ভূঁইয়া শফি
প্রকাশ : ৫৫ মিনিট আগে
সবুজ ঘাসের সুন্দর মাঠ। পায়ে পায়ে চামড়ার একটি বল। আর গ্যালারি জুড়ে হাজার হাজার দর্শকের আকাশ কাঁপানো চিৎকার! এটিই আমাদের চেনা প্রিয় ফুটবল খেলার দৃশ্য। ফুটবল এখন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে আবেগের এক নাম। মাঠে বাইশজন খেলোয়াড় ফুটবল খেলে আর কোটি কোটি মানুষ উত্তেজনায় ফেটে পড়ে। প্রিয় দল হারলে কান্নায় ফেটে পড়ে আর জিতলে আনন্দে ভেসে যায়। কিন্তু আমাদের এই প্রিয় খেলাটির শুরু কীভাবে হয়েছিল? সেটি যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। সেটিই বলা যাক।
জনপ্রিয় এই খেলাটি কিন্তু হুট করেই আজকের মতো হয়নি! এর আসল রূপ খুঁজতে আমাদের ফিরে যেতে হবে আরও অনেক অনেক বছর আগে। গবেষকরা বলেন, যিশু খ্রিস্টের জন্মের দুই থেকে তিনশ বছর আগে প্রাচীন চীনে ফুটবলের এক আদিম রূপ ছিল। তখন এই খেলার নাম ছিল ‘সুজু’। এটি ছিল মূলত সৈন্যদের একটি শক্ত খেলা। সেখানে সৈন্যরা নিজেদের পায়ের কাজ আর বল আটকানোর বুদ্ধি বাড়ানোর জন্য চামড়ার বল দিয়ে খেলতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ‘সুজু’ খেলাটিই বদলে গিয়ে আজকের আধুনিক ফুটবলে রূপ নিয়েছে।
এই এখন চলছে ফুটবল বিশ্বকাপ। যেন মহারণ। সারা পৃথিবীর মানুষের চোখ রয়েছে এখন একটি গোলাকার বলের দিকে। ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে প্রতি চার বছর পর পর তৈরি এক আনন্দ-বেদনার মহাকাব্য।
সারাবিশ্বের মাঝে ফুটবলকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য রয়েছে আবার একটি সংস্থা। এর নাম ফিফা। এই ফিফার পূর্ণরূপ — ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ফরাসি ভাষা থেকে আসা নামটি ইংরেজি অর্থ হলো ‘International Federation of Association Football’। সত্যিকার অর্থেই ফুটবলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলো এই সংস্থাটি। যা প্রতিষ্ঠিত ১৯০৪ সালে। তারা ফুটবল খেলার যাবতীয় নিয়ম-কানুন ঠিক করে দেয়। আবার বড় বড় টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। বর্তমানে ফিফার প্রেসিডেন্ট সুইজারল্যান্ডের জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
তবে নিয়ম মেনে ফুটবল খেলা শুরু হয়েছিল কিন্তু এরও অনেক আগে। সেই ১৮৬৩ সালে ইংল্যান্ডে প্রতিষ্ঠা পায় ‘ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’ বা এফএ। তখনই ফুটবল খেলার সহজ-সহজ নিয়ম ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল।
ফিফার ইতিহাসে আরও একজন মানুষের নাম স্মরণ করা হয় শ্রদ্ধাভরে। তার নাম জুলে রিমে। অনেকে গুলিয়ে ফেলে জুলে রিমে আর ফিফা কিন্তু এক জিনিস নয়। ফিফা হলো ফুটবল পরিচালানোর কমিটি, আর জুলে রিমে ছিলেন এর তৃতীয় সভাপতি। ১৯২১ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৩ বছর তিনি ফিফার প্রধান ছিলেন। তার একক প্রচেষ্টাতেই ১৯৩০ সালে প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয়।
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তেজনার পর্বটি শুরু হয়েছিল ১৯৩০ সালে। জুলে রিমের সুন্দর স্বপ্নে ভর করে লাতিন আমেরিকার দেশ উরুগুয়েতে বসে প্রথম বিশ্বকাপের আসর। ১৯৩০ সালের ১৩ জুলাই উরুগুয়ের রাজধানী মন্তেভিদিওতে বেজে ওঠে বিশ্বকাপের প্রথম বাঁশি। সে যুগে যাতায়াত করা আজকের মতো সহজ ছিল না। তাই কোনো বাছাইপর্ব ছাড়াই মাত্র ১৩টি দেশ বিশেষ আমন্ত্রণে জাহাজে চড়ে সেই খেলায় অংশ নিয়েছিল। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার দারুণ গৌরব অর্জন করে ঘরের মাঠের দল উরুগুয়ে।
সেই প্রথম আসরের ট্রফিটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ভিক্টরি’। পরে ১৯৪৬ সালে জুলে রিমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এর নাম রাখা হয় ‘জুলে রিমে কাপ’। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল দল তিনবার এই ট্রফিটি জেতার পর তা চিরতরে তাদের দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ১৯৭৪ সাল থেকে নতুন করে চালু করা হয় আমাদের চেনা আজকের সুন্দর ‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি’।