প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৫ পিএম
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৮:৪৬ পিএম
ভেজা কাপড় শুকাব কীভাবে
বর্ষার এই যে ক্রমাগত বর্ষণ, এতে আর যাই হোক কাপড় শুকানো নিয়ে দুশ্চিন্তা কোনোভাবেই কমে না। বৃষ্টিতে ভিজলে কাপড় কীভাবে শুকাবে, কাপড়ে দাগ পড়বে কি না, কাপড় শুকাতে গিয়ে ঘরময় পানির ছড়াছড়িÑ এমন নানা চিন্তায় বৃষ্টির প্রতি ভালো লাগা বেশিক্ষণ থাকে না। অথচ না শুকাতে পারলে কাপড় নষ্ট হবে দ্রুত। এই বর্ষায় কীভাবে কাপড় শুকানো যায়? চলুন কিছু টিপস জেনে নেওয়া যাক।
হ্যাঙ্গারে কাপড় শুকানো
ভেজা কাপড় দড়িতে শুকাতে দেওয়ার বদলে হ্যাঙ্গারের সাহায্যে শুকাতে দিতে হবে। হ্যাঙ্গারে কাপড় তুলনামূলক দ্রুত শুকায়, কারণ এতে বাতাস চলাচল সহজ হয়। প্রতিটি কাপড় হ্যাঙ্গারে পরিয়ে এরপর কাপড় শুকানোর দড়িতে টাঙিয়ে দিতে হবে।
বাজে গন্ধ কমাতে
রোদ না পেলে কাপড়ে একটা আর্দ্র গন্ধ থেকে যেতে পারে। সেটি এড়াতে কাপড় কাচার সময় ডিটারজেন্টের সঙ্গে একটু ভিনেগার বা বেকিং সোডা মিশিয়ে দিতে পারেন। চেষ্টা করুন এমন ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে, যাতে লেবু বা গোলাপের এসেন্স রয়েছে। লিকুইড স্যাভলন ব্যবহারেও বাজে গন্ধ হবে না।
অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে নেওয়া
কাপড় দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে এর ওপর ফাঙ্গাস জমে। ওদিকে বৃষ্টিতে ভেজা কাপড় ধুয়ে শুকাতে না পারলে তিলা পড়ার ঝুঁকি থাকে। আবার ভেজা কাপড়ে জামা কাটার পোকারাও খুশি হয়, তাদের উপদ্রব বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে ভেজা কাপড় শুকানো খুবই জরুরি। সেজন্য কাপড় ধোয়ার পর আগে কিছুক্ষণ ওয়াশরুমের হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখুন। তাতে প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত পানি ঝরে যাবে।
তোয়ালের ব্যবহার
যে বালতিতে আগে কাপড় ধুয়ে রাখবেন, সেখানে আগে একটা তোয়ালে রাখতে পারেন। তাতে ভেজা কাপড়গুলোর বাড়তি পানি তোয়ালেটা শোষণ করে নেবে। আর অন্য কাপড়গুলোর সঙ্গে তোয়ালেটাও শুকিয়ে নেবেন।
সাময়িকভাবে কাপড় শুকানোর ঘর
বর্ষাকে তো আর কাপড় শুকানোর জন্য ঠেকানো যাবে না। ছাদে বা বারান্দায় কাপড় নাড়া যাবে না। তাই ঘরের এমন একটা জায়গায় কাপড় শুকানোর জন্য বেছে নিন, যেখানে মানুষের চলাচল কম। গেস্টরুম খালি থাকলে সেটিকেই সাময়িকভাবে বানিয়ে নিন কাপড় শুকানোর ঘর।
কাপড় শুকানোর র্যাক
দড়ি টানিয়ে নিতে পারেন। বাজারে এখন ঘরের ভেতর কাপড় শুকানোর নানা র্যাক পাওয়া যায়। সে রকম একটা কিছু কিনে নিতে পারলে আরও ভালো হয়। কেননা, দড়িতে কাপড় ছড়িয়ে দিলে সেগুলোর এক পাশ অন্য পাশের সঙ্গে লেগে থাকে। ফলে কাপড়ের ভেতরে বাতাস চলাচল হয় কম। ফলে কাপড় শুকাতে দেরি হয়। হ্যাঙ্গারের ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করায় কাপড় দ্রুত শুকায়।
ফ্যান ছেড়ে দেওয়া
কাপড় নেড়ে ফ্যান ছেড়ে জানালাগুলো খুলে দিন। যে ঘরে ঘুমাবেন, সেখানে কাপড় না শুকানোই ভালো। তাতে অতিরিক্ত আর্দ্রতায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তা ছাড়া ভেজা কাপড়ের আর্দ্রতা থেকে হতে পারে সর্দি-কাশি। তবে যে ঘরে কাপড় শুকাবেন, সেখানে যদি আপনি বাটিতে খানিক লবণ নিয়ে রেখে দেন, তাহলে সেই লবণটুকু আর্দ্রতা শুষে নেবে। ফলে সহজেই কাপড় শুকিয়ে যাবে।
কাপড় পরার আগে
কাপড় পরার আগেই ভাবুন, সেই পোশাকটি ধুয়ে শুকানো ঝামেলা কি না। এমন পোশাক পরুন, সেটি ধোয়ার পর সহজেই শুকিয়ে যায়। জর্জেট, সুতি, ঘের বেশি না এমন টপস, শার্ট পরুন। যেটা সহজেই কেচে শুকিয়ে আবার পরার জন্য তৈরি করা যাবে।