× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গল্প

পারফিউম

রেজাউল করিম খোকন

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

অলংকরণ: মিজান স্বপন

অলংকরণ: মিজান স্বপন

সাকিব চৌধুরী দরজা খুলে গাড়িতে চড়ে বসতেই চিরচেনা সেই সৌরভ ছড়িয়ে পড়ে। গন্ধটা মুহূর্তেই নেশা ধরিয়ে দেয়। কেমন যেন আবিষ্ট করে তোলে। মালিকের পারফিউমের গন্ধে বুঁদ হয়ে পৃথিবীর সব কাজ-কর্ম ভুলে ভিন্ন এক জগতে হারিয়ে যেতে মন চায় মজনুর।

প্রায় সময়েই এমন হয়। কিন্তু সাকিব চৌধুরীর জলদ গম্ভীর ডাকে তার তন্ময়ভাব কেটে যায়। আজকাল প্রায়ই এমনটি ঘটছে। ‘কী ব্যাপার, গাড়ি স্টার্ট দিচ্ছিস না ক্যান, অফিসে যাবো না, নাকি এখানে বাড়িতে বসে থাকবি? কি যে হয় তোর মাঝে মাঝে! ডিজগাস্টিং.....

‘জ্বি, স্যার, সরি স্যার। এই তো স্টার্ট দিচ্ছি’, বলেই মজনু স্টিয়ারিং হুইলটা শক্তভাবে দু’হাতে চেপে ধরে। গাড়ি বারান্দা অতিক্রম করে কালো রঙের হ্যারিয়ার গাড়িটা বাড়ির গেটের দিকে এগিয়ে যায় ধীরে ধীরে।

সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাকিব চৌধুরী প্রথমে অফিসে যান। গুলশান থেকে বনানী যেতে এমনিতে খুব বেশি সময় লাগে না। কিন্তু সকালে এ সময়টাতে গুলশান-বনানীর রাস্তায় গাড়ির চাপ খুব বেশি থাকে। বাস, ট্রাক, রিকশার ঝামেলা না থাকলেও কার আর মাইক্রোবাসের দীর্ঘ লাইন লেগে থাকে রাস্তায়। আজকাল বড় বড় সব কর্পোরেট হাউজ, ব্যাংক, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মেইন অফিসগুলোর অধিকাংশই গুলশান, বনানী, বারিধারায় চলে এসেছে। ফলে ধীরে ধীরে এখানকার ব্যস্ততা, লোকসমাগম অনেকগুণ বেড়ে গেছে। সকালবেলা অফিস টাইমে এ পথে একটানা গাড়ি চালিয়ে নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছার কথা ভাবা যায় না কোনোভাবেই। ট্রাফিক জ্যামের দীর্ঘ সারিতে কিছু সময় বসে কাটাতে হয় সবাইকে।

মজনু জানে, সাকিব চৌধুরী বনানী অফিসে দুপুর পর্যন্ত থাকবেন। জরুরি মিটিং থাকলে সারবেন। তারপর বেরোবেন। মাঝে মধ্যে ইস্কাটনে বাবা-মায়ের সাথে দেখা করতে যান। তারা বুড়ো মানুষ। ইস্কাটনে পুরনো বাড়িতেই থাকেন। পারিবারিক নানা স্মৃতি জড়িয়ে থাকা সেই বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে রাজি নন তারা। যদিও গুলশানের বাড়িটা সাকিব সাহেবের বাবা ইশরাদ চৌধুরী অনেক টাকায় কিনেছিলেন সামাজিক প্রতিপত্তি বাড়াতে। সাকিব চৌধুরীর সাথে মজনু আছে গত পাঁচ ছয় বছর ধরে। সাকিব চৌধুরীর স্বভাব-চরিত্র, পছন্দ-অপছন্দ, পারিবারিক অন্দর মহলের খবর সবই মুখস্ত হয়ে গেছে গত পাঁচ ছয় বছরে। দেশের অন্যতম সেরা ধনাঢ্য শিল্পপতি ব্যবসায়ীর সাথে থাকতে পেরে মাঝে মাঝে মজনু মনে মনে আলাদা উত্তেজনা অনুভব করে। সে প্রায়ই নিত্যনতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। তখন সমাজের উঁচুতলার মানুষদের চরিত্রের নানা দিক উন্মোচিত হয়। কত অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী হয়, নিজ চোখে দেখেও বিশ্বাস হতে চায় না। তবুও একের পর এক ঘটে যায় কত কী চমকপ্রদ ঘটনা। বিষ্ময়ের ঘোরের মধ্যে কাটাতে কাটাতে এসবে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে সে এখন। আজকাল মনে আর ভাবান্তর ঘটায় না এসব ঘটনা। 

সাকিব চৌধুরীর বয়স পঞ্চাশ পেরোলেও তাকে দেখে বোঝা যায় না। নিয়মিত গুলশান ক্লাবে গিয়ে টেনিস খেলেন, সুইমিং পুলে সাঁতার কাটেন। খাওয়া-দাওয়া করেন পরিমিতভাবে। অনেক রাশভারী টাইপের মানুষ হলেও তার মনটা বেশ উদার। সাধারণত বড়লোক হলেই মনটা উদার হয় নাÑ ঢাকা শহরে গত সতের বছরের জীবনে কতজনকেই তো দেখেছে মজনু। সবাইকে দেখে অনেক কিছু জানা হয়ে গেছে তার। গম্ভীর হলেও বদমেজাজি, রগচটা নন সাকিব চৌধুরী। ড্রাইভার মজনুর সাথে এর মধ্যেই ভালো বোঝাপড়া হয়ে গেছে তার। মজনু তার হাবভাব দেখেই বুঝে নিতে পারে, কখন কী করতে হবে। সাকিব চৌধুরীর বউ ছেলে-মেয়েরা দেশে থাকে না। ছেলে-মেয়ে দু’টি মালয়েশিয়ায় লেখাপড়া করছে। সেখানে সাকিব চৌধুরীর বউ মালিহা চৌধুরীও থাকছে ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনার জন্য। মাঝেমধ্যে ছুটি ছাটায় তারা দেশে আসেন, খুব বেশিদিন থাকেন না। বলতে গেলে সাকিব চৌধুরীর গুলশানের বাড়িটা ফাঁকাই পড়ে থাকে সারা বছর। প্রায়ই ব্যবসার কাজে আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেতে হয় সাকিব চৌধুরীকে। তার সবকিছুতে আলাদা সৌখিনতা রয়েছে। বিদেশ গেলে খুঁজে খুঁজে দামি পারফিউম কেনাটা তার এক ধরনের বিলাসিতা। প্রতিবার বিদেশ গেলে সেখান থেকে দামি পারফিউম কিনে আনেন সাকিব চৌধুরী। কয়েকমাস আগে ফ্রান্স গিয়েছিলেন, তখন প্যারিস থেকে নিজের জন্য অনেক পছন্দ করে একটা পারফিউম এনেছেন। যা তার ভীষণ প্রিয় সুগন্ধী। আজকাল প্রায়ই ব্যবহার করতে দেখা যায় তাকে। মনিবের প্রিয় পারফিউমের গন্ধটা খুব চেনা হয়ে গেছে ড্রাইভার মজনুর।

