ডা. তাজরীন জাহান
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৬:০০ পিএম
ত্বকের জন্য সঠিক ময়েশ্চারাইজার
ত্বকের সুস্থতা ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাজারে জেল, ক্রিম, লোশনসহ নানা ধরনের ময়েশ্চারাইজার থাকায় অনেকেই বুঝতে পারেন না, কোনটি তাদের ত্বকের জন্য উপযুক্ত। সঠিক ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন না করলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, তৈলাক্ত বা ব্রণের প্রবণতাও বেড়ে যেতে পারে। তাই নিজের ত্বকের ধরন বুঝে পণ্য বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
জেল বনাম ক্রিম : মূল পার্থক্য কোথায়
জেল ও ক্রিম ময়েশ্চারাইজারের মূল পার্থক্য লুকিয়ে আছে এদের উপাদান ও ফর্মুলেশনে।
জেল ময়েশ্চারাইজার : এগুলো সাধারণত জলভিত্তিক ও অত্যন্ত হালকা হয়। এতে তেলের পরিমাণ থাকে না বললেই চলে। ত্বক খুব দ্রুত এটি শুষে নেয় এবং কোনো আঠালো বা তেলতেলে ভাব রেখে যায় না। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, ব্রণপ্রবণ বা মিশ্র ধরনের, তাদের জন্য জেল ময়েশ্চারাইজার বেশ কার্যকর। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায়ও এটি আরামদায়ক অনুভূতি দেয়।
ক্রিম ময়েশ্চারাইজার : এগুলো মূলত তেল ও জলের মিশ্রণে তৈরি এবং বেশ ঘন প্রকৃতির হয়। এটি ত্বকের উপরিভাগে একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে, যা ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা বাতাসে উড়ে যেতে দেয় না। যাদের ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ বা বয়সের কারণে আর্দ্রতা কমে গেছে, তাদের জন্য ক্রিম সবচেয়ে উপযোগী। শীতকালে বা শুষ্ক আবহাওয়ায় ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও মসৃণ থাকে।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী নির্বাচন
তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বক : হালকা, নন-কমেডোজেনিক জেল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি ত্বককে ভারী না করেই হাইড্রেট করে এবং লোমকূপ বন্ধ করে না।
শুষ্ক ত্বক : ঘন ও আর্দ্রতাপূর্ণ ক্রিম বেছে নিন। শুষ্ক ত্বকে লিপিডের ঘাটতি থাকে। ক্রিম ময়েশ্চারাইজার সেই ঘাটতি পূরণ করে ত্বক নরম রাখে।
মিশ্র ত্বক : দিনের বেলায় জেল এবং রাতে হালকা ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।
সংবেদনশীল ত্বক : অ্যালকোহল ও সুগন্ধিমুক্ত জেল বা হাইপো অ্যালার্জেনিক লাইট ক্রিম বেছে নেওয়া উচিত।
ময়েশ্চারাইজার কেন জরুরি
অনেকের ধারণা, তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নেই। এটি ভুল ধারণা। সব ধরনের ত্বকেরই আর্দ্রতা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকলে ত্বকের সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যায়, জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা এবং ব্রণের সমস্যাও বাড়তে পারে।
ঋতু পরিবর্তনের ভূমিকা
অনেকে সারা বছর একই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে থাকেন, কিন্তু শুধু ত্বকের ধরনই নয়, আবহাওয়াও ময়েশ্চারাইজার নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে।
গ্রীষ্মকাল : গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় আমাদের ত্বক স্বাভাবিকভাবেই বেশি ঘামে ও তেল তৈরি করে। এই সময়ে ভারী ক্রিম ব্যবহার করলে পোর ক্লগ হতে পারে এবং ব্রণের উপদ্রব বাড়তে পারে। তাই গরমের দিনে সবার জন্যই ‘জেল ময়েশ্চারাইজার’ সেরা পছন্দ।
শীতকাল : শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এই সময়ে ত্বককে রুক্ষতার হাত থেকে বাঁচাতে ক্রিম ময়েশ্চারাইজার ভালো। এমনকি তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদেরও শীতকালে হালকা কোনো ক্রিম বা লোশন বেছে নিতে হতে পারে।
কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ
মুখ ধোয়ার পর হালকা ভেজা ত্বকে বা টোনার অ্যাপ্লাইয়ের পর ময়েশ্চারাইজার লাগালে এটি ভালোভাবে কাজ করে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। পাশাপাশি দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বক আরও সুরক্ষিত থাকে।