ডা. তাজরীন জাহান
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
এসির বাতাসে নষ্ট হচ্ছে চুল!
তীব্র গরম থেকে বাঁচতে অফিস কিংবা বাড়ি- সবখানেই এখন আমাদের ভরসা এয়ার কন্ডিশনার বা এসি। গরমের অস্বস্তি থেকে সাময়িক মুক্তি মিললেও প্রতিনিয়ত এসির বাতাসে থাকার কারণে আমাদের চুল ও ত্বকের বেশ ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। একটু সচেতন হলেই এসির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে চুল রক্ষা করা সম্ভব।
কীভাবে বুঝবেন এসির কারণে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
যদি আপনার চুল হঠাৎ করেই বেশি শুষ্ক হয়ে যায়, সহজে জট বেঁধে যায়, উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে বা আগা ফেটে যেতে শুরু করে, তাহলে এটি এসির শুষ্ক পরিবেশের প্রভাব হতে পারে। বিশেষ করে যাদের চুল আগে থেকেই শুষ্ক বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করা, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
এসির বাতাস যেভাবে চুলের ক্ষতি করে
এসি মূলত ঘরের ভেতরের বাতাস থেকে আর্দ্রতা শুষে নিয়ে পরিবেশ ঠান্ডা করে। এর ফলে ঘরের বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়।
আর্দ্রতা কমে যাওয়া : বাতাসের পাশাপাশি এসি আমাদের চুল ও মাথার ত্বক থেকেও স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়।
চুল রুক্ষ ও ভঙ্গুর হওয়া : আর্দ্রতাহীন চুল সহজেই তার ইলাস্টিসিটি বা নমনীয়তা হারায়। ফলে চুল শুষ্ক হয়ে ঝরঝরে হয়ে যায় এবং চিরুনি চালালেই ভেঙে যায়।
খুশকি ও চুলকানি : স্ক্যাল্প অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়ার কারণে চামড়া উঠতে শুরু করে, যাকে আমরা খুশকি বলি। এর থেকে মাথায় চুলকানি বা ইনফেকশনও হতে পারে।
এসির রুক্ষতা থেকে চুল বাঁচানোর উপায়
নিয়মিত কিছু সাধারণ অভ্যাস পরিবর্তন এবং সঠিক উপায়ে চুলের যত্ন নিলে এসির মধ্যেও চুল থাকবে রেশমি ও উজ্জ্বল।
ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার
যেহেতু এসির বাতাস চুল শুকিয়ে ফেলে, তাই চুলে কৃত্রিমভাবে আর্দ্রতা জোগাতে হবে। চুল ধোয়ার জন্য মাইল্ড বা ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। আর শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। কন্ডিশনার চুলে একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে, যা এসির বাতাসকে সহজে চুলের ভেতরের আর্দ্রতা শুষে নিতে দেয় না।
হেয়ার সিরামের ব্যবহার
হালকা ভেজা চুলে বা এসির রুমে ঢোকার আগে কয়েক ফোঁটা হেয়ার সিরাম লাগিয়ে নিন। সিরাম চুলের কিউটিকল সিল করে দেয়। ফলে এসির ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস সরাসরি চুলের ক্ষতি করতে পারে না।
ঘরোয়া হেয়ার প্যাক বা ডিপ কন্ডিশনিং
সপ্তাহে অন্তত এক দিন চুলে ভালো কোনো হাইড্রেটিং হেয়ার প্যাক লাগান। পাকা কলা, মধু এবং টকদই একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি চুলে গভীর থেকে পুষ্টি ও আর্দ্রতা জোগাবে।
তেলের ম্যাসাজ করা
অনেকেই গরমে চুলে তেল দিতে চান না। কিন্তু এসির ক্ষতি থেকে বাঁচতে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন কুসুম গরম নারকেল তেল বা কাঠবাদামের তেল মাথার ত্বকে ও চুলে ম্যাসাজ করুন। এটি চুলের হারিয়ে যাওয়া প্রাণ ফিরিয়ে আনে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
চুলের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আমাদের ভেতরের হাইড্রেশনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। আপনি যদি দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি পান না করেন, তবে এসির বাতাস আপনার শরীরকে আরও দ্রুত ডিহাইড্রেটেড করে দেবে, যার প্রভাব পড়বে চুলে। তাই প্রচুর পানি ও তরল খাবার খান।
হিট স্টাইলিং কমানো
এসির কারণে চুল যখন আর্দ্রতা হারাচ্ছে, তখন অতিরিক্ত হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লিং আয়রনের ব্যবহার ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সাবধানতা
ভেজা চুলে এসিতে বসবেন না : চুল ভেজা থাকা অবস্থায় এসির বাতাসে শুকানো চরম ভুল। এতে চুল দ্রুত খসখসে হয়ে যায় এবং ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়ে।
এসির তাপমাত্রা ঠিক রাখুন : এসির তাপমাত্রা ২৫-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। খুব বেশি ঠান্ডা বাতাস চুলের জন্য বেশি ক্ষতিকর।
রুম হিউমিডিফায়ার : সম্ভব হলে ঘরে একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন, যা বাতাসের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
আধুনিক জীবনে এসি বর্জন করা হয়তো সম্ভব নয়, তবে একটু বাড়তি যত্ন নিলে এসির বাতাসেও চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখা পুরোপুরি সম্ভব। আজ থেকেই চুলের এই ছোট্ট যত্নগুলো নেওয়া শুরু করুন এবং গরমেও পান ঝলমলে, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল!