হাসনাত মোবারক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
পিসা ক্যাথেড্রাল
পশ্চিম ইউরোপের একটি দেশ ইতালি। এই দেশেরই শিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, মাইকেল এঞ্জেলো। রূপকথার বই থেকে আমরা জেনেছি দেশটির রোম ও ভেনিস নগরীর মজার মজার কত যে গল্প! এই দেশটির মানচিত্র দেখতে একদম হুবহু মানুষের পায়ে বুট-জুতোর মতো। এই দেশটির পরতে পরতে লুকিয়ে আছে কত যে বিস্ময়। এই যেমন সেখানকার পিসা শহরেই আছে হেলে থাকা একটা ভবন! যেটি দূর থেকে দেখেই গা শিউরে ওঠে! মনে হবে আরে এই বুঝি পড়ে যাবে। আদতে এই ভবনটি দীর্ঘকাল ধরে এই অবস্থাতেই আছে। পিসার এই হেলে থাকা ভবনটিকে সবাই পিসার হেলে থাকা টাওয়ার নামেই চেনে। কিন্তু এর স্থানীয় নাম ‘টরে পেনডেন্টে দ্য পিসা।’
প্রায় ৮৫০ বছর পুরনো এই ভবনটির উচ্চতার কথা জানলে চক্ষু চড়কগাছ না হয়ে উপায় নেই! হ্যাঁ, এর উচ্চতা একদিকে ৫৫ দশমিক ৮৬ মিটার, অন্যদিকে ৫৫ দশমিক ৬৭ মিটার। প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার টন ওজনের এই বাড়িটিতে সিঁড়ির সংখ্যাও ২৯৪ থেকে ২৯৬টি!
সুউচ্চ এই বাড়িটি শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষের মনে জন্ম দিয়েছে নানান কৌতূহল। পিসা ক্যাথেড্রালের ঘণ্টাযুক্ত এ টাওয়ারটি হেলে থাকার জন্য বিখ্যাত। মাটি থেকে এই ভবনটি প্রায় ৪ ডিগ্রি হেলানো। এটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে তিন ধাপে। সব মিলিয়ে সময় লেগেছে ১৯৯ বছরেরও বেশি। এর নির্মাণ শুরু ১১৭৩ সালের ৯ আগস্ট।
এত বড় এই ভবনের স্থপতির নামটি জানারও কৌতূহল হচ্ছে, তাই তো! কিন্তু স্থপতির নাম নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। বনানো পিসানো বা ডিওটিসালভি নামের স্থপতি এই টাওয়ারের নকশা করেন। প্রকৌশলীরা নির্মাণের সময় ভিত্তি হিসেবে মাত্র তিন মিটার গভীর একটি অগভীর বৃত্তাকার ভিত্তি বেছে নেন। সেখান থেকেই হেলে যাওয়ার সমস্যা শুরু হয়। বাড়ি তৈরি করার পর তৃতীয় তলা বানানো হয় ১১৭৮ সালে। আর তখনই টাওয়ারটি হেলতে শুরু করে। আর পিসা শহরটি অবস্থিত আরনো নদীর ধারে। সেখানকার ভূমি পলিমাটি ও কাদামাটি। পিসা টাওয়ারের নিচে মাটির তিনটি প্রধান স্তর রয়েছে।
আরেকটা মজার গল্প হলো বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন ১৫৮৯ থেকে ১৫৯২ সাল পর্যন্ত। আর তখনই বিজ্ঞানী তার পড়ন্ত বস্তুর সূত্র পরীক্ষা করেন এই টাওয়ারে।
১৯৯০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ বছর সংস্কারের মাধ্যমে টাওয়ারটির হেলে থাকা ৪০ সেন্টিমিটারেরও বেশি কমানো হয়। প্রকৌশলীরা মনে করেন, অন্তত আগামী ২০০ বছর এটি নিরাপদ থাকবে। ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে পিসার এই টাওয়ার। প্রতি বছর ৫০ লাখ দর্শনার্থী এটি দেখতে যায়।