× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পুরনো বোতল-শিশি জমছে কেন

লাবিবা ইরম

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৭:৩৯ পিএম

পুরনো বোতল-শিশি জমছে কেন

পুরনো বোতল-শিশি জমছে কেন

রান্নাঘরে, স্টোর রুমে বা ঘরের বিভিন্ন কোনায় পুরনো শিশি-বোতল বিভিন্নভাবে জমে থাকাÑ খুব একটা অপরিচিত দৃশ্য নয় আমাদের জন্য। মধ্যবিত্ত জীবনের এক চেনা দৃশ্য এটি। যদিও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এগুলো মাঝে মাঝে কাজে লাগে, তবে কখন এই পুরনো বোতল জমানো থেকে আমরা অজান্তেই এক মানসিক ব্যাধি বাঁধিয়ে বসি, সেটা নিজেরাই জানি না। আজ জেনে নেব কেন আমাদের এমন জমিয়ে রাখতে মনে চায়, কখন এটি নিয়ে আসলে কনসার্ন হওয়া উচিত।

ফেলতে পারি না কোনো কিছুই

আমাদের অনেকের মাঝেই এই অভ্যাসটা আছে, আমরা কোনোকিছু ফেলতে পারি না। ফলে দেখা যায় ভাঙা হাঁড়ি পাতিল, বোতল, পটÑ এমনকি ভাঙা দুল, ক্লিপ, ছিঁড়ে যাওয়া বই, নোটবুক সবই জমিয়ে গুছিয়ে রাখছি। রিসাইকেলিং বা DIY প্রজেক্টের জন্য কিছু জিনিসকে হয়তো কাজে লাগানো যায়, তবে দেখা যায় বেশিরভাগই কোনো কাজে লাগে না। বছরের পর বছর শুধু বাসায় জায়গা দখল করে থাকে। 

এটির শুরু হয় স্কারসিটি ইফেক্ট থেকে। মানুষ যখন অভাবের মধ্য দিয়ে যেতে থাকে সাধারণত তখন এই ইফেক্টটা মানুষের মাঝে তৈরি হয়। রেখে দিই পরে পাব না, এটাকে অন্য কাজে লাগানো যাবে, এটাকে ঠিক করে ফেলতে পারবÑ এ ধরনের ভাবনা থেকে এই ইফেক্টগুলো তৈরি হয়। দেখা যায় কিছু জিনিস কাজে লাগাতে পারলেও, বাকিগুলো সেভাবেই থাকে। একটা সময় অভাব দূর হলেও এই অনিশ্চয়তার অভিজ্ঞতা এই ভাবনাগুলো থেকে মানুষকে বের হতে দেয় না। মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায় এটাই স্কারসিটি ইফেক্ট।

বাংলাদেশের সামাজিক ও পারিবারিক সংস্কৃতিও এই মানসিকতাকে প্রভাবিত করে। অনেকেই এমন পরিবারে বড় হয়েছেন, যেখানে কোনো জিনিস সহজে ফেলে দেওয়া হতো না। পুরনো বোতলে মসলা রাখা, শিশিতে তেল ভরা কিংবা জারে বিস্কুট সংরক্ষণ করা ছিল খুবই স্বাভাবিক বিষয়। ফলে খালি বোতল দেখলেই অনেকের মনে সম্ভাব্য ব্যবহারের একটি তালিকা তৈরি হয়ে যায়।

জমে যায় জিনিসের পাহাড়

অনেক মানুষ অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দিতে অস্বস্তি বোধ করেন, কারণ তাদের মনে হয়, এখনও এটি ব্যবহারযোগ্য। একটি কাচের বোতল ভালো আছে, ঢাকনাও ভালোÑ তাহলে কেন ফেলে দেওয়া হবে? মনোবিজ্ঞানে এটিকে অনেক সময় waste aversion বা অপচয় এড়িয়ে চলার প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বিশেষ করে যারা ছোটবেলা থেকে মিতব্যয়ী পরিবেশে বড় হয়েছেন, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

আঁকড়ে ধরার চরম পর্যায় : হোর্ডিং ডিজঅর্ডার

এই যে সব জমিয়ে রাখা- এটার অভ্যাসটা যখন আস্তে আস্তে চরম আকার ধারণ করে, প্রতিদিনের জীবনে প্রভাব পড়তে থাকে তখন সেটা পৌঁছে যায় হোর্ডিং ডিজঅর্ডারে। একটা সময় পর্যন্ত একে OCD বা শুচিবায়ু ধরা হলেও এখন এটি একটি স্বীকৃত মানসিক রোগ, যা আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders (DSM-5-TR)-এ অন্তর্ভুক্ত। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায় সব ধরনের জিনিসের প্রতিই অতিরিক্ত আবেগগত মূল্য অনুভব করেন। তারা মনে করেন, প্রতিটি জিনিস একদিন প্রয়োজন হতে পারে অথবা ফেলে দিলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারিয়ে যাবে। ফলে ঘরে অপ্রয়োজনীয় কাগজ, বাক্স, বোতল, কাপড় কিংবা ভাঙা জিনিসের স্তূপ জমতে থাকে। অনেক সময় বাসার স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

করণীয় কী?

ঘরে পুরনো বোতল-শিশি থাকলেই যে তা ফেলে দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বরং আগে নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে পারেন:

গত এক বছরে কি এটি ব্যবহার করেছি? বাস্তবেই কি এটি আবার ব্যবহার করার পরিকল্পনা আছে? এটি কি শুধু জায়গা দখল করছে? স্মৃতির জন্য রাখছি, নাকি অভ্যাসবশত? একই ধরনের কতগুলো বোতল আমার সত্যিই প্রয়োজন?

যদি দেখেন, একটি-দুটি বোতল সত্যিই আপনার ভালো লাগে বা কাজে আসে, তাহলে সেগুলো রেখে দিতে সমস্যা নেই। কিন্তু একই ধরনের ২০-৩০টি বোতল, বাটি বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস বছরের পর বছর জমিয়ে রাখলে সেটি ঘরের জায়গা নষ্ট করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপও তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে যেসব জিনিস ব্যবহারযোগ্য, সেগুলো আবার ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন: মসলা সংরক্ষণ, ফুলদানি, ছোট গাছ লাগানো, ঘরে তৈরি আচার রাখা কিংবা বিভিন্ন কারুশিল্পের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। আর যেগুলো প্রয়োজন নেই, সেগুলো রিসাইক্লিং করে দিলে পরিবেশের ক্ষতিও কম হবে।

পুরনো বোতল-শিশি রেখে দেওয়ার পেছনে কখনও স্মৃতি, কখনও পরিবেশ সচেতনতা, কখনও Scarcity Effect কাজ করে। আর খুব অল্পসংখ্যক ক্ষেত্রে এটি গুরুতর মানসিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। তাই নিজেই একটু সময় দিয়ে ব্যাপারটি খেয়াল করলেই জীবন হবে সহজ, বাসার পরিবেশও হবে গোছানো।


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা