সুবাইতা প্রিয়তি
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:২০ পিএম
এক বন্ধুকে ‘বাতিঘর’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। উচ্ছ্বসিত হয়ে সে বলেছিল, ‘হ্যাঁ, ওখানে কফি পান করতে করতে আরামে বই পড়া যায়। ক্লান্তি দূর করতে ছাদে গিয়ে আড্ডা দেওয়া যায়।’ ঢাকার বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অবস্থিত বাতিঘর বই পড়ুয়া ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষের কাছে এমনই এক জায়গায় পরিণত হয়েছে।
বাতিঘর আসলে কী? সমুদ্রে নাবিকদের পথ দেখাতে সাহায্যের জন্য যে টাওয়ার থেকে বিশেষ আলো জ্বালানো হয়, তাকেই বাতিঘর বলে। ২০০৫ সালে মঙ্গলপ্রদীপের টিমটিমে আলোয় চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা করা এ আলোকবিহারটির ছয়টি আউটলেট রয়েছে বৃহৎ পরিসরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহরে। রাজধানীতে তিনটি এবং সিলেট ও চট্টগ্রামে একটি করে। আর রাজশাহীর আউটলেট উদ্বোধনের অপেক্ষায়।
বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা দীপঙ্কর দাশের এ প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্নকে প্রথমে অনেকেই খ্যাপাটে হিসেবে ধরে নিয়েছিল। বাতিঘর এখন শহরের বইপ্রেমীদের কাছে দিশারির মতো। চিরাচরিত বইয়ের দোকান ভাবলেই যেমন মনে হয়, দুই দণ্ড মনোযোগ দিয়ে নিরিবিলি পড়ার সুযোগ নেই, কেনার তাড়া, দরদাম ইত্যাদি। কিন্তু এখানকার দৃশ্য সম্পূর্ণ বিপরীত। বই পড়াও যায়, কেনাও যায়। ঘরে বসে অনলাইনে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে বা ফেসবুক পেজে গিয়েও তাদের সংগ্রহশালা থেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লেখক-প্রকাশকের বই কেনা যায় সহজে।
লেখক-পাঠকদের মিলনকেন্দ্র হিসেবেও বাতিঘর সমাদৃত। বুকশপের আলাদা কর্নারগুলো পাঠককে আগ্রহী করে তোলে। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে আলাদা কর্নার। এ ছাড়া আছে প্রকাশক কর্নার। দেশি প্রকাশনী সংস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের নির্বাচিত বই দিয়ে সাজানো হয়েছে কর্নারটি। আছে লিটলম্যাগ ও সাময়িকী কর্নার, যেখানে দেশ-বিদেশের নানা ম্যাগাজিন ও সাহিত্য সাময়িকীর বড় সংগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া আছে নির্বাচিত লেখক কর্নার ও ক্যাফে কর্নার। বাতিঘরের সংগ্রহশালায় ১ লাখ বা তার বেশি বই রয়েছে।
জেলা পর্যায়ে ওইসব স্থানের বিশেষ ঐতিহ্যকে মোটিফ ধরে বাতিঘরের আউটলেটগুলোর থিম নির্বাচন করা হয়েছে। সিলেটের বাতিঘরে প্রবেশ করে ভেতরে চা-পাতার সবুজ, সুরমা নদীর ক্বীন ব্রিজ, চা-পাতা সংগ্রহের ঝুড়ি ইত্যাদির নকশা চোখে পড়বে। ঢাকার বাংলামোটরের আউটলেটটি সাজাতে অনুসরণ করা হয়েছে মুঘল স্থাপত্যরীতি। চট্টগ্রামের বাতিঘরে মিলবে জাহাজের অন্দরমহলে প্রবেশের অনুভূতি। তিনটিরই নকশাকার শাহীনূর রহমান।
গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, তথ্যপ্রযুক্তি, রান্না, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, অধ্যাত্ম-ধর্ম, খেলা, লৌকিক-অলৌকিক, প্রকৃতি, শিক্ষার প্রধান ক্ষেত্রসহ কোন বিষয়ের বই নেই এখানে! বাতিঘরের নিজস্ব প্রকাশনা সংস্থা থেকেও প্রকাশিত হয়েছে অনেক বই।
প্রতিষ্ঠানটির সিইও জাফর আহমেদ রাশেদের কাছে বাতিঘর সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ‘বাতিঘরের মূলত দুটি অংশÑ একটি প্রকাশনা সংস্থা, অন্যটি বিক্রয় কেন্দ্র। দেশি লেখকদের বই প্রকাশের পাশাপাশি মানসম্পন্ন বিদেশি বইয়ের অনুবাদও প্রকাশিত হয়। তিনি বাতিঘরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে বলেন, প্রথমে বিভাগ ও পরে প্রধান জেলা শহরে বাতিঘরের বুক স্টল স্থাপন করা হবে। এভাবে দেশের ৬৪ জেলায় বাতিঘরের আউটলেট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’