সাকিব চৌধুরীর সবকিছুই মজনুর ভালো লাগলেও তার একটি ব্যাপার ভীষণ খারাপ লাগে মজনুর। সেটি হলো তার নিত্যনতুন নারীসঙ্গ লাভের আসক্তি। অন্য আরও অনেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের মতো মদের নেশায় আসক্তি নেই তেমন, সিগারেটও খান না। পার্টিফার্টিতে গেলে অন্যদের সাথে তাল মেলাতে ভদ্রতার খাতিরে দু’এক পেগ হুইস্কি কিংবা শ্যাম্পেন খাওয়া হয়। এর বেশি তার একদম পছন্দ নয়। মদের নেশায় না ডুবলেও নিত্যনতুন নারীর সঙ্গ চাই তার। এক্ষেত্রে বৈচিত্র্য খোঁজেন সাকিব চৌধুরী। কোনো নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির মধ্যে তার পছন্দ সীমাবদ্ধ নয়। সব শ্রেণির, বিভিন্ন বয়সী নারীর প্রতি তার আসক্তি। দেশসেরা সুন্দরী মডেল, সিনেমার নায়িকা, সোসাইটি গার্ল থেকে শুরু করে অতি সাধারণ হাউজওয়াইফ কোনোটিতে অরুচি নেই তার। নিজের মনিবের সামাজিক মর্যাদা, অবস্থান, প্রভাব প্রতিপত্তি, সম্মান ইত্যাদির সাথে তার এ ব্যাপারটি মেলাতে পারে না মজনু। নারীসঙ্গ লাভের ব্যাপারটিতে নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণি, রুচি বা পছন্দের ধার ধারেন না সাকিব চৌধুরী। এ স্বভাবটি তার অনেক দিনের পুরনো। তার বউ এ কারণে দেশ ছেড়েছেন ছেলে-মেয়েদের নিয়ে। তার এ কাজটিতে মদদ দিয়ে যায় কয়েকজন। তারাই নিত্যনতুন নমুনা নিয়ে হাজির হয় সাকিব চৌধুরীর সামনে। বিনিময়ে বেশ ভালোভাবেই লাভবান হয় তারা। এ রকম বেশ কয়েকজনকে প্রায়ই দেখা যায় বনানীর অফিসে গেস্ট ওয়েটিং লাউঞ্জে বসে থাকতে। মজনু তাদের চেনে বেশ ভালো করেই। 

মজনুর মেরুল বাড্ডার আদর্শনগরের নিজের বাসা থেকে হেঁটে গুলশানে সাকিব চৌধুরীর বাড়ি যেতে বড়জোর বিশ মিনিট সময় লাগে। আলেয়াকে বিয়ে করার পর বেশ কয়েক বছর গ্রামের বাড়িতে তাকে রাখলেও একবছর হলো ঢাকায় নিয়ে এসেছে। গ্রামের স্কুলে ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়ুয়া আলেয়া দেখতে শুনতে চমৎকার। অনেক রূপসী বলা যায় না, তবে এক ধরনের নিটোল, নিষ্পাপ সৌন্দর্য তাকে জড়িয়ে থাকে সব সময়। বয়সের ব্যবধানটা একটু বেশি হলেও মজনুকে স্বামী হিসেবে ভালোভাবেই গ্রহণ করেছে আলেয়া। এ নিয়ে কোনো দুঃখবোধ, হতাশা নেই। মজনুকে দারুণ পছন্দ করে, অনেক ভালোবাসে সে। আলেয়াকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে নিজেকে পৃথিবীর একজন অন্যতম সেরা সুখী মানুষ ভাবে মজনু। এ রকম একটা বউ কয়জনের ভাগ্যে জোটেÑ তেমনটি ভেবে ভেবে ভেতরে দারুণ পুলক অনুভব করে সে। বিয়ের পর তিন চার বছর পেরিয়ে গেলেও ওরা সন্তানের বাবা-মা হতে পারেনি এখনও। তীব্রভাবে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা জাগলেও তা পূরণ হচ্ছে না। ঢাকা আসার পর বেশ কয়েকজন ডাক্তারকে দেখিয়েছে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা জানিয়েছে, আলেয়ার সামান্য কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তা কেটে গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন সে সন্তানের মা হতে পারবে। একথা জানার পর আলেয়ার মনটা বেশ ভারি হয়ে উঠেছে স্বাভাবিকভাবে। বাসায় একলা সময় কাটাতে চায় না বলে বউকে ছোট্ট একটা টেলিভিশন কিনে দিয়েছে। তারপরও মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে ওঠে আলেয়া। দুই রুমের বাসায় দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। বাইরে কোথাও মুক্ত পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে, বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে প্রচণ্ড ইচ্ছে করে। ঢাকায় আলেয়ার দূর সম্পর্কের খালাতো বোন নাজমা থাকে রামপুরায়। বেশ কয়েকবার গেছেও সেই বাসায়। নাজমাও এসেছে এ বাসায়। তাকে দেখে, তার চলনবলন, কথাবার্তা দেখে খুব একটা ভালো লাগেনি মজনুর। তবে তার ভালো না লাগার বিষয়টি আলেয়াকে মুখ ফুটে বলতে পারেনি। যদি তার কথা শুনে কষ্ট পায় সে। হাজার হোক, তার আত্মীয়, আলাদা একটা টান তো থাকবেই। নাজমা আর তার স্বামী দু’জনে মিলে কিসের যেন ব্যবসা করে। তাদের ব্যবসার ধরনটা পরিষ্কার করে না বললেও বেশ ভালো আয় রোজগার হয়, তাদের দেখেই অনুমান করা যায়। 

দুই.

মামা আলিম ড্রাইভার হঠাৎ স্ট্রোক করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। মোবাইলে মামার অসুস্থতার খবর পেয়ে কিছুটা অস্থির হয় মজনু। তার হাত ধরেই একদিন ঢাকা শহরে পা রেখেছিল সে। মামাকে দেখতে যাওয়া দরকার, যদি হঠাৎ তার কিছু একটা হয়ে যায়। কোনো উপায় না দেখে সাকিব চৌধুরীকে মামাকে এক নজর দেখতে যাওয়ার কথাটা বলে। এজন্য দুই তিন দিন ছুটি চায় সে। ছুটি পেয়ে হঠাৎ বাড়ি যাওয়ার আয়োজন করতে গিয়ে নতুন এক সমস্যায় পড়ে যায় মজনু। এখন সঙ্গে করে আলেয়াকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। এত কম সময়ের জন্য গ্রামে গিয়ে কী হবে? ঠিকমতো বেড়ানো হবে না। মামাকে নিয়ে সবাই এখন হাসপাতালে। একলা বাসায় আলেয়াকে রেখে যেতে মন সায় দেয় না। তখন আলেয়া নিজেই তার খালাতো বোন নাজমার বাসায় কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে। যে কদিন মজনু ঢাকার বাইরে থাকবে সেই সময়টা তাদের বাসায় গিয়ে থাকলেই তো হয়। নাজমা অনেকদিন থেকেই আলেয়াকে তার বাসায় বেড়ানোর বায়না ধরে আছে। নাজমা এবং তার স্বামী সিরাজুলকে মজনুর মোটেও পছন্দ নয়। তাদের কাজকর্মও তেমন সুবিধার নয়। কয়েক সপ্তাহ আগে নাজমাকে সাকিব চৌধুরীর অফিসে ওয়েটিং লাউঞ্জে সাজগোজ করে ফিটফাট হয়ে বসে থাকতে দেখেছে সে। মজনু টের পেয়েছে নাজমা এবং তার স্বামী কিসের ধান্ধা করে এত ফিটফাট হয়ে চলে, বিলাসী জীবনযাপন করে। মজনু তখন নাজমার মুখোমুখি হয়নি। আড়াল থেকে দেখেই সরে এসেছে। ব্যাপারটা আলেয়াকে বলতে গিয়ে বলেনি সে। নাজমার ধান্ধার বিষয়টি আরও নিশ্চিত হয়ে তারপর বলবে, ভেবেছে। বিকল্প কোনো পথ খোলা না পেয়ে অগত্যা আলেয়ার প্রস্তাবে রাজি হয় মজনু। একবার তার সঙ্গে বাড়ি যেতে বললেও আলেয়া আগ্রহ দেখায়নি। তার চেয়ে এই সময়টাতে খালাতো বোনের বাসায় কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে যাওয়ার সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চেয়েছে সে। মজনু নিজেই রামপুরায় আলেয়াকে তার খালাতো বোন নাজমার বাসায় দিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছে।

বেশি দিন ছুটিতে থাকলে মনিবের সমস্যা হতে পারে। তিনি বিরক্ত হতে পারেন। ওদিকে মনে না চাইলেও আলেয়াকে তার খালাতো বোনের বাসায় রেখে এসেছে। আত্মীয় হলেও মানুষগুলো মোটেও পছন্দ নয় মজনুর। তাদেরকে কোনোভাবেই ভরসা করা যায় না। বিশেষ করে সাকিব চৌধুরীর বনানীর অফিসে কয়েকদিন আগে নাজমাকে দেখার পর থেকে তাদের প্রতি অবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। ভয়ও হচ্ছে তাদেরকে নিয়ে। এর মধ্যে আলেয়াকে নিয়ে তারা আবার কোন কাণ্ড করে বসে, কে জানে? তিন দিনের মধ্যেই মজনু ঢাকা ফিরে আসে। প্রথমেই সে তার কাজে যোগ দেয়। মনিবের সাথে দেখা সাক্ষাত শেষ করে রামপুরা গিয়ে আলেয়াকে নিয়ে সোজা নিজের বাসায় ফিরে অনেকটা স্বস্তিবোধ করে। নাজমার বাসা থেকে ফিরে আলেয়াকে অনেকটা উচ্ছৃসিত মনে হয়। গত কয়েকদিন বেশ মজায় কেটেছে সেখানে, বোঝা যায়। তাকে বেশ কয়েক জায়গায় বেড়াতে নিয়ে গেছে নাজমা। সেখানেও অনেক আনন্দ করেছে, একের পর এক বলতে থাকে। ব্যাগ থেকে নিজের জামা-কাপড়, শাড়ি ব্লাউজ সব বের করে বিছানায় ছড়িয়ে রাখতে থাকে সে। তার গত কয়েকদিনের বেড়ানোর ধারাবাহিক বিবরণী শুনতে মন চাইছেনা মজনুর। বেশ বিরক্ত লাগছে। অনেকটা অমনোযোগী হয়ে শুনছিল তার বউয়ের কথা। চাইলে সে তাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিতে পারে। কিন্তু আলেয়ার মায়াভরা সুন্দর মুখটার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে পারে না। তার মনে কোনো কষ্ট দিতে চায় না। হঠাৎ ঘরের মধ্যে সেই অতি পরিচিত সুগন্ধী ছড়িয়ে পড়তেই ভীষণভাবে চমকে ওঠে মজনু। এখানে এ ঘরে সেই শিহরণ জাগানো পারফিউমের গন্ধ পাচ্ছে সে এখন। যা তার মনিব সাকিব চৌধুরী আজকাল ব্যবহার করেন। প্রতিদিন গাড়ি করে তাকে নিয়ে যাবার সময় তার নাকে এসে লাগে। সেই গন্ধে আবিষ্ট না হয়ে পারে না সে। তবে নিজের ঘরে সেই অতি চেনা পারফিউমের গন্ধ এলো কীভাবে? মজনুর সারা শরীর কেমন ঝাঁকি দিয়ে ওঠে মুহূর্তেই। সেই সুগন্ধীর উৎস খুঁজতে থাকে সে আতিপাতি করে। হঠাৎই পেয়ে যায়। আলেয়ার শাড়ি এবং ব্লাউজে লেগে আছে সেই অতিচেনা পারফিউমের সুবাস। নাকের কাছে নিয়ে বারবার পরখ করে দেখে সে। তার বউ আলেয়ার শাড়ি এবং ব্লাউজ থেকে সেই পারফিউমের সুবাস তার নাকে এসে লাগছে। এখনও গন্ধটা বেশ তরতাজা টাটকা, একটুও ম্লান হয়নি। আলেয়া খেয়াল করে না ব্যাপারটা। সে বলেই চলেছে তার গত কয়েকদিনের বেড়ানোর ধারাবিবরণী। 

‘জানো, নাজমা আপা আমারে সাথে কইরা গুলশান না কই জানি বিরাট এক বড়লোকের বাড়িতে বেড়াইতে নিয়া গেছিল। লোকটা নাকি তার অনেক পরিচিত। ও মাগো! অনেক বিরাট বাড়ি। কতগুলি ঘর সেই বাড়িতে। আমি তো দেইখ্যা টাসকি খাইয়া গেছি। সেইখানে অনেক মজা করলাম আমরা।

আলেয়ার কথা মজনুর কানে আর ঢুকছে না। নাজমার সাথে গুলশানে কার বাড়িতে গিয়েছিল আলেয়াÑ তার আর বুঝতে বাকি থাকে না। নাজমা তাকে কেন সেখানে নিয়ে গিয়েছিল এবং সেখানে কী ঘটেছেÑ সবই বুঝে নেয় সে। সেই অতি পরিচিত পারফিউমের সৌরভ মজনুকে এই মুহূর্তে নতুন করে নাড়া দিয়ে যায় শুধু। অবিশ্বাস্য চোখে সে নিজের বউয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, নিজেও নির্বাক, নিথর হয়ে যায়। কিছু বলতে পারে না। প্রত্যেক মানুষের জীবনে হয়তো তেমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন সে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যায়, হৃদয়ে গভীর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। যা বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না।


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা