গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
একটি ভালো কবিতা পড়ার পর
মতিন রায়হান
একটি ভালো কবিতা পড়ার পর মনে হয়
প্রিয়তমার উষ্ণ ঠোঁট আমার ঠোঁটে এঁকে দিলো
একটি অনন্ত স্মারকচিহ্ন!
যে-চিহ্ন আমাকে নিয়ে যাবে দূরের বিজন সমুদ্রতটে
ফেনায়িত তরঙ্গে তরঙ্গিত হবে আমাদের যুগলশরীর!
তীব্র শীতের রাতেও ছড়িয়ে পড়বে প্রগাঢ় উষ্ণতা!
একটি ভালো কবিতা পড়ার পর আর কী কী হতে পারে?
এই প্রশ্নে নিরুত্তর থাকাটাই কি বুদ্ধিমানের কাজ?
এইমাত্র একটি ভালো কবিতা পড়ে শেষ করলাম!
আমার এখন অনেক কিছু করতে ইচ্ছে করছে!
ইচ্ছে করছে কোনো সুইমিংপুলকে যুগলস্নানে একান্ত করে তুলি।
একটি ভালো কবিতা পড়ার পর খুব ইচ্ছে হয়
রচনা করি একটি অনন্য প্রেমের কবিতা
যে কবিতার শরীরে সেঁটে থাকবে
শব্দের এমন সব সোনাদানা, যা বিক্রি করে
আমি যেন সহজেই কয়েক শতাব্দীর জীবন পাড়ি দিতে পারি!
অন্তত হাজার বছর পরও নতুন কোনো কবি এসে
আমার কবিতাটি পড়ে সোল্লাসে বলে উঠবে :
‘বাহ! এ তো দেখছি, আরেক ওমর খৈয়াম!’
মাছধরা মানুষেরা
তপন বাগচী
গ্রামের মাছধরা মানুষেরা
কখনও পুরোপুরি ঘুমায় না।
তারা কানে শুনতে পায়
বিলের ভিতর হাঁটাচলা।
এক বুড়ো জেলে বলেছিলÑ
‘পানিরও ছায়া আছে।’
তারপর সে
তার পুঁতির মালা খুলে
একটি শুকনো বৈঠায় বেঁধে দিল।
সেই বৈঠা আজও
খালের ধারে দাঁড়িয়ে থাকে
মানুষের মতো।
ঘামের কোলাজ
নেলসন
ব্যবহৃত আস্তিন থেকে নেমে পড়া ঝুল
দুলছে হাওয়ায়, যেনবা ঘুড়ি
পর্যাপ্ত বাতাস পেলেই উড়ে যাবে আকাশে
ঘামের কোলাজ থেকে উঠে আসে শৈশব
যেন আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠা ভাতঘুম
দুপুর কলহ শেষে অহেতু বুঁদ বিগত ধ্যানে
রোদের কারচুপি ভেঙে যায় খানখান
বাতাস আসে সেই অতীত থেকে
যেখানে দুপা দোল খায় খোলা বারান্দায়
অথচ শব্দ কী ভীষণ উদাসীন
একাই গেঁথে চলে নামলিপি
যেনবা মালা, বিকোবে তা আজকের মেলায়
দেখ তামাদি স্বপ্নের ঝুল লেগে আছে হাতায়
রোদ নকশা পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো পা জানে
সকলই কর্পূর আদতে, জীবনের মতোই