কালো পানিতে জীবনযুদ্ধ
প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬ ১৩:১৭ পিএম
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার চৌহাটি ও শাহগ্রামের নারীরা প্রায় ২০ বছর ধরে কয়লা খোঁজার কাজ করছেন
তপ্ত রোদ, বৃষ্টি-ঝড় কিংবা শীতের তীব্র প্রকোপ! ও যে মানে না মানা...। শীতের তীব্রতা, তপ্ত রোদের যন্ত্রণা কিংবা বৃষ্টি-ঝড়ের ভয় কখনও জীবনকে থামিয়ে রাখতে পারেন না। জীবন তো তার নিজস্ব গতিতেই প্রবাহ হয়। আবহাওয়ার এসব বৈরিতা জীবনের কাছে শুধু তুচ্ছ সময়মাত্র। জীবন কখনও এসব অজুহাত মানে না। জীবন মানেই সবকিছুকে উপেক্ষা করে শুধু ছুটে চলা। বিশেষ করে দিনমজুর মানুষের জীবনে কোনো অন্ত নেই। জীবনের সংগ্রাম কত রকম, তা কেবল তারাই জানেন। যতদিন শরীর চলে ততদিন ভাত জুটে। আলস্য, শরীরের কার্মক্ষমতা কমে যাওয়া বা বাধাগ্রস্ত হওয়া মানেই জীবনযুদ্ধে এক পরাজয়। তেমনই এক জীবনযুদ্ধের আবদ্ধে পড়ে গেছেন কিছু অদম্য নারী। যাদের বৈরী আবহাওয়া রুখতে পারে না। তাদের জীবন মানেই সংগ্রাম। আর এই সংগ্রাম মানেই কর্ম।
দিনটা ছিল তপ্ত রোদে ভরা। দুপুরের রোদ তখন নেমে এসেছে মাথার ওপর ভারী বোঝা হয়ে। চারদিকে তপ্ত হাওয়া। গা জ্বলে যায় যায় অবস্থা। দূরে জমিন কাঁপানো গরমে ধোঁয়ার মতো ঝাপসা হয়ে আছে দৃশ্যপট। সেই রোদেই দেখা যায় কালচে ড্রেনের পানিতে নেমে আছে একদল নারী। কারও হাতে বাঁশের চালুনি, কারও হাতে বাঁশ, কারও হাতে ছেঁড়া প্লাস্টিকের বস্তা। তারা প্রত্যেকেই কেউ কোমর, কেউ বুক আবার কেউবা গলাসমান পানিতে ডুবে আছেন। তাদের কেউ বাঁশ দিয়ে ড্রেনে খোঁচা মারছেন, কেউ পানির নিচে হাত ডুবিয়ে কাদা ও কয়লার ছোট ছোট টুকরো খুঁজছেন। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন তারা পানির ভেতরে হারিয়ে যাওয়া জীবনের শেষ অবলম্বনটুকু খুঁজতে মরিয়া।
বাস্তবে তা নয়, এটি মূলত দিনাজপুরের পার্বতীপুরস্থ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার কর্মের একটি দৃশ্য। এ দৃশ্যটি এখন ওই এলাকায় আর অস্বাভাবিক নয়। স্থানীয়দের কাছে এই কর্মের নাম ‘কালো সোনা’। কারণ এই কয়লার ময়লাই এখন বহু পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু সেই কালো সোনা সংগ্রহকারী নারীদের জীবন যেন এক নিঃশব্দ সংগ্রামের উপাখ্যান।
ঘড়িতে রাত ঠিক ৮টা বাজলেই প্রতিদিন এই সংগ্রামের সূচনা। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার আকাশ তখন ধীরে ধীরে অন্ধকারে ঢেকে যায়। দূরে খনির ভেতর জ্বলে ওঠে আলো, ভারী যন্ত্রের বিকট শব্দ কেঁপে কেঁপে ভেসে আসে বাতাসে। সেই আঁধার ভেদ করেই দলবেঁধে এগিয়ে যায় একদল নারী। কারও হাতে বাঁশের চালুনি, কারও হাতে লম্বা বাঁশ, কারও হাতে প্লাস্টিকের ড্রাম, কারও কাঁধে পুরনো ঝুড়ি। তাদের চোখেমুখে ক্লান্তি থাকলেও থেমে থাকার সুযোগ নেই। কারণ তারা জানেন। আজ পানিতে না নামলে আগামীকাল ঘরে চুলা জ্বলবে না।

আসার কিছুক্ষণ পরই তারা নেমে পড়েন কালচে ড্রেনের পানিতে। কোথাও কোমর, কোথাও বুক, কোথাও গলাসমান পানি। পানির ভেতর হাত ডুবিয়ে তারা খুঁজতে থাকেন কয়লার গুঁড়া। ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের সময় যে ময়লা ও কয়লার গুঁড়া পানির সঙ্গে ভেসে আসে, সেটিই সংগ্রহ করেন তারা। স্থানীয়দের ভাষায় এটাই ‘কালো সোনা’। আর সেই কালো সোনার খোঁজেই দিনের পর দিন, বছরের পর বছর পানির ভেতর দাঁড়িয়ে জীবন কাটছে বড়পুকুরিয়ার শত শত নারীর।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার চৌহাটি ও শাহগ্রামের নারীরা প্রায় ২০ বছর ধরে এই কাজ করছেন। একসময় কেউ অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন, কেউ কৃষিকাজে সহায়তা করতেন, কেউ সংসার সামলাতেন। কিন্তু অভাব, স্বামীর অসুস্থতা, সংসারের ভাঙন কিংবা দারিদ্র্যের চাপে একসময় তাদের নামতে হয়েছে এই কালো পানির ভেতর।
৮টি দল, টানা ২৪ ঘণ্টার শিফট
কয়লার ময়লা সংগ্রহের জন্য বর্তমানে আটটি দল রয়েছে। প্রতিটি দলে প্রায় ৩০ জন নারী সদস্য। তারা পালাক্রমে শিফটে কাজ করেন। একেকটি শিফট শুরু হয় রাত ৮টা থেকে পরদিন রাত ৮টা পর্যন্ত। অর্থাৎ টানা ২৪ ঘণ্টা পানির সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় তাদের।
কয়লা উত্তোলনের সময় ভূগর্ভ থেকে উঠে আসা পানির সঙ্গে কয়লার গুঁড়া ড্রেনের পানিতে ভেসে যায়। নারীরা সেই পানিতেই গলা পর্যন্ত ডুবে চালুনি দিয়ে কয়লার ময়লা সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো একত্র করে শুকিয়ে স্থানীয় ইটভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়। ভাটা মালিকরা এগুলো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন।
প্রতিমণ কয়লার গুঁড়ার দাম পাওয়া যায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বিক্রির পর সদস্যরা গড়ে ভাগ করে পান দিনে ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। এই সামান্য টাকাই তাদের সংসারের একমাত্র ভরসা।
‘পানিতে নামি, কারণ ঘরে ক্ষুধা অপেক্ষা করে’
চৌহাটি গ্রামের ফেরদৌসি বেগম। বয়স ৩২। স্বামী সামিদুল ইসলাম। পেশায় কৃষিশ্রমিক। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের বিয়ে হয়েছে, আর মেয়েটি এখনও পড়াশোনা করছে।
ভেজা কাপড় নিংড়াতে নিংড়াতে ফেরদৌসি বলেন, মেয়েটা পড়তে চায়। বই লাগে, কোচিং লাগে, স্কুলে যাতায়াতে ভ্যান ভাড়া লাগে। কিন্তু ঘরে টাকা নাই। স্বামীর আয় দিয়ে সংসারই চলে না। তাই শরীর খারাপ থাকলেও পানিতে নামতে হয়।
একটু থেমে তিনি আবার বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমাদের অসুস্থ হওয়ার সুযোগ নাই। পানিতে না নামলে ঘরে ভাত জুটবে না। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে হাত-পায়ের চামড়া উঠে গেছে। রাতে শরীর ব্যথায় ঘুম হয় না। তবু ভোর হলে আবার কাজে ফিরতে হয়। অনেক সময় মনে হয় শরীরটা আর নিজের নাই। কিন্তু সংসারের কথা ভাবলে আবার পানিতে নেমে এই কাজ করি।
‘মেয়ের বিয়ের চিন্তায় বুকটা ফেটে যায়’
৪৫ বছর বয়সী দুলালী বেগম। স্বামী আব্দুল রাজ্জাক পেশায় কৃষিশ্রমিক। তাদের তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ের বিয়ের চিন্তা এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।
দুলালী বলেন, মেয়ের বয়স বাড়তেছে। গ্রামের মানুষ কথা বলে। কিন্তু বিয়ে দিতে টাকা লাগে। সেই টাকা কোথায় পাব? তিনি বলেন, প্রায় ১২ বছর ধরে এই কাজ করছেন। প্রথম প্রথম ড্রেনের ওই কালো পানিতে নামতে ভয় লাগত। পরে বুঝলাম, অভাবের কাছে ভয় বলে কিছু নাই। তারপর থেকে তীব্র শীতেও এই কাজ করেছি। দীর্ঘদিন পানিতে কাজ করতে করতে শরীরে নানা রোগ বাসা বেঁধেছে। রাতে শরীর চুলকায়, বুক ধরে আসে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
তিনি আরও বলেন, অসুস্থ হলেও ডাক্তার দেখানো হয় না। যে কটা টাকা পাই। তা নিজের পেছনে খরচ করলে মেয়ের বিয়ে দেব কীভাবে? এসব ভেবে নাপা খেয়ে আবার কাজে লাগি। অনেক সময় মনে হয়, মেয়ের বিয়েটা দিয়ে মরলেও আফসোস থাকবে না।
‘স্বামী মারা যাওয়ার পর বুঝছি, পৃথিবী কত নিষ্ঠুর’
৪২ বছর বয়সী কহিনুর বেগম। স্বামী ফরজ আলী সাত বছর আগে মারা গেছেন। সেই সময় পাঁচ সন্তান নিয়ে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন অনেক কষ্ট করে। দুই ছেলে এখনও বেকার।
কহিনুর বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পরে মনে হয়েছিল, জীবন শেষ। কীভাবে সন্তানগুলারে মানুষ করব বুঝতে পারছিলাম না।
তিনি বলেন, অনেক রাত না খেয়ে থেকেছি, কিন্তু সন্তানদের না খাইয়ে রাখিনি। প্রথম দিন যখন এই কাজে আসি, তখন পানিতে নামার সময় খুব ভয় পাইছিলাম। গলাসমান পানিতে দাঁড়িয়ে মনে হইছিল ডুবে যাব। পরে বুঝলাম, না খেয়ে মরার ভয় আরও বড়। এখন এই কাজই তার বেঁচে থাকার একমাত্র পথ। এই পানিই এখন আমাদের বাঁচিয়ে রাখছে। আবার এই পানিই শরীরটারে শেষ করে দিচ্ছে।
পরের প্রজন্মের কেউ যেন এই কাজ না করে
স্বপ্না রানী। বয়স ৩৯। স্বামী দিনেশ চন্দ্র একজন কৃষিশ্রমিক। দুই ছেলে ও এক মেয়ের সংসার। স্বপ্না বলেন, ছেলেদের শিক্ষিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাই। তারা যেন শিক্ষিত হয়ে ভালো চাকরি করে। তাদেরকে যেন আমার মতো পানিতে না নামতে হয়। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে গিয়ে প্রতিদিন গলাসমান পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তাদের ভালো খাইয়ে-পড়িয়ে শিক্ষিত করে তুলতে পারলেই আমার এ কষ্টগুলো সার্থক হবে।
স্বামী মারা যাওয়ার পর কেউ পাশে দাঁড়ায় নাই
ধমনি রানীর স্বামী বিপিন চন্দ্র প্রায় ১০ বছর আগে মারা যান। এরপর থেকেই শুরু তার একার জীবন সংগ্রাম। তার এই সংগ্রামে তার পরিবারের কেউ কিংবা কোনো আত্মীয়স্বজন এগিয়ে আসেনি। একবেলা না খেয়ে থাকলেও কেউ খোঁজও নেয়নি। কিন্তু তবু তিনি থেমে থাকেননি। সব লাজলজ্জা ভুলে পেটের দায়ে বেরিয়ে পড়েছেন কালো সোনা তোলার কাজে।
ধমনি রানী বলেন, দুই ছেলে আর এক মেয়েরে নিয়ে কত রাত না খেয়ে কাটিয়েছি। পরে বাধ্য হয়েই এই কাজ ধরি। পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে এখন শরীর আর আগের মতো নেই। হাত-পা ফুলে যায়, কোমরে ব্যথা করে। তবু থামতে পারি না। কারণ থেমে গেলে সংসার থেমে যাবে।
আমার ছেলে যেন মানুষ হয়
৩৪ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগমের স্বামী তহিদুল মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংগ্রাম চলছে। ছোট ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।
মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার ছোট ছেলে এ বছর সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তাকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। কথা বলতে বলতে তার চোখে পানি চলে আসে। তিনি বলেন, অনেক সময় স্কুল-প্রাইভেটের ফি সময়মতো দিতে পারি না। তখন মনে হতো, অভাবের কারণে ছেলেটার স্বপ্নও বুঝি ভেঙে যাবে। কিন্তু পরে এই কাজে যুক্ত হাওয়ার পর। টাকা-পয়সা উপার্জন করে ছেলেকে পড়িয়েছি। তাকে আরও পড়াব। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। সে এক দিন অনেক বড় মানুষ হবে।
অসুস্থ শরীর, তবুও থামে না জীবন
দীর্ঘদিন দূষিত পানিতে কাজ করতে করতে অনেক নারী এখন পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। কয়লার গুঁড়ার সঙ্গে থাকা কার্বন ও ক্ষতিকর পদার্থ শরীরে ঢুকে নানা জটিল রোগ তৈরি করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে এই কাজে যুক্ত ছিলেন এমন অনেক নারী। তাদের মধ্যে অনেকে অসুস্থ হয়ে গেছেন। তাদের শরীরে বাসা বেঁধেছে অনেক রোগ। যার চিকিৎসা করিয়ে সারিয়ে তোলার মতোও সামর্থ্য নাই অনেকে। কেউ কেউ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। আবার কেউ অসুস্থ হয়ে এই কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় গেছেন।
তবুও নতুