× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এই বরষায় স্বস্তির পোশাক

জান্নাতুল কাওসার

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৬:১৩ পিএম

এই বরষায় স্বস্তির পোশাক

এই বরষায় স্বস্তির পোশাক

বর্ষা যেন প্রতিবারই নতুন করে ফিরে আসে। একই বৃষ্টি, একই মেঘ, তবু অনুভূতিগুলো যেন কখনও এক থাকে না। শহরের ব্যস্ত সড়কে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ, ক্যাফের জানালায় জমে থাকা পানির ফোঁটা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর কিংবা ছুটির বিকালে কাছাকাছি কোথাও ছোট্ট আড্ডা, বর্ষাকাল এসব মুহূর্তকে অন্য এক আবহ দেয়। সেই আবহের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যায় পোশাকের ভাষাও। গরমের উজ্জ্বল রঙ কিংবা শীতের জমকালো ভারি সাজ সরিয়ে বর্ষায় জায়গা করে নেয় স্নিগ্ধতা, স্বস্তি আর প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা রঙের ব্যবহার।

এ বছর বর্ষা শুরু হয়ে গেলেও বৃষ্টি তুলনামূলক কম। তাই বর্ষায়ও পোশাকের ক্ষেত্রে এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে আরাম ও বহুমুখী ব্যবহার। এমন পোশাক, যা অফিস শেষে সরাসরি আড্ডায় পরা যায়, আবার সপ্তাহান্তের কোনো ছোট আউটিংয়েও সমানভাবে মানিয়ে যায়। ফলে হালকা কাপড়, ঢিলেঢালা কাটিং এবং সহজে স্টাইল করা যায়, এমন নকশার চাহিদা বাড়ছে।

নীল রঙে বর্ষার আবহ

বর্ষার রঙ বলতে সবার মনেই প্রথম আসে নীল। কারণ আকাশ, নদী, বৃষ্টিভেজা বিকাল কিংবা মেঘলা সকালের সঙ্গে এই রঙের এক অদৃশ্য সম্পর্ক রয়েছে। তবে একরঙা নীল নয়, বরং স্কাই ব্লু, ডাস্টি ব্লু, ইন্ডিগো, স্টিল ব্লু কিংবা রয়্যাল ব্লু’র মতো বিভিন্ন শেড এখন বর্ষাকালের ফ্যাশনে বিশেষভাবে জায়গা করে নিচ্ছে। এই রঙগুলোর সঙ্গে যখন স্ক্রিন প্রিন্টের নকশা যুক্ত হয়, তখন পোশাকে তৈরি হয় ছিমছাম অথচ দারুণ এক ফ্যাশন। 

বর্ষার পোশাকে নীলের জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ এর বহুমাত্রিক ব্যবহার। যে কোনো সময় এটি মানিয়ে যায়। দিনের আলোয় হালকা নীল যেমন সতেজ অনুভূতি তৈরি করে, তেমনি সন্ধ্যার আড্ডায় গাঢ় নীল এনে দেয় এক জমকালো আবেদন। তাই একই রঙের ভিন্ন ভিন্ন শেড বিভিন্ন উপলক্ষের জন্য হয়ে উঠতে পারে আলাদা স্টাইল স্টেটমেন্ট। স্ক্রিন প্রিন্টে ফুল, পাতা, বিমূর্ত রেখা কিংবা লোকজ মোটিফের ব্যবহার সেই সৌন্দর্যকে আরও গভীর করে তোলে।

শাড়ি স্কার্ট কুর্তিতে আরামের নতুন রূপ 

মেঘলা দিনে চটজলদি আলমারি খুলে একটা সুতি কিংবা যেকোনো হালকা ফেব্রিকের প্রিন্টেড শাড়ি পরেই এখন মেয়েরা অনায়াসে চলে যাচ্ছে বন্ধুদের সাথে ক্যাফেতে কফি খেতে, বিকালের আড্ডায় কিংবা কোনো ঘরোয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। আবার অফিসেও চলে যাওয়া যায় সহজেই। 

এই ঋতুতে শাড়ির বাজারে সবচেয়ে বেশি রাজত্ব করে নীলের নানা রকম শেড- আকাশি, ময়ূরকণ্ঠী থেকে শুরু করে গাঢ় রয়্যাল ব্লু। আর এই শাড়িগুলোতে যখন স্ক্রিন প্রিন্টের মাধ্যমে কদম ফুল, পাতা, মেঘের ছোঁয়া কিংবা চমৎকার সব বিমূর্ত নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়, তখন তা যেন এই বর্ষাকালের রূপের সাথে একবারে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। কাপড়ের এই হালকা চাল আর নকশার স্নিগ্ধতাই পুরো সাজে একটা প্রাকৃতিক উৎসবের আমেজ এনে দেয়।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এই ধরনের শাড়ির সাথে আপনাকে আলাদা করে খুব বেশি সাজগোজ বা গয়নাগাটি নিয়ে একদমই মাথা ঘামাতে হবে না। শাড়ির প্রিন্টটাই নিজের মধ্যে একটা স্টেটমেন্ট। এর সাথে খুব সাধারণ কাটের একটা ম্যাচিং বা কনট্রাস্ট ব্লাউজ, কানে হালকা কোনো ধাতব দুল, হাতে দু-গাছা চুড়ি আর পায়ে এক জোড়া ফ্ল্যাট বা আরামদায়ক স্যান্ডেল গলিয়ে নিলেই কোনো বাড়তি আতিশয্য ছাড়াই আপনি যেকোনো আড্ডায় হয়ে উঠবেন অনন্যা ও স্নিগ্ধ। 

একইভাবে স্কার্টও তরুণীদের বর্ষাকালের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। লং স্কার্টের সঙ্গে সলিড রঙের টপ বা ছোট কুর্তি মিলিয়ে তৈরি করা যায় স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ লুক। বৃষ্টির দিনে ভারি পোশাকের পরিবর্তে হালকা ও বাতাস চলাচল উপযোগী কাপড়ের স্কার্ট চলাফেরাকে সহজ করে। বিশেষ করে স্ক্রিন প্রিন্টের সূক্ষ্ম কাজ পোশাকে যোগ করে একটি হস্তশিল্পনির্ভর সৌন্দর্যÑ যা সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যারা এখনও শিক্ষার্থী তারা নিশ্চিন্তে ক্লাস বা কোচিংয়ের মতো জায়গায় স্কার্ট পরতে পারেন নিশ্চিন্তে। 

বাদলা দিনের পোশাক নিয়ে দারুণ কাজ করছে আর্টেমিস। কী ধরনের পোশাক, নকশা নিয়ে এবার আর্টেমিস কাজ করছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তারুণ্যের পছন্দের এই ব্র্যান্ডের কর্ণধার ফাইজা আহমেদ বলেন, বর্ষা উপলক্ষে এবার আর্টেমিসে আমরা শাড়ি, স্কার্ট, টপস, কুর্তি ও শার্টসহ বেশ কিছু নতুন পোশাক এনেছি। পুরো কালেকশনটাই সাজানো হয়েছে বর্ষার রঙ, অনুভূতি আর প্রকৃতির ছোট ছোট গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। নকশায় আমরা প্রাধান্য দিয়েছি বৃষ্টি, মেঘ, নীল আকাশ, কাগজের নৌকা ও কদম ফুলের মতো বর্ষার পরিচিত মোটিফগুলোকে। প্রতিটি পোশাকে চেষ্টা করা হয়েছে বর্ষার সেই স্নিগ্ধতা, নস্টালজিয়া আর আরামদায়ক অনুভূতিটা ফুটিয়ে তুলতে। রঙের ক্ষেত্রে হালকা নীল, আকাশি, সবুজ, সাদা, মেঘলা ধূসরসহ বর্ষার নরম ও শান্ত রঙগুলো বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু পোশাকে উজ্জ্বল রঙের ছোঁয়াও রাখা হয়েছে, যেন বর্ষার মুডের সঙ্গে স্টাইলেও একটু প্রাণবন্ততা আসে।

দৈনন্দিন পোশাকের তালিকায় কুর্তির অবস্থান সব সময়ই স্বতন্ত্র। কর্মজীবী নারী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী সব বয়সী নারীর কাছেই এটি আরাম ও স্টাইলের সমন্বিত একটি পোশাক। বিশেষ করে বর্ষাকালে হালকা কটন বা কটন-ব্লেন্ড ফেব্রিকের কুর্তি স্বস্তি দেয়, একই সঙ্গে আর্দ্র আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে চলতেও সহায়তা করে। এ সময় নীলের বিভিন্ন শেডে তৈরি কুর্তিতে সূক্ষ্ম স্ক্রিন প্রিন্টের ব্যবহার চোখে পড়ে বেশি। কখনও ফুল-লতার মোটিফ, কখনো জ্যামিতিক নকশা, আবার কখনো লোকজ শিল্পের অনুপ্রেরণায় তৈরি প্রিন্ট- সব মিলিয়ে কুর্তিগুলো দেয় পরিমিত অথচ নান্দনিক একটা লুক। 

স্টাইলিংয়ের ক্ষেত্রেও এই পোশাকের রয়েছে নানা সম্ভাবনা। সাদা পালাজো, স্ট্রেইট প্যান্ট, ডেনিম কিংবা কটন ট্রাউজারের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায় নীল কুর্তি। রোজকার অফিস, ছুটির বিকালের আড্ডা কিংবা ছোট্ট আউটিং- সবজায়গার উপযোগী এই পোশাক। যারা সাজে সরলতা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই ধরনের কুর্তি যেমন উপযুক্ত, তেমনি সামান্য কিছু অনুষঙ্গ যোগ করে একই পোশাকে সহজেই আনা যায় ভিন্ন মাত্রা।

দেশীয় নকশায় বর্ষার ফ্যাশনের নতুন ভাষা

দেশীয় ফ্যাশনে স্ক্রিন প্রিন্ট নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই মাধ্যমটি নতুনভাবে ফিরে এসেছে। ডিজিটাল প্রিন্টের একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে অনেক ডিজাইনারই আবার হাতে তৈরি নকশা ও স্ক্রিন প্রিন্টের দিকে ঝুঁকছেন। এতে যেমন রঙের গভীরতা বজায় থাকে, তেমনি প্রতিটি মোটিফেও থাকে শিল্পীর ছোঁয়া। বর্ষার পোশাকে এই ধরনের নকশা প্রকৃতির সঙ্গে এক ধরনের সংযোগ তৈরি করে, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিত্বকেও আলাদাভাবে প্রকাশ করে।

সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচি আর চাহিদার এই যে দারুণ বদল, একে মাথায় রেখেই আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো এখন তাদের ঋতুভিত্তিক কালেকশনের ওপর জোর দিচ্ছে। বর্ষা মানেই তো শুধু মেঘের ঘনঘটা নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া আর ভ্যাপসা গরমের চ্যালেঞ্জ। তাই ফ্যাশন ডিজাইনাররা এখন এমন সব পোশাক তৈরিতে মন দিচ্ছেন যা একই সাথে ট্রেন্ডি এবং ভীষণ আরামদায়ক। মূলত চারটি মূল স্তম্ভের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে এবারের বর্ষার ফ্যাশন। প্রথমত গা-জুড়ানো আরামদায়ক মেটেরিয়াল, দ্বিতীয়ত ছিমছাম ও জুতসই কাটছাঁট, তৃতীয়ত প্রকৃতির ক্যানভাস থেকে ধার করা স্নিগ্ধ সব রঙ এবং চার নম্বরে আছে নান্দনিক স্ক্রিন বা ব্লক প্রিন্ট। এই চার উপাদানের মেলবন্ধনে তৈরি পোশাকগুলো এখন আর কেবল নান্দনিকতার অংশ নয়; বরং তা দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য ও ব্যবহারিক প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

ফাইজা আরও বলেন, ম্যাটেরিয়ালের ক্ষেত্রে আমরা সুতি ফেব্রিককে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ বর্ষাকাল হলেও আমাদের আবহাওয়া এখন বেশ গরম ও আর্দ্র। তাই হালকা রঙের সুতি পোশাক দৈনন্দিন ব্যবহার, আউটিং কিংবা ছোট আয়োজনেও খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ক্যারি করা যাবে। মোট কথা, আর্টেমিসের এই বর্ষা কালেকশন আরাম, দেশি মোটিফ আর ইউনিক ডিজাইনের একটা সুন্দর মেলবন্ধন।

সুতি, লিনেন বা সেমি-পিওর জর্জেটের মতো হালকা ও কোমল কাপড়ে তৈরি হওয়ায় এই পোশাকগুলো গায়ে জড়িয়ে আপনি অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারেন সারাদিন। কর্মব্যস্ত কোনো দিন শেষে হুট করে ক্যাফেতে বন্ধুদের আড্ডায় চলে যাওয়া হোক, বিকালে একটু ঘুরতে যাওয়া কিংবা সপ্তাহান্তের ছুটির দিনে ছোট্ট কোনো আউটিং সব জায়গাতেই এই পোশাকগুলো আপনার পরম বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠবে। সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হলোÑ আমাদের চিরায়ত ঐতিহ্যবাহী নকশার সাথে সমকালীন আধুনিক রুচির একটা চমৎকার ফিউশন ঘটানো হয়েছে এই কালেকশনগুলোতে। ফলে পুরো সংগ্রহের কোথাও কোনো জবরজং ভাব নেই, বরং বর্ষার চিরন্তন রূপটি ধরা দিয়েছে এক পরিমিত, মার্জিত ও আভিজাত্যপূর্ণ উপস্থাপনায়।

এই ঋতুতে জমকালো চাকচিক্য কিংবা অতিরিক্ত জমকালো ধাঁচের চেয়ে অনেক বেশি দামি হলো একটুখানি স্বস্তি। আর উগ্র কোনো সাজ বা অতিরঞ্জনের চেয়ে এখানে ঢের বেশি মূল্য পায় মানুষের সহজাত ও স্বাভাবিক সৌন্দর্য। তাই তো রিমঝিম বৃষ্টিভেজা দিনে বন্ধুদের সাথে জমিয়ে আড্ডা দেওয়ার সময় একটি হালকা নীল রঙের প্রিন্টেড শাড়ি, মিষ্টি রঙের কোনো স্কার্ট কিংবা একটি ফুরফুরে আরামদায়ক কুর্তি কেবলই সুতো আর কাপড়ের তৈরি পোশাক থাকে না; বরং তা হয়ে ওঠে বর্ষার স্নিগ্ধ অনুভূতিকে নিজের মনে ধারণ করার এক নীরব চমৎকার ভাষা। যখন আকাশের মেঘলা রঙ, মাটির সোঁদা গন্ধ, দেশীয় কারিগরদের নিখুঁত নকশা এবং আমাদের আধুনিক জীবনযাপন একই সুতোয় এসে মিলে যায়, তখন বর্ষার প্রতিটি ছোটখাটো মুহূর্ত হয়ে ওঠে আরও বেশি মায়াবী, আরও বেশি প্রাণবন্ত। 


মডেল : ফাইজা আহমেদ

ছবি ও পোশাক : আর্টেমিস


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা