আরিফুল ইসলাম, বাগেরহাট
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
খেজুরের বিচি থেকে কফি
বাগেরহাট সদর উপজেলার উৎকুল এলাকার পল্লী চিকিৎসক হাওলাদার মোহাম্মদ আলী খেজুরের বিচি দিয়ে কফি তৈরি করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুরের বিচি কাজে লাগিয়ে নতুন একটি সম্ভাবনাময় পণ্য তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
হাওলাদার মোহাম্মদ আলী বলেন, ইউটিউবে খেজুরের বিচি দিয়ে কফি তৈরির ভিডিও দেখে তার মাথায় এ ধারণা আসে। এরপর নিজ উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, বাগেরহাট জেলায় তিনিই প্রথম খেজুরের বিচি দিয়ে কফি তৈরি করছেন।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে যদি খেজুরের বিচি দিয়ে কফি তৈরি করা যায়, তাহলে আমরা কেন পারব নাÑ এই চিন্তা থেকেই কাজ শুরু করি। প্রায় ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে উৎপাদন শুরু করেছি। বর্তমানে আমার প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শ্রমিক কাজ করেন, যাদের দৈনিক ৫০০ টাকা করে মজুরি দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, খেজুরের মৌসুমেই মূলত এই কফি উৎপাদন করা হয়। খেজুরের কাঁদিপ্রতি ২০ টাকা দরে কিনে তা থেকে বিচি সংগ্রহ করা হয়। পরে বিচিগুলো পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা হয়। খোসা ছাড়িয়ে রোদে শুকানোর পর কড়াইয়ে বালুর সঙ্গে ভেজে নেওয়া হয়। এরপর মেশিন বা ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে কফি প্রস্তুত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ কিনতে আসছেন। ভবিষ্যতে অনলাইনে বাজারজাত করে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এই পণ্য পৌঁছে দিতে চাই।
শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি নিয়মিত এই কফি পান করছি। আমার ডায়াবেটিসের কিছুটা উপকার পেয়েছি বলে মনে হচ্ছে। স্বাদও ভালো লাগছে। তবে আমার এই বয়সে এমন কফি খাই নাই।
উৎপাদন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মনিরুল ইসলাম বলেন, খেজুরের মৌসুমে এখানে কাজ করে আয় করতে পারছি। বিচি সংগ্রহ, পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজার কাজ করি। এই উদ্যোগের কারণে এলাকার কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, খেজুরের বিচি সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়। সেই বিচি ব্যবহার করে মূল্য সংযোজনমূলক পণ্য তৈরি করা একটি ইতিবাচক ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে খেজুরের বিচি থেকে তৈরি কফির স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে হলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।