প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
বর্ষায় স্টাইলিশ পোশাক
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে দেখলেন কড়া রোদ। বাইরে বের হতেই পড়লেন প্রচণ্ড বৃষ্টির মাঝে। বর্ষাকাল ভালো লাগলেও ব্যস্ততার কারণে সেই ভালা লাগা ছুঁয়ে দেখার সুযোগ কই! কারণ সব সময় ভয় লেগেই থাকে কখন বৃষ্টি নেমে পোশাকে কাদামাটি লেগে নষ্ট হয়ে যায়! তাই বলে এই দিনগুলোতে কি স্টাইলিশ হওয়া হবে না? একদমই নয়! চলুন এই বর্ষায় স্টাইলিশ থাকার কিছু সহজ উপায় জেনে নেই।
কোন ধরনের কাপড় সবচেয়ে ভালো
বর্ষাকালে স্টাইলিশ হতে চাইলে বেশি মনোযোগ দিতে হবে ফেব্রিকের প্রতি। সুতি কাপড় খুব আরামদায়ক হলেও বর্ষায় এড়িয়ে যেতে পারলে ভালো। কারণ সুতি কাপড় ভিজে গেলে সহজে শুকায় না। বরং এ সময় পলিয়েস্টার, সিনথেটিক, রেয়ন, নাইলন বা ব্লেন্ডেড ফেব্রিক সবচেয়ে কার্যকর। এ কাপড়গুলো হালকা, দ্রুত শুকায় এবং শরীরেও আরামদায়কভাবে বসে যায়।
বর্ষার দিনগুলোতে লম্বা কুর্তি এড়িয়ে কিছুটা খাটো দৈর্ঘ্যের পোশাক (কুর্তি, টিউনিক বা সেমি-ফরমাল ট্রাউজার) পরা সুবিধাজনক। এতে রাস্তার কাদা কাপড়ের নিচের অংশে লাগার ভয় থাকে না। একরঙা পোশাকের চেয়ে ছোট বা মাঝারি ফ্লোরাল ও জ্যামিতিক প্রিন্টের পোশাক এই সময়ে বেশি মানানসই। কারণ হুটহাট বৃষ্টিতে পোশাকের কোনো অংশ ভিজে গেলেও প্রিন্টের কাপড়ে তা সহজে নজরে আসে না।
বর্ষার কোনো উৎসব বা আড্ডায় যারা শাড়ি পরতে ভালোবাসেন, তারা সুতি এড়িয়ে জর্জেট, শিফন বা মসলিন শাড়ি বেছে নিতে পারেন। এগুলো ভিজলেও যেমন দ্রুত শুকায়, তেমনি শরীরে লেপ্টে থাকে না।
রঙ বাছাই
বর্ষায় কাপড়ের রঙে বিশেষ সচেতনতা প্রয়োজন কারণ বৃষ্টিতে ভিজে যেকোনো সময় রঙ উঠে যেতে পারে। তাই যেকোনো বর্ণিল পোশাক পরিধানের আগে অবশ্যই সেটার রঙ যাচাই-বাছাই করে নিন। হালকা নকশার পোশাককে বেশি প্রাধান্য দেওয়াই উত্তম। কারণ সুতা বা এমব্রয়ডারির ভারী পোশাক বৃষ্টি দিনে খুবই ঝামেলাদায়ক। যত হালকা পোশাক বাছাই করবেন তত চলাচলে সুবিধা হবে। এই মৌসুমে একটু গাঢ় রঙের পোশাক পরাই ভালো। যেমন : নেভি ব্লু, অলিভের শেড, যাতে কাদা লাগলে বা ভিজে গেলেও চট করে চোখে ধরা না পড়ে। বর্ষার দিনে সাদা বা একদম অফ-হোয়াইট রঙের পোশাক এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ রাস্তার নোংরা জল বা কাদার দাগ এতে দ্রুত ফুটে ওঠে এবং পোশাকটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
পোশাকের ধরন
এই মৌসুমে একটু কম দৈর্ঘ্যের পোশাক পরাই ভালো। ছেলেদের জন্য থ্রি-কোয়ার্টার, শর্ট প্যান্ট, লুজ শার্ট বা টি-শার্ট মানানসই। যদি ‘ফরমাল’ পরতেই হয়, তবে ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত, যাতে শরীরে আর্দ্রতা না জমে। ভিজলেও অফিসের এসির বাতাসে সহজেই শুকিয়ে যায়। মেয়েদের জন্য স্কার্ট, ডেনিম বা কটনের শর্টস সুবিধাজনক ও ফ্যাশনেবল পোশাক। কমলা, নীল ও গোলাপি রঙের পোশাকগুলো এই মৌসুমে দারুণ লাগে। চাইলে পরতে পারেন লালও।
কাপড় শুকাবেন যেভাবে
বর্ষাকালে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় কাপড় শুকাতে দেরি হয়। এই সমস্যা কমাতে জর্জেট বা সুতি, ঘের কম— এমন জামা পরুন। যেটা সহজেই ধুয়ে শুকিয়ে আবার পরা যায়। আবার কাপড় বেশি সময় ভেজা থাকলে ফাঙ্গাস জমে। এ সময় কাপড় শুকানো জরুরি। সেজন্য প্রথমে ওয়াশরুমের হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখুন। তাতে অতিরিক্ত পানি ঝরে যাবে। একটা ঘরে দরজা–জানলা বন্ধ করে ফ্যান ছেড়ে কাপড় শুকাতে পারেন। এরপর ভালোভাবে ইস্ত্রি করে ন্যাপথলিন বা পোকার ওষুধ দিয়ে আলমারিতে তুলে রাখুন।
চুলের ধরন
হেয়ার স্টাইলও সিম্পল থাকা বেস্ট এই মৌসুমে। কারণ আপনার শখের হেয়ার স্টাইল বৃষ্টিতে ভিজে ভেস্তে যেতে সময় লাগবে না। বর্ষাকালে চুল ছোট রাখলে সামলে রাখা অপেক্ষাকৃত সহজ হয়। চুল বড় হলে বেণি বা পনিটেইল করে রাখতে পারেন। তবে চুল ভিজে গেলে অবশ্যই ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। নইলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।
বৃষ্টিদিনের স্যান্ডেল বা জুতা
বর্ষায় সবচেয়ে বেশি যে জিনিস নষ্ট হওয়ার শঙ্কা থাকে, তা হলো জুতা বা স্যান্ডেল। এ সময় প্লাস্টিক বা নন-লেদার জুতা পরাই ভালো। কাপড়, চামড়ার জুতা এড়িয়ে যান। হাঁটার সময় পায়ে যাতে রাস্তায় জমে থাকা ময়লা পানি ও কাদা না লাগে, সেজন্য একটু উঁচু সোলের জুতা-স্যান্ডেল ব্যবহার করতে পারেন। একই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য জুতার চারপাশের অংশ যেন ঢেকে থাকে, সে রকম স্লাইডও পরতে পারেন।
ছাতার ব্যবহার
বৃষ্টির দিনে হরেক রকমের ছাতার ব্যবহার রীতিমতো ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। তবে যেকোনো এক রঙের, অল্প প্রিন্ট বা ট্রান্সপারেন্ট ছাতা ব্যবহার করা উত্তম। আরও বেশি ফ্যাশনেবল করতে নিউজ প্রিন্টের ডিজাইন করা ছাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। রঙচঙা ছাতার পরিবর্তে সিম্পল ছাতাই এ সময় গ্রহণযোগ্য।