প্রচ্ছদ
তৌহিদুল ইসলাম তুষার
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:৩১ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:১৯ পিএম
মডেল : স্নিগ্ধা, জেবা ও ইমরান; মেকআপ : রেড বিউটি সেলুন অ্যান্ড স্পা পোশাক : টুয়েলভ ক্লোদিং; ছবি : ফারহান ফয়সাল
কখনও কনকনে শীত, আবার মিষ্টি রোদের উঁকি। প্রকৃতির এই খেলায় পোশাকে মেলে বাহার। শীত ফ্যাশনে তাই জ্যাকেটের প্রবেশ।
হাল ফ্যাশনের অন্যতম সঙ্গী এখন জ্যাকেট। কখনও হিম আবার কখনও হালকা শীত। প্রকৃতির পালা-বদলের সঙ্গে সঙ্গে জ্যাকেটেও আসে পরিবর্তন। শীত যাই হোক না কেন, যেকোনো পোশাকে জ্যাকেট একদম ঠিকঠাক। সব পোশাকের সঙ্গে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পরতে পারেন জ্যাকেট। ভাটা পড়বে না নিজের ফ্যাশনেও। অনেকে আবার শার্টের সঙ্গে মিলিয়ে পরেন প্যান্ট ও জুতা। এমনকি অ্যাক্সেরসরিজ ব্যবহারে থাকেন সতর্ক। তাহলে হাতেগোনা কয়েকটি জ্যাকেটে কি শীত পার করা সম্ভব! হ্যাঁ, সম্ভব। আপনার ফ্যাশনের বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। তাই তো এ দেশে সোয়েটারের জায়গা পুরোপুরিভাবে দখল করে নিয়েছে পশ্চিমা ধাঁচের জ্যাকেট। বিশ্বায়নের যুগে পশ্চিমা ফ্যাশন তো আসবেই। সুখের বিষয় হলো, এসব ফ্যাশন দখল নিয়েছে আমাদের পোশাকশিল্প। সোয়েটারের মতো জ্যাকেটও আমাদের দেশীয় পণ্য। আপনার আলমারিতে রাখা কয়েকটি জ্যাকেটে এখন পুরো শীত পার করা সম্ভব। তার অন্যতম কারণ এর ডিজাইন এবং রঙের ব্যবহার। জ্যাকেটগুলোতে যুক্ত হয়েছে নানা ফাংশন। তাই শুধুমাত্র জ্যাকেট পরার ভিন্নতার কারণে আলাদা হয়ে যাবে আপনার স্টাইল। কাজ ও ব্যবহারের দিক থেকে ভাগ করা হয়েছে জ্যাকেট। যেমন—বাইকারদের জন্য রয়েছে পেডিং জ্যাকেট, উইন্ডব্রেকার জ্যাকেট, রিভাসসেবল জ্যাকেট, বোম্বার জ্যাকেট, কুইলটিন জ্যাকেট, পাফার, ব্লেজারসহ বেশকিছু জ্যাকেট এই শীতে হয়েছে ট্রেন্ডি। জ্যাকেটগুলোও বেশ আরামদায়ক। সেই সঙ্গে আপনার ফ্যাশনে পারফেক্ট। জ্যাকেটে রঙের ব্যবহার সম্পর্কে টুয়েলভ ক্লোদিংয়ের ডিজাইনার সুমন সূত্রধর বলেন, শীতে সব সময় গাঢ় রঙকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। জ্যাকেটের ক্ষেত্রে তার মাত্রাটা একটু বেশি। এখানে ৭০ শতাংশ জ্যাকেটই গাঢ় রঙ করা হয়। আর ৩০ শতাংশ থাকে হালকা-উজ্জ্বল রঙ। যার মধ্যে রয়েছে লাল, কমলা, গ্রে এবং নীল। গাঢ় রঙের মধ্যে থাকছে কালো, নেভিব্লু, ডার্ক গ্রিন বা ফরেস্ট গ্রিন, মেরুন, ব্রাউন। এর অন্যতম কারণ যেকোনো পোশাকের সঙ্গে যেন এটি মানিয়ে যায়। ঠিক তাই হয়। দেখবেন আপনার আলমারির মোটামুটি সব পোশাকের সঙ্গে এই দুই থেকে তিনটি জ্যাকেটই ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পরছেন।

পেডিং জ্যাকেট : বাইকারদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে এই জ্যাকেট। একদিকে ঠান্ডা, অন্যদিকে বাতাস। দুটিই মোকাবিলা যেন করা যায়। বিষয়টি মাথায় রেখে এই জ্যাকেটগুলো তৈরি হয়েছে। একদিকে এগুলো উইন্ডপ্রুফ, অন্যদিকে শরীরকে রাখবে গরম। প্রথম দিকে এক রঙা তৈরি করা হলেও। এখন রঙ ও ডিজাইনে এসেছে পরিবর্তন।
উইন্ডব্রেকার জ্যাকেট : পেডিং জ্যাকেটের মতো মনে হলেও বাইকারদের জন্য এটি পারফেক্ট না। উইন্ডব্রেকার জ্যাকেট যেকোনো টি-শার্টের সঙ্গে মানিয়ে যাবে। রঙ ও ডিজাইনের কারণে বেশ কদর রয়েছে এই জ্যাকেটের। হুডি এবং শার্ট-কার্ট এই জ্যাকেটে বেশি দেখা যায়। বাইকাররা না পরতে পারলেও সাইকেলপ্রেমীরা শীতে নিত্যদিনের পোশাক বানিয়ে ফেলতে পারেন নিমিষেই।
রিভাসসেবল জ্যাকেট : রিভাসসেবল জ্যাকেট এখন ফ্যাশনে ইন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে জ্যাকেটটি। সহজভাবে বলা যায়, একের ভেতর দুই। মানে জ্যাকেটের দুটি পাশই আপনি অনায়েসে পরতে পারবেন। ফলে দুটি জ্যাকেটই চারটার কাজ দেবে। তবে টুয়েলভের জ্যাকেটগুলো একটু আলাদা। দুই পাশে দুটি রঙের করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। জ্যাকেটের ডিজাইনে এনেছে ভিন্নতা। জ্যাকেটের একটি পাশ সলিড রঙের ব্যবহার করেছে; অন্যদিকটা সম্পূর্ণ আলাদা। ফুলের নকশা বা রঙিন করে তুলেছে। মেয়েদের জ্যাকেটগুলোতে এক পাশ সলিড রঙ এবং অন্য পাশ ফুলের নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর ছেলেদের গুলোতে অন্য পাশে ফুলের নকশার বদলে দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল প্রিন্ট।

ট্রাকস্যুট জ্যাকেট : সকাল বেলা জগিং বা ব্যায়ামের জন্যই তৈরি এই জ্যাকেট। এর অন্যতম গুণ শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখে। ফলে জগিং বা ব্যায়াম করলেও খুব বেশি ঘাম হবে না। তা ছাড়া শীত একটু কম হলে এই জ্যাকেটগুলো সবার জন্য পারফেক্ট। এই জ্যাকেটে বাতাস চলাচল করতে পারে।
বোম্বার জ্যাকেট : জনপ্রিয় জ্যাকেটগুলোর মধ্যে অন্যতম বোম্বার জ্যাকেট। আমরা রেগুলার যে জ্যাকেটগুলো পরি, সেগুলোই বোম্বার জ্যাকেট। ওপরে পলেস্টার টাইপের কাপড় আর ভেতরে আরামদায়ক মসৃণ ফেব্রিকের সমন্বয়ে জ্যাকেটগুলো তৈরি। সবচেয়ে বেশি ডিজাইন এবং রঙের ব্যবহার এই পোশাকটিতেই। জ্যাকেটগুলো সাধারণত হাতা এবং কোমরে মোটা ইলাস্টিক ব্যবহার করে। বর্তমান সময়ে এই জ্যাকেটের প্যাটার্নে এসেছে বেশ পরিবর্তন। কিছু জ্যাকেট রয়েছে শর্টকাট মোটিভ। আবার কোনোটা গলা অবধি জিপার লক। ফলে ঠান্ডাতে আলাদা মাফলার ব্যবহারের দরকার পড়বে না। জ্যাকেটে নানা রঙের প্রকাশ লক্ষণীয়। এ ছাড়াও থাকছে ফ্লোরাল প্রিন্ট ও জ্যামিতিক শেড।
ভিসটেক জ্যাকেট : সহজ ভাষায় বললে হাতাকাটা জ্যাকেট। যেকোনো ফুলহাতা শার্টের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায়। এ ছাড়া অনেকে একটু বেশি ঠান্ডা পড়লে হুডির সঙ্গে পরে। সাধারণত এক রঙা হয় এসব জ্যাকেট। তবে প্রাধান্য পায় গাঢ় রঙ। হালকা বা গাঢ় যেকোনো রঙের শার্টের সঙ্গে মানাবে ভিসটেক জ্যাকেট।
পিউ লেদার জ্যাকেট : বর্তমানে বাজারে যেসব লেদার জ্যাকেট পাওয়া য়ায়, তার বেশিরভাগই পিউ লেদার। অর্থাৎ আর্টিফিশিয়াল লেদার বা ফেক লেদার। এই জ্যাকেটগুলো লেদার জ্যাকেট থেকে দাম তুলনামূলকভাবে কম হয়। রঙ এবং ডিজাইনে অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে এসব জ্যাকেটে। যত্ন করে ব্যবহার করলে জ্যাকেটগুলো অনায়েসে তিন থেকে চার বছর ব্যবহার করতে পারবে।
যত্নে থাকুক জ্যাকেট
শীতের পোশাকের মধ্যে জ্যাকেট পরিষ্কার রাখাটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কারণ অন্য পোশাকের মতো এটি চাইলেই ধোয়া যায় না। আধুনিক সময়ে অনেক নতুন নতুন উদ্ভাবন এসেছে। যার মধ্যে অন্যতম ড্রাই ক্লিনিং। ফলে ধোয়া ছাড়াই সহজে পরিষ্কার করতে পারবেন জ্যাকেট। কিছু জ্যাকেট পানিতে ধোয়া অনেক সহজ। তবে অবশ্যই ঠান্ডা পানিতে ধুতে হবে। জ্যাকেট সব সময় আলাদাভাবে পরিষ্কার করা ভালো।
ডিটারজেন্ট দিয়ে না ধুয়ে সুগন্ধি সাবান বা গায়ে মাখা সাবান দিয়ে ধুতে পারেন। তুলে রাখার আগে দেখে নেবেন ভালোভাবে শুকিয়েছে কি না। পিউ লেদারের জ্যাকেট অবশ্য শুকনো জায়গায় রাখবেন। ভাঁজ করে না রেখে হ্যাঙ্গারে বা ব্লেজারের মতো কাভার করে রাখা উত্তম। অন্য জ্যাকেটও হ্যাঙ্গারে রাখতে পারলে ভালো। যদি ভাঁজ করে রাখতেই হয়, তবে খেয়াল রাখবেন যেন বেশি চাপাচাপি না হয়।
চামড়ার জ্যাকেটে যেন ভাঁজ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন। কারণ চামড়ার পোশাক ইস্ত্রি করার সুযোগ নেই। এরপরও যদি করতেই হয় তবে উষ্ণতা সর্বনিম্ন মাত্রায় নামিয়ে চামড়ার পোশাকের ওপর একটি কাপড় রেখে ইস্ত্রি করতে পারেন। খেয়াল রাখবেন যেন গরম ইস্ত্রি সরাসরি চামড়ার ওপরে না লাগে। তাহলে তা নষ্ট হয়ে যাবে।