আবিদা জান্নাত নিসা
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৬:০৭ পিএম
মেঘলা দিনের গহনা বিলাস
বর্ষাকাল। আকাশজুড়ে মেঘের পর মেঘ। নামছে বৃষ্টিও। প্রকৃতিও যেন সেজেছে তার পছন্দের সাজ, পড়েছে নীল শাড়ির সঙ্গে সাদা মেঘের গহনা। এমন মেঘলা দিনে আপনিও হয়তো চিন্তায় পড়ে যান- কোন কাপড়টি পরবেন, কোন গহনা তার সঙ্গে মানাবে কিংবা অফিস থেকে সরাসরি কোনো অনুষ্ঠানে যেতে হলে কীভাবে নিজেকে সাজাবেন। যেন বৃষ্টির পানি আর কাদায় সেগুলো নষ্ট না হয়। এসব নিয়ে ফ্যাশনপ্রেমীদের চিন্তার শেষ নেই। তবে সঠিক গাইডলাইন জানা থাকলে বর্ষার স্টাইলিং হতে পারে একেবারেই সহজ ও ঝামেলাহীন।
এ সময়ে গহনা কেন আলাদা গুরুত্ব পাবে
বর্ষার এই সময়টায় শাড়ি, কামিজ কিংবা টপস যে পোশাকই পরা হোক না কেন, তা অবশ্যই হতে হবে হালকা কাপড়ের যেন সহজেই শুকিয়ে যায়। অন্যদিকে মেকআপের ক্ষেত্রেও হতে হবে পরিমিত যেন বর্ষার আর্দ্রতায় অস্বস্তিবোধ না হয়। তাই আপনার লুকটিকে আকর্ষণীয় করতে বেশি মনোযোগ দিতে হবে গহনার দিকে। যেন গহনার উপস্থিতিতে খুব সাধারণ পোশাকেও আপনাকে লাগে অসাধারণ। এখন প্রশ্ন আসে আমরা এ সময়ে কী ধরনের গহনা পরতে পারি; যা বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হবে না এবং আবহাওয়ার সঙ্গেও হবে মানানসই-
আভিজাত্যের রুপা ও ব্রাস
মেঘলা দিনে রুপার গহনার চেয়ে ক্লাসিক আর কিছুই হতে পারে না। বৃষ্টির দিনে সুতি, লিনেন বা হালকা কাজের নীলাম্বরী শাড়ির সঙ্গে অক্সিডাইজড বা ভিন্টেজ ডিজাইনের রুপার বড় ঝুমকো, গলার চোকার কিংবা একটা টানা নথ আপনার সাজে এনে দেবে এক বর্ষামঙ্গলের আবহ। ঠিক একইভাবে ব্রাসের (পিতল) গহনাও এই মৌসুমে এক ইউনিক ও ফিউশন লুক দেয়। মেঘের ধূসর ক্যানভাসে রুপা বা ব্রাসের মেটালিক দ্যুতি দারুণ ফুটে ওঠে।
মাটির গহনার চেনা গন্ধ
বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা যখন শুকনো মাটিতে পড়ে তখন যে সোঁদা গন্ধ বের হয়, মাটির গহনা যেন ঠিক সেই অনুভূতিরই এক শৈল্পিক রূপ। মেঘলা দিনে একরঙা কুর্তি বা সুতি শাড়ির সঙ্গে টেরাকোটা বা পোড়ামাটির গহনা দারুণ মানায়। বিশেষ করে মাটির তৈরি বড় লকেট বা ঝুমকোয় যখন বর্ষার থিম (যেমন কদম ফুল, ময়ূর বা মেঘ-বৃষ্টির নকশা) থাকে, তখন সেই সাজ হয়ে ওঠে আরও নান্দনিক ও বর্ষামুখর।
সব আয়োজনে মুক্তার গহনা
মুক্তার গহনা সব ধরনের ও সব রঙের পোশাকের সঙ্গে অনায়াসে মানিয়ে যায়। বিশেষ করে বর্ষার এই সময়ে যে ধরনের কালার প্যালেটের বা ফেব্রিকের পোশাক পরা হয়, সেগুলোর সঙ্গে মুক্তার গহনা যেমন কানের দুল, মালা, হাতের ব্রেসলেট খুব সহজেই পরা যায়। এ ছাড়া অফিস, বন্ধুদের আড্ডা কিংবা যেকোনো অনুষ্ঠানেও মুক্তার গহনার কদর অতুলনীয়।
পাথরের গহনায় ক্লাসি লুক
মেঘলা দিনে আকাশ যখন ম্লান থাকে, নানা রঙের পাথরের গহনা তখন আপনার সাজের একঘেয়েমি ভাবকে অনেকটাই দূর করবে। পোশাক যদি খুব বেশি চড়া রঙের না পরেন, তবে কানে বা গলায় পরতে পারেন রঙিন পাথরের গহনা। পান্না সবুজ, রুবি লাল বা ফিরোজা রঙের পাথর মেঘলা দিনের ম্যাট লুকে এক ধরনের উজ্জ্বল ভাব এনে দেয়।
ট্রেন্ডি ও রঙিন কাঠের গহনা
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণীদের কাছে এখন অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কাঠের হাতে তৈরি গহনা। হালকা ও রঙিন হওয়ায় শাড়ি থেকে শুরু করে টপস-জিন্সের সঙ্গেও এটি দারুণ মানিয়ে যায়। অনেকেই ভাবেন কাঠের গহনা শুধু উৎসব-পার্বণেই চলে, কিন্তু এটি সাধারণ প্রতিদিনের সাজেও সমান আকর্ষণীয়। পোশাক যদি হয় একরঙা, তবে বিভিন্ন রঙের কাঠের গহনা অনায়াসে পরা যায়। আবার পোশাক যদি খুব রঙিন হয়, তবে পোশাকে যে রঙের আধিক্য কম, সেই রঙের কাঠের গহনায় সাজ হয়ে উঠবে মোহনীয়।
বর্ষায় গহনা নির্বাচন ও যত্ন নেবেন যেভাবে
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় গহনা পরার আনন্দ যেন মাটি না হয়ে যায়, সেজন্য কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি :
বর্ষার আর্দ্রতায় অস্বস্তি এড়াতে হালকা ওজনের গহনা বেছে নিন, পানিতে ভিজলে নষ্ট হয় না- এমন ধরনের ম্যাটেরিয়ালে তৈরি গহনা যেমন রুপা, ব্রাস, পাথর, মুক্তাÑ এগুলোকে বেশি প্রাধান্য দিন।
মেকআপ বা পারফিউম শুকানোর পর গহনা পরিধান করুন; যাতে সেগুলো আপনার পছন্দের গহনাতে লেগে তা নষ্ট না হয়।
গহনা মাটির, সুতার ও কাঠের হলে বৃষ্টির পানি এবং স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া থেকে দূরে রাখা জরুরি। ব্যবহার শেষে সব গহনাই নরম কাপড়ে মুছে, শুকিয়ে বাতাস ঢুকতে পারে না এমন প্যাকেটে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করুন; যাতে গহনার রঙ ঠিক থাকে। ফাঙ্গাস ও পোকামাকড় থেকে বাঁচাতে গহনার বাক্সে সিলিকা জেল বা ন্যাপথলিন রাখুন।
মডেল : বীনায়রা বীনা, নিশাত আনজুম