প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
চিত্রকর্ম: কামরুল হাসান
বৃষ্টি এলে
মুহম্মদ নূরুল হুদা
বাবার বাড়ির ছাদ যখন আকাশ
আমি তখন খুঁজি আমার ঘর,
সাগর বলে কোথায় তোমার বাস
বাড়ি আমার চরের পরে চর
ততক্ষণে বৃষ্টি আনে কর্ণফুলীর ঢল
ছুটতে ছুটতে কুড়াই বাবার ছাতা
জোড়পুকুরে ফেনার কোলাহল
চড়ুই নীড়ের সুরক্ষা দেয় পাতা
মানুষ চড়ুই নিরাশ্রয় নয় নিজে
উঠোন জুড়ে জলে সে সাঁতরায়;
বৃষ্টিতে সব উড়ু ডানা ভিজে
যখন ক্লান্ত, পায়রারা কাতরায়;
কবির বাড়ি বাবার বাড়ির ছাদ
বৃষ্টি এলে কবির ছাদে কবিতা আবাদ
উত্তরাধিকার
শাহাবুদ্দীন নাগরী
এ জমিন রক্তঋণ ছুঁয়ে যায় বাতাসের দোলা,
বাবার শরীরী ঘ্রাণ ছুঁয়ে থাকে কাঠের লাঙল,
বীজের শস্যগুণ সেচের জলে থাকে তোলা,
দোআঁশ মাটির স্বপ্ন ঘাম মোছে শাড়ির আঁচল।
শস্য উঠলে ঘরে একজোড়া সোনার বালায়
ঘরের অপূর্ণ সাধ মেটাবার দীর্ঘ নিঃশ্বাস,
বর্ষার আগে আগে উঠবে টিন খড়ের চালায়,
এ জমিনে সুপ্ত আছে প্রকৃতির নির্মম গ্রাস।
বর্ষার উজানি ঢলে জলে ডোবে স্বপ্নের খনি,
দরিয়ার সঙ্গে ছিল বাবার যুদ্ধ চিরকাল,
প্লাবনের অহংকার ঘূর্ণি তার চিরায়ত ধ্বনি,
ধরেছি লাঙল তবু জমিনের নতুন রাখাল।
নদী মেঘ বৃষ্টি
রেজা ফারুক
তুমি বেরিয়ে ছিলে নদীর খোঁজে কই নদী
তুমি বেরিয়ে ছিলে মেঘের খোঁজে কোথায় মেঘ
তুমি বেরিয়ে ছিলে বৃষ্টির খোঁজে
বৃষ্টি কই-ছই নৌকোর
ছাদে রোদ, রেলিঙে রুমাল
শুদ্ধ ভোর, টেরাকোটা মন
দূরে সমুদ্র ছিলো ঝাউবন
শৈল শহর ছিলে না তুমি
কেন ছিলে না
তুমি কি নদী
তুমি কি মেঘ
তুমি কি বৃষ্টি
অঝোর কান্না ভুবনচিল
নয়ানজুলি কিছুটা নীল
জানি তো, জানি তুমি
করোনা ফিল্
মাঠ হাওয়া, এক পশলা ছায়াহীন
পাশ ফিরে শোয়, ডুকরে কাঁদে
মেঘশিরিষ আর নদীর ঋণ!
শ্রাবণা যেভাবে নদী হয়ে গেল
সাখাওয়াত টিপু
যদিও শ্রাবণা, একবার নদীতে যে নামে
সাঁতার না কেটে তার ফিরবার পথ নেই
ফলে সাঁতারুর কাছে সব
নদীর প্রতিটি বাঁকই নতুন!
নদী জানে কতটা গভীরে গেলে ঘূর্ণিটানে
হারিয়ে হারিয়ে যায় হিপহপ দোলার সম্বিৎ
জানি, ভাটা কিংবা জাগরণ ছাড়া
কখনো স্রোতের মিলন সম্ভব নয়
আর কোজাগর রাতে স্রোত মাত্র উষ্ণ উরুমুখী
আর বিচিত্র রহস্যঘেরা নিম্নগামী চরাচরে জল
কত উষ্ণ হলে ছলকে ছলকে
ওঠে উজান বিদ্যুৎ!
সেই সন্ধিযুগ থেকে আমরা সাঁতার কাটলাম
যেভাবে কাটলে সময় পালটে দেয়
সহস্র আহ্নিক গতি
আনন্দ তখনি প্রেম
জলকণা যখন নৃত্য রোমাঞ্চকর!
নিত্য এই খেলা বোঝে শুধু সত্যস্পর্শগামী নদী
স্মৃতিটুকু উষ্ণ আমাদের বাকিটুকু মৌসুমি সঙ্গম
বর্ষা না তুমি?
হোসেন শহীদ মজনু
ক.
হাসছো তুমি, পরক্ষণেই
চোখে তোমার
মহানন্দা কিংবা ধরো
বুড়িগঙ্গার জল
হাতড়ে মরি, ‘কামনীয়’
মোমের শরীর
তবুও যে নিখোঁজ-অচীন
মনের তল!
খ.
মাথা রেখেও তোমারই কোলে
যায় না পড়া মন ও মুখের কথা
যেমন ধরো প্রায়ই যায়
ভুলে
বাদল দিনের গুপ্ত কষ্ট-ব্যথা!
গ.
আছি যে পাশাপাশি, তারপরও
নেই তুমি
মেঘের খামে পাঠাই একলা
মনের চিঠি,
বৃষ্টিভেজা প্রেম-আখ্যান
রোদে দেয় চুমি
তুমিও কি আসবে; জড়িয়ে
আষাঢ়-দিঠি?
ঘ.
বর্ষা না তুমি? কে কার
চেয়ে জটিল
অঝোর ধারায় নিমিষেই
বদল শরীর
এই বৃষ্টি; এই রোদ;
প্রেমেতে সুশীল;
মেঘ-কালো মুখেই ফের
রাঙা আবীর!
বিদ্যুৎলতা
রাগীব হাসান
বিদ্যুৎলতা, ওই ছিল
তার ঔদ্ধত্য
প্রকম্পিত পায়ে এগিয়ে
গিয়েছিল ….
বিদ্যুৎলতা, তুমি স্তম্ভিত
ছিলে
চারিধারে সৌন্দর্য ঝরে
পড়েছে ….
সে কণা কণা সংগ্রহ করতে
চেয়েছেÑ
সে এখনও মাঝেমধ্যে দেখে
কালো আকাশে ঝুলে আছে
একটা স্বর্গ উদ্যান
শহরে বৃষ্টি
স্নিগ্ধা বাউল
আজকাল বৃষ্টি হলে আমি
ঠিক, টের পাই না
নিজের ভিতরে যে বৃষ্টি বইছে, তারে দেখি
বৃষ্টি হলে আমি জানালা খুলি না
যে জানালায় একটা দোয়েল বসে আছে
অকস্মাৎ ভয় লাগে যদি, পাখিটা উড়ে যায়!
প্রত্যাশায় থাকা রঙিন
কাপড়
অবাক বৃষ্টিতে থাকুক,
অন্তত তারা ভিজুক
বাতাসে উড়তে উড়তে টিকে থাকুক
শেষ অবধি! বুঝুক প্রাণহীন জামার রক্তবীজ
উদ্যত শ্রাবণে ঝলসে যাক বারান্দার অপরাজিতা
বেলিগুলো ভিজুক রক্তজবা হবার সাধ নিয়ে!
শহরে বৃষ্টি হলে আমি বরং ল্যাম্পপোস্ট দেখি
জলের বিন্দু দৃশ্যমান হয় আলোর কাছে
ব্যবধানে থাকা জলের দূরত্বে মধ্যখানে আমার চোখ
বাসা বাঁধে অনাগত চড়ুই পাখির মেদ
বৃষ্টি হলে শহরে-বন্দরে নোঙর করে, দুঃখ
যারা নাই তারা স্পষ্ট হয় ছাইচাপা অভিমানে
বৃষ্টি হলে অভিমান বাড়ে লোভ হয়
ঝকঝকে দোটানা মন বিরহী পাখি হয়
তারপর আধমরা ভিজে আশ্রয় খোঁজে
আশ্রয়হীন আমি তাই আর বৃষ্টি দেখি না
বৃষ্টির জলে কষ্টের শেষ হতে দেই না!
ঘর
নিজাম বিশ্বাস
এ শহরে এতো ঘর
কোনটাতে তুমি থাকো,
এ ঘোর বরষা দিনে
মুখ রাখো কোন জানালায়,
ঝুমঝুম বৃষ্টি দেখে
আনমনে কাকে ভাবো-
পথে যাকে দেখেছিলে
সে মনের অগোচরে এসে
সশব্দে বিজলি চমকায়?
আদম শুমারী হলে
সচিত্র তালিকা দেখে
তোমার আদল খোঁজে
ঘরহারা যাযাবর চোখ,
যে যুবক বাসস্টপে
একবার দেখেছিল
তুমিও দেখেছো তাকে,
সে বোঝে না এতো ঘর কেন,
কেন এতো দরোজা শহরে!
বরষার ডাক
ওয়াহিদা বানু স্বপ্না
আসিছে বরষা ফিরিছে ভরসা
আসিছে প্রাণের বাদল
দিনে
ব্যাকুল প্রাণের মাঝে
রিমঝিম বৃষ্টি ধারা
নামে
কদম ফুলের পাপড়িতে
প্রণয়ের স্মৃতিরা জমে
আবার আসিবে প্রাণের
মেলা
দু’কূল উছলিয়া আনন্দ
ভেলা
উজাড় করে দেবার সময়
এই বরষায় মন দেয়া নেয়া
শুনিতে কি পাও প্রাণের
স্পন্দন
ঘন ঘোর
বাদলের ঘন ঘটায়
বারে বারে তারে ধরিতে
যদি চাও- জীবন ভরে
বেঁধে রাখ তারে প্রাণের
কুঠিরে
একান্ত আপনার করে।
বাঁধিবে কি বাসা মিটিবে
কি আশা
প্রণয় সুবাসে ভাসিয়ে
তিমিরে
প্রাণের পরে প্রাণ ঢেলে
বরষা আবারও রিক্ত হাতে
দান করিবে অকাতরে ভরসা।