× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গরুর কাছি ছেঁড়া উৎসব

শওকত আলী রতন

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:৫৭ এএম

গরুর কাছি ছেঁড়া উৎসব

আবহমানকাল থেকে আমাদের দেশে অঞ্চলভেদে নানা ধরনের উৎসব হয়ে আসছে। কালের পরিক্রমায় এ উৎসবগুলো ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। সমৃদ্ধ করে চলেছে আমাদের সংস্কৃতিকে। আমাদের দেশে গৃহপালিত পশু গরু দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা হয়ে আসছে।  এর মধ্যে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের বিলপল্লী এলাকায় গরুর কাছি ছেঁড়া প্রতিযোগিতাটিও একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসবে রূপ নিয়েছে। প্রতিবছর মাঘ মাসের ১ তারিখে (সাকরাইনে) বিলপল্লী সবুজ সংঘের উদ্যোগে এ উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রায় ২৫০ বছর আগে নবাবগঞ্জ উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার প্রচলন শুরু হলেও, ১৯৮১ সাল থেকে বিলপল্লী সবুজ সংঘ ক্লাবের আয়োজনে হয়ে থাকে গরুর কাছি ছেঁড়া উৎসব। ১৫ জানুয়ারি, ১ মাঘ, রবিবার ক্লাবের মাঠে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন উৎসুক জনতা। পড়ন্ত বিকালে হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে উপভোগ্য হয়ে ওঠে এ প্রতিযোগিতা। বিকাল ৩টার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য গরু আসতে থাকে ক্লাবের মাঠে। বিশাল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে উৎসুক জনতার ভিড়ে। নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও লোকজন আসে দোহার, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর, সিংগাইর উপজেলা থেকে। এ উপলক্ষে মাঠের চারপাশে বসে গ্রামীণ মেলা। মেলায় বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার ও শিশুদের খেলনার পসরা সাজিয়ে থাকেন দোকানিরা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের শৌখিন লোকজন কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বিকিকিনিতেও ধুম পড়ে এদিন। তবে গরুর কাছি ছেঁড়ার মূল প্রতিযোগিতা শুরু হয় বিকাল ৪টার দিকে। এবারের আয়োজন ছোট-বড় মিলিয়ে ১০টি গরু আসে বিভিন্ন এলাকা থেকে। এদের অধিকাংশ গরু ছিল বড় আকৃতির। গরুকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য গলায় মালা এবং গায়ে রঙ মাখিয়ে নিয়ে আসে। 

কাছি ছেঁড়া প্রতিযোগিতা শুরু থেকে একই নিয়মে চলে আসছে এখানে। মাঠের মাঝখানে একটি শক্ত খুঁটি গাঁড়া হয়। খুঁটির সঙ্গে গরুর গলার দুই প্রান্তে কাছি দিয়ে ভালোভাবে বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর আয়োজক ও গরুর মালিকপক্ষের লোকজন আতশবাজি ও ঢোল-তবলা বাজিয়ে গরুকে উত্তেজিত করতে পিছন থেকে হৈচৈ করে ধাওয়া দিলে গরু দৌড় দিয়ে গলার কাছি ছিঁড়ে ফেলে। যে গরু যত মোটা কাছি ছিঁড়তে পারবে, সেই গরুর মালিককে সম্মানিত করা হয়। আর যদি কোনো গরু কাছি ছিঁড়তে না পারে, সেই গরু প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে। দোহার উপজেলার দোহার খালপাড়া থেকে প্রতিযোগিতা দেখতে আসা রনি ইসলাম জানান, এ উৎসব ছোট-বড় সবার কাছেই একটি পছন্দনীয় উৎসব। আমি ২০ কিলোমিটার দূর থেকে বিলপল্লীর মাঠে কাছি ছেঁড়া উৎসব দেখতে এসেছি। পরে এলে মাঠে জায়গা পাওয়া যায় না বলে একটু আগেই আসতে হয়। গরু যখন কাছি ছিঁড়ে দৌড় দেয়, তখন নিরাপদ জায়গায় না দাঁড়ালে বিপদ হতে পারে। এ জন্য এদিক থেকেও সতর্ক থাকতে হয় দর্শনার্থীদের। 

বিলপল্লী সবুজ সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজ সিকদার জানান, ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা ক্লাবের আয়োজনে প্রতিবছর এ আয়োজন করে থাকি।

নয়নশ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পলাশ চৌধুরী জানান, গরুর কাছি ছেঁড়া উৎসবকে কেন্দ্র করে আত্মীয়স্বজনরা বেড়াতে আসেন। 

এ উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে চলে শীতকালের নানারকমের পিঠা-পায়েসের আয়োজন। নৌকাবাইচ ঐতিহ্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা জানান, আমাদের দেশে প্রবহমান কাল থেকে যেসব সংস্কৃতি চালু রয়েছে, এর মধ্যে গরুর কাছি ছেঁড়া উৎসব অন্যতম। এ উৎসবকে ধরে রাখতে হলে ক্লাবগুলোর পাশপাশি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। যেমনÑ যেসব গরুর মালিক অনেক দূর থেকে প্রতিযোগিতার জন্য গরু নিয়ে আসেন, তাদের কিছু পারিশ্রমিক দিতে পারলে তারা উপকৃত হবেন এবং পরের বছর আগ্রহসহকারে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন তারা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা