× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কলরব ও স্বচ্ছতায়

প্রকৃতির কাছে বিষয়ের খোঁজে

ইমতিয়ার শামীম

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

শিল্পী আবুল বারক আলভীর চিত্রকর্ম 'ফরম দ্য নেচার'

শিল্পী আবুল বারক আলভীর চিত্রকর্ম 'ফরম দ্য নেচার'

এখন আষাঢ়, মেঘকালো আকাশের অবারিত ছাউনি যদিও এই মহানগরে চোখজুড়ে দোল খায় না; হঠাৎ মেঘের ডাক শুনলে কিংবা বৃষ্টির ছাঁট এসে পড়লেও আমরা টের পাই না, এমন একটি ঋতুও আছে আমাদের জীবনে।

জানি না, কতজনের স্মৃতিতে আছে এই সঞ্চয়Ñ গ্রামের উন্মুক্ত প্রান্তরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি কালো হয়ে উঠছে আকাশ, দিব্যি টের পাচ্ছি এখনই বৃষ্টি আসবে ঝেঁপে, বালক-বালিকা তাকে ধান মেপে দেবে কি দেবে না, সেসবের তোয়াক্কা না করে নামতে থাকবে সে। বৃষ্টি নামবার আগেই টের পাচ্ছি বৃষ্টির শব্দ; কাছাকাছি কোনো প্রান্তর, গ্রাম, মাঠ, বনে ঝরতে শুরু করেছে ঝমঝমিয়ে; এক সঙ্গী আরেক সঙ্গীর দিকে তাকিয়ে, ‘দৌড়াÑ বৃষ্টি আসছে রে...’ বলেই ছুটতে শুরু করেছি, পাল্লা দিচ্ছি, বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছি, ভালো লাগার অনুষঙ্গ হওয়ার পরও প্রতিদ্বন্দ্বী যে এই বৃষ্টি!

কিন্তু এই মহানগরের বৃষ্টি অন্যরকম, একেবারেই অন্যরকম; সেই কবে সত্তরের দশকে এই নগরের বৃষ্টিকে কবি শহীদ কাদরীর মনে হয়েছিল মূর্তিমান সন্ত্রাসÑ অকপটে তার কবিতায় লিখেছিলেন তিনি, ‘সহসা সন্ত্রাস ছুঁলো। ঘর-ফেরা রঙিন সন্ধ্যার ভিড়ে/ যারা তন্দ্রালস দিগ্বিদিক ছুটলো, চৌদিকে/ ঝাঁকে ঝাঁকে লাল আরশোলার মতো যেন বা মড়কে/ শহর উজাড় হবে,Ñ/...।’ বৃষ্টি নগরের কবি শহীদ কাদরীর কাছে এমন এক সন্ত্রাস, যে সন্ত্রাসে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকা নিরীহ নাগরিকদের তার মনে হয়েছে ঝাঁক ঝাঁক লাল আরশোলা! সেই সত্তরের দশক পেরিয়ে আমরা এখন বাস করছি নতুন শতাব্দীর তৃতীয় দশকে। নতুন কোনো কবি হয়তো বলতে পারবেন, লাল আরশোলা বিবর্তিত হয়ে এখন কী হয়েছে! 

আজ যখন এই মহানগরে প্রকৃতির এই ‘সন্ত্রাস’ শুরু হলো, বুঝলাম, নাগরিক হতে এখনও ঢের বাকি আমার। নইলে শহীদ কাদরী নয়Ñ আমার কেন মনে হলো বরং ‘বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণের’ সেই বৃষ্টিমুখর সময়ের কথা! মনে হলো সমরেশ বসুর ‘গঙ্গা’ কিংবা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’র সেই ভয়ংকর বৃষ্টিমুখর রাতের কথা, যখন সর্বজয়া দুর্গাকে বলেছিল, ‘পাশ ফিরে শো তো দুর্গা। বড্ড জল পড়ছে। একটু সরে পাশ ফের দিকি।’ এক থিরথির বিষণ্নতায় চারপাশ ভরে উঠল। তা হলে প্রকৃতিও লেখকের জন্যে ডেকে নিয়ে আসে কত বিষয়-আশয়! এমন বৃষ্টি আসে বলেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মনে একদিন এই কবিতা এসেছিল, ‘দিনের আলো নিবে এল,/সূয্যি ডোবে-ডোবে।/আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে/চাঁদের লোভে লোভে।’ এক অজানা অনুভূতি ভর করে এখনও এই কবিতার কথা মনে হলে, এখনও অব্যক্ত স্বরে বলে উঠি, ‘না জানি কোন্ নদীর ধারে,/ না জানি কোন্ দেশে,/ কোন্ ছেলেরে ঘুম পাড়াতে/ কে গাহিল গানÑ/ বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,/ নদেয় এলো বান।’ এমন বৃষ্টির কাল আছে বলেই তো সৈয়দ শামসুল হক লিখতে পেরেছেন এদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিশাল পটভূমিতে অমন ‘বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ’। মানুষ, সুদূর অতীত থেকে হেঁটে আসা মানুষ আর মুক্তিযুদ্ধে একাত্ম, লীন বৃষ্টি ও নদী এত প্রগাঢ়ভাবে আমাদের একাত্তর নিয়ে লেখা আর কোনো বইয়ে নেই। প্রকৃতিÑ এই বর্ষার প্রকৃতিও কী করে একাত্তরে এক যোদ্ধা হয়ে উঠেছিল তাও আমরা দিব্যি উপলব্ধি করি এ উপন্যাস থেকে। 

মনে হয় না, আমাদের এই বাংলাদেশে, এই ভূ-ভাগে, এই জনপদে প্রকৃতির সঙ্গে কি মানুষের, কি লেখকের যত নৈকট্য ও সম্পৃক্ততা আছে তা আর কোনো দেশের সাহিত্যে এত বেশি করে খুঁজে পাওয়া যাবে। মনে হয় না আর কোনো সাহিত্যে খুঁজে পাওয়া যাবে প্রকৃতির সঙ্গে এত তীব্র জীবনের সংগ্রাম, আবার বিপরীতে এত প্রগাঢ় রোমান্টিকতা। মানে অন্য কোনো সাহিত্যে নিশ্চয়ই আছেÑ কিন্তু তা আমার যেমন পড়া নেই, তেমনি প্রগাঢ়ভাবে উপলব্ধির ক্ষমতাও নেই। অন্য কোনো ভাষা ও সাহিত্যের আমি উপযুক্ত পাঠক নই, তাই তাতে নিষিক্তও হতে পারি না প্রবলভাবে। তাই চাঁদের লোভে লোভে আমি কেবল বাংলা ঘিরেই জুটতে পারি। যতদূর জানি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সবচেয়ে বেশি গান লিখেছেন এই বর্ষা-বাদল নিয়ে। এমন ভাবলে ভুল হবে যে, বর্ষা তাকে অনেক বেশি অবসর এনে দিত, তাই তিনি এত গান লিখতে পেরেছেন। শীতেও নিশ্চয়ই তার সময় হতো, কিন্তু সেই শীত ঋতুকে ঘিরে তিনি সংগীত রচনা করেছেন সবচেয়ে কম। পৌষ মেলা উপলক্ষে তিনি লিখেছিলেন, ‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে আয় রে ছুটে আয় চলে আয়।’ এটিই শীতকে ঘিরে তার বহুল শ্রুত সংগীত। কিন্তু বর্ষা যেন তার কাছে নিয়ে এসেছিল বন্যা আর ভাঙনের পরও জীবনের যত সম্ভার, যত সম্ভাবনা।

প্রকৃতি আর মানুষ ও তার সংগ্রাম এই বাংলার লেখকদের জন্যে এত বিষয়-আশয়ের সম্ভার সাজিয়ে বসেছে যে, তা বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু তার পরও অনেক সময়েই আমাদের লেখকরা লেখার বিষয় খুঁজে পান না, দিনের পর দিন তাদের কলম রুদ্ধ থাকে। মনে আছে, আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, সেই ১৯৮৩/৮৪ সালের দিক থেকেই শুনতাম, হাসান আজিজুল হকের নাকি ‘রাইটার্স ব্লক’ দেখা দিয়েছে। চারপাশে এত কিছু ঘটছে আর মানুষজনেরও সেসব নিয়ে এত ঔৎসুক্য রয়েছে, অথচ লেখক নাকি লেখার বিষয়-আশয় খুঁজে পাচ্ছেন না! কিন্তু একসময় আপনা থেকেই বুঝতে পেরেছি, প্রকৃতিকে যেমন টিকে থাকার জন্যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের পথে এগোতে হয়, লেখককেও তেমনি এক ধরনের নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই এগুতে হয়। একজন লেখক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলেন বটে, কিন্তু ঘটনার প্রবাহে ভেসে যান না, ঘটনাকে তিনি খনন করেন, বাছাই করেন, হৃদয়ে উচ্চারিত অসংখ্য শব্দের মধ্যে থেকে যথাশব্দ নির্বাচন করেন আর মনের মধ্যে সেজে ওঠা বাক্যের মধ্যে থেকে লাগসই একটি বাক্যই বেছে নেন। এই প্রক্রিয়া আসলে এত দ্রুত ঘটে যে, আমরা নিজেরাও অনেক সময় টের পাই না। পাওয়া সম্ভবও না। ঘটনা, শব্দ কিংবা বাক্য, যেটিই ভাবা যাক না কেন, লেখক তা গ্রহণ-বর্জন করেন একই সঙ্গে। তাই রাইটার্স ব্লক বলতে যা বোঝানো হয়, সত্যিকারের লেখকদের বোধ করি তা কখনোই ঘটে না। হতে পারে, তিনি আসলে প্রস্তুতি নেন, হতে পারে তার চোখ হয়ে ওঠে ‘উৎসুক পাখি ঝড়ের অন্ধকারে’, তিনি চান না পুরানো আখরেই আটকে থাকতে। এ এক কঠিন চ্যালেঞ্জÑ অনেক সময় দেখা যায়, অনেক অপেক্ষা করে, অনেক চিন্তা ও পরিভ্রমণের পর আপনি যা লিখলেন, তা আপনার প্রথম লেখার চেয়েও দুর্বল হয়ে গেল!

আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলামÑ এর পরপরই ছাপা হয়েছিল হাসান আজিজুল হকের ‘চালচিত্রের খুঁটিনাটি’Ñ যেটিকে না ফেলা যায় প্রবন্ধের সংজ্ঞায়, না ফেলা যায় গল্পের সংজ্ঞায়Ñ সেসব আসলে মনে হয়, বড় ক্যানভাসে কিছু লেখার জন্যে তার ব্যক্তিগত পরিভ্রমণ। তার নিজের ভাবনা অনুযায়ী, এ ছিল কোনোটি গল্পের বিকল্প, কোনোটি আবার প্রবন্ধের বিকল্প। তিনি দাবি করেছেন, এসব লেখাকে যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করা যাক না কেন, প্রতিটি রচনার লক্ষ্য ছিল লোকজীবনের ছবি তুলে আনা, না হলে সমাজের গতি-প্রকৃতির খানিকটা চিত্র তুলে ধরা। আমার কাছে তার এ লক্ষ্যকেও মনে হয়েছে তার ব্যক্তিগত পরিভ্রমণ, মনে হয়েছে আসলে তিনি তখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন উপন্যাসের মতো বড় কিছু লেখার। বাংলার এই প্রান্তে এসে তিনি যে জমিতে থিতু হয়েছিলেন, তিনি সেই ভূমিকে একটি উপন্যাসে হয়তো বা দেখতে চেয়েছিলেন মন খুলে, চোখ মেলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই নোট থেকে বেরিয়ে এসেছে লোকজীবনের খণ্ডবিখণ্ড চিত্র, আর সমাজজীবনের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে তার নিজের দিব্যজ্ঞান। ভূমিকায় তাই তাকে বলতে হয়েছে যে, ‘... সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদের কাজের ক্ষেত্রের উপর এই লেখাগুলি কখনো কখনো চড়াও হয়েছে। বিশেষজ্ঞের তত্ত্বজ্ঞানের যে অভাবটা দেখা গেছে, সেটা পূরণের চেষ্টা হয়েছে অল্পবিস্তর রসসিঞ্চনের দ্বারা।’ হাসানের এই বইটি, যেটি নিয়ে বলা চলে তার বিদগ্ধ পাঠককুল তেমন কিছুই বলেন না, তা ধরে রেখে রেখেছে একদিকে তার ফেলে আসা রাঢ়ভূমি, অন্যদিকে ধরে রেখেছে তার জীবনের নতুন প্রাপ্তি খুলনা-রাজশাহীময় দক্ষিণ ও উত্তর বঙ্গ। প্রতিটি পাতা সাক্ষ্য দিচ্ছে, কী নিবিড় করে চিনে নিয়েছেন তিনি তার নতুন মাটিকে, চারপাশের মানুষকে। এই বইয়ে তারাশঙ্কর, বিভূতিভূষণ, মানিক সবারই স্বাদু, মগ্ন, তীক্ষ্ন দৃষ্টি যেন মিলেমিশে আছে। এ বইয়ে প্রকৃতিকে যেভাবে উন্মোচন করেন হাসান, তা থেকে আবারও নিসংশয় হই, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের প্রকৃতিই বোধহয় সাহিত্যিকের কলমে উঠে আসার উপযোগী নয়, যতটা এই বাংলার। এ দেশের পটভূমিতে লিখতে গেলে প্রকৃতি আপনা থেকেই কলমে উঠে আসে, আর কোনো দেশের মতো হাতড়ে বেড়াতে হয় না। এখানকার প্রকৃতি তাকে নিয়ে লিখতে বাধ্য করে লেখককে। 

এই একই রকম প্রকৃতিময় ঘ্রাণ আর জীবনযাপনের আস্বাদ পাই সৈয়দ শামসুল হকের ‘বাংলার মুখ’-এ। অনেকে বলতে পারেন, এটি হয়তো সেই ‘হৃৎকলমের টানে’রই ধারাবাহিকতা। কিন্তু পড়তে গেলে মনে হয়, কোথায় যেন সূক্ষ্ম একটা পার্থক্যও রয়ে গেছে। ‘বাংলার মুখ’ অবশ্য বেশ পরে আরও কিছু লেখা যোগ করে বেরিয়েছিল ‘বিশাল বাংলা’ নামে। এদেশের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি, মুখোমুখি হয়েছেন কত শত মানুষেরÑ এ লেখাগুলোর কেন্দ্রে রয়েছে সেসব মানুষ। বাস্তব চরিত্র, ঘটনাও বাস্তবÑ কিন্তু বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি মেতে উঠেছেন লেখালেখির মতো কাটাকুটির খেলায়। একইভাবে মনে পড়ছে তার আরও একটি বইয়ের কথা, যেটির নাম ‘জলেশ্বরীর দিনপত্রী’। এসব বইকে কি কোনো প্রকরণে ফেলা যায়? হাসান আজিজুল হকের ‘চালচিত্রের খুঁটিনাটি’র মতো কিংবা আরও আগের সেই আবদুল জব্বারের ‘বাংলার চালচিত্রে’র মতো এগুলো কেবল ধরে রেখেছে জীবনকে, জীবনের বিষয়কে; হয়তো এসব একজন লেখকের আত্মগত রচনা কিংবা রোজনামচা, ঘুরেফিরে এই বাংলাকে দেখতে গিয়ে প্রকৃতি ছাড়িয়ে মানুষ আর তার মননে, জীবনযাপন আর সমাজের মধ্যে ঢুকে পড়া; আবার এ-ও বলা যায়, হয়তো কাগজের বুকে অক্ষরপাত করে রাখাÑ যার রূপ ভবিষ্যতে পাল্টে যাবে, এই খাতা প্রতিদিন নেড়েচেড়ে দেখতে দেখতে একদিন তার মাথার মধ্যে থেকে এমন কিছু লাফিয়ে বেরিয়ে আসবে যে, তার অপরূপা অথচ অপরিচিতা রূপে লেখক নিজেই হতবিহ্বল হয়ে পড়বেন। 

সৈয়দ শামসুল হক আর হাসান আজিজুল হকÑ বলা চলে দুজন দুই মেরুর লেখক, অন্য ভাষায় দেখতে গেলে দুই বাসিন্দার মানুষ। দুজনের লেখকজীবনের অন্বেষণ আর কমিটমেন্টের প্রকৃতিও আলাদা। কিন্তু তাদের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেছে তাদের রচনার ভূগোল আর প্রকৃতি। আমার নিজের বাড়ি চলনবিলের কাছাকাছি, তাই এই সুযোগে মনে করে নিতে চাই আরও এক মহান লেখককে। ‘চলনবিল’ নামে একটি বড় উপন্যাসের লেখক তিনি। সেই শত বছর আগের চলনবিলের রূপ ও মানুষের জলমগ্ন জীবনযাপন কী সুন্দরভাবেই না ধরা পড়েছে তার ওই বইটিতে। পাঠকরা তাকে অবশ্য চেনেন ‘কেরি সাহেবের মুন্সী’ নামের বইটির জন্যে; কিন্তু এই বাংলার প্রকৃতিময় জীবনযাপন চিনতে আমাদের ফিরতে হয় ‘চলনবিলে’র কাছে। তিনি প্রমথনাথ বিশী, আমাদের নাটোরের জোয়াড়ী গ্রামের এক জমিদার পরিবারের সন্তানÑ তবে ভাগ্য তাকে থিতু করেছিল পশ্চিমবঙ্গে।

কিন্তু বলছিলাম এই বর্ষার কথাÑ বলছিলাম লেখকের বিষয়ের কথা। সেসব ভাবতে ভাবতে এতদূর এসে বরং বিষয়ের ইতি টানতে ভিনদেশের সাহিত্যিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের কাছে ফিরি। সাংবাদিকদের লেখার বিষয়ের জন্যে মাথা খুঁড়তে হয়Ñএ চিন্তা করতে করতে তিনি লঘু ধাঁচের ছোটখাটো একটা গদ্য লিখেছিলেন, ‘বিষয়ের সন্ধানে’ নামে (অনুবাদ : শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়)। মার্কেস এই রচনা শুরু করেছিলেন যে-বাক্য দিয়ে, লেখার শেষপ্রান্তে ফিরে এসেছিলেন একই ভাবনার কাছে। ভাবনাটি শুরু করার সময় তার সঙ্গে ছিল সংবাদপত্র, সিগারেট আর দেশলাই। তবে ভাবতে ভাবতে লেখা শুরু করার আগে সঙ্গে আর কিছুই ছিল না, কেবল ভাবনার সেই প্রথম বাক্যটি ছাড়া : ‘অনেক সাংবাদিকই লিখতে বসে বিষয়ের অভাবে মাথা খুঁড়ে মরে।’

কবে শেষ হবে এই মাথা খোঁড়া? কীভাবে হবে? কে তা জানে? ‘শেষ নাহি যে, শেষ কথা কে বলবে?’


১১ আষাঢ় ১৪৩৩


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা