া’ বা ‘মোবাইল ডিভাইস মানুষের সঙ্গে সংযুক্তি হারানোর ভয়’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এভাবে এটি ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক জগৎকে এড়িয়ে তার চিন্তা ও কল্পনাশক্তিকে স্মার্টফোনের রঙিন পর্দার গতিতে আটকে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মানসিক বৈকল্য দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, স্মার্টফোন আসক্তির ফলে শিশুরা মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শারীরিকভাবেও মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। শিশুর সহজাত সামাজিক গুণাবলির বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়, ধৈর্য ও মনোযোগ কমে যায়। ধীরে ধীরে অসহিষ্ণু, অসামাজিক ও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়তে পারে। স্মার্টফোনের পর্দার দিকে বেশি সময় ধরে তাকিয়ে থাকার ফলে শিশুদের চোখে নানা প্রকার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শিশুরা বেশিরভাগ সময়ই বসে বা শুয়ে স্মার্টফোন বা ট্যাব ব্যবহার করে। এসব শিশু ঘরের বাইরে শারীরিক কসরতপূর্ণ খেলাধুলার প্রতি তেমন আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। অতিরিক্ত বসে বা শুয়ে থাকার ফলে অল্প বয়সেই তাদের দেহের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। যেসব শিশু অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার করে, তাদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কিত বিভিন্ন জটিলতা যেমনÑ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি হয়। তাই, স্মার্ট ফোন নয়, আপনার সন্তানকে নিজে সময় দিন এবং খেলাধুলার ব্যবস্থা করে দিন।