ভেটেরিনারি অলিম্পিয়াড
তানভীর তানিম
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৩:১৪ পিএম
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘সুপারবাগস’
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ভেটেরিনারি অলিম্পিয়াড-২০২২। যেখানে দেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ১২টি দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘সুপারবাগস’। এ ছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্সআপ হয় যথাক্রমে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘ফ্রগ’স ৫.০’ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘বাউ হান্টার্স’।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ভেটেরিনারি ডিন কাউন্সিল এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) যৌথভাবে অলিম্পিয়াডটি আয়োজন করে; যা দুটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্যায়ে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেন্যুতে প্রতিযোগিতা হয়। এভাবে প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি করে মোট ১২টি দল চূড়ান্ত বা ফাইনাল রাউন্ডে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পায়। আর চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রতিযোগীদের দলের প্রেজেন্টেশন, পরে ধাপে ধাপে কুইজ, নৈর্ব্যক্তিক, নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর পরীক্ষা, রোগের কেস স্টাডি, পোস্টার তৈরি ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন, আইডেন্টিফিকেশন, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতির বিভিন্ন কাজ এবং সবশেষ ক্লিনিক্যাল অনুশীলনের ওপর বিভিন্ন উপায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়।
এসব ধাপ উতরে প্রথম স্থান অধিকার করে সুপারবাগস। সুপারবাগসের সদস্য হলেন- শেকৃবির অ্যানিমেল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি অনুষদের লেভেল-৫ থেকে টিম লিডার মুহতাদী মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, লেভেল-৪ থেকে মুজাহিদুল ইসলাম তুষার, লেভেল-৩ থেকে ফরহাদ হোসেন সাগর, লেভেল-২ থেকে সোনিয়া হাসনাত জাহান ও লেভেল-১ থেকে সুশীলা পাল।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতি প্রসঙ্গে সুপারবাগসের দলনেতা মুহতাদী মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ বলেন, FAO, NVDC ও USAID-এর সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অলিম্পিয়াড ছিল আমাদের সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি অনন্য যাত্রা। সারা দেশের ১৬৬টি দলের কঠোর প্রতিযোগিতার এ যাত্রায় একটি নতুন ফ্যাকাল্টি হিসেবে আমাদের শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টিম সুপারবাগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এটি আমাদের জন্য সত্যি একটি অবিস্মরণীয় অর্জন। এ মুহূর্তটি আমাদের জন্য উচ্ছ্বাস ও গৌরবের আর আমার অনুজদের জন্য অনুপ্রেরণার। আমি কৃতজ্ঞ আমার টিমমেট তুষার, সাগর, সোনিয়া ও সুশীলার প্রতি যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই মূলত এ অর্জন। পাশাপাশি যাদের কথা না বললেই নয়, আমার সম্মানিত শিক্ষকগণ। যারা এ পুরো প্রতিযোগিতায় আমাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
অন্যদিকে সহদলনেতা মুজাহিদুল ইসলাম তুষার বলেন, সারা বাংলাদেশে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে ধরতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত এবং গর্বিত। আমাদের টিম সুপারবাগসের অলিম্পিয়াডের এ যাত্রাটা এতটা সহজ না হলেও বাছাই থেকে চূড়ান্ত পর্ব পর্যন্ত অসাধারণ ছিল। যেহেতু বাংলাদেশে প্রথম এ রকম কোনো একটি প্রতিযোগিতা, তাই প্রতিটি ধাপে নতুন কিছু শিখেছি। বিশেষ করে ফাইনাল রাউন্ডের প্রতিটি ধাপ রহস্যময় অথবা বলতে গেলে থ্রিলার মুভির মতো ছিল, কোনো কিছু আগে থেকে অনুমান করা কঠিন ছিল এবং ফাইনাল প্রতিযোগিতায় অনেক ধাপ আমাদের অতিক্রম করতে হয়েছে। কিন্তু আমার টিম মেম্বারদের প্রচেষ্টা, পরিশ্রম আর আল্লাহর রহমতে আমরা ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পেরেছি।