ফরিদুর রেজা সাগর
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
অলংকরণ : তানভীর মালেক
মায়রা আর মায়রন দুই ভাইবোন। তারা খুবই কৌতূহলী আর প্রাণবন্ত। তাদের নানাভাই, অফিস শেষে তিনি যখনই বাসায় আসেন, তখনই নতুন নতুন গল্প শোনান। সেই গল্প শুনতে শুনতে কখন যে সন্ধ্যা নেমে আসে, কেউ টেরই পায় না।
তাদের নানিকে তারা আদর করে ‘বুবাই’ বলে ডাকে।
বুবাই সব সময় বলেন, ‘গল্প মানুষকে বড় করে, আর খেলাধুলা মানুষকে এক করে।’
তাদের বুবাই কিন্তু ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি ভালো ভলিবল খেলতে পারেন।
কদিন পরই শুরু হলো বিশ্বকাপ ফুটবল। সারা বাড়িতে যেন উৎসবের আমেজ। ড্রয়িংরুমে বড় টেলিভিশনের সামনে সবাই জড়ো হলো। মায়রা নিজের পছন্দের দলের পতাকা হাতে বসে আছে, আর মায়রন গলায় জড়িয়ে নিয়েছে রঙিন স্কার্ফ।
খেলা শুরু হতেই দুজনের উত্তেজনা বেড়ে গেল।
‘গোল! গোল’ চিৎকার করে উঠল মায়রন।
মায়রা হাসতে হাসতে বলল, ‘এখনো গোল হয়নি! একটু ধৈর্য ধরো।’
নানাভাই মুচকি হেসে বললেন, ‘ফুটবল শুধু গোলের খেলা নয়, এটা আনন্দ উৎসব আর স্বপ্ন দেখার খেলাও।’
খেলার বিরতিতে বুবাই সবাইকে গরম গরম পপকর্ন আর আমের রস এনে দিলেন। সবাই মিলে গল্প করতে করতে আবার খেলা দেখতে বসে গেল।
শেষ মুহূর্তে সত্যিই একটি দারুণ গোল হলো। পুরো ঘর আনন্দে ভরে উঠল। মায়রা আর মায়রন হাততালি দিতে দিতে লাফিয়ে উঠল। নানাভাইও হাসিমুখে বললেন, ‘দেখো, একটা ফুটবল ম্যাচ কত মানুষের মুখে একসঙ্গে হাসি ফোটাতে পারে!’
সেদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মায়রা বলল, ‘বুবাই, আজকের দিনটা যেন একটা গল্পের মতো সুন্দর ছিল।’
বুবাই মমতাভরা কণ্ঠে বললেন, ‘যে পরিবার একসঙ্গে গল্প শোনে আর খেলা দেখে, তাদের প্রতিটি দিনই সুন্দর গল্প হয়ে থাকে।’
মায়রা আর মায়রন হাসতে হাসতে ঘুমিয়ে পড়ল। তাদের স্বপ্নে তখনও সবুজ মাঠ, ফুটবল আর পরিবারের সবার আনন্দভরা মুখ ভেসে বেড়াচ্ছিল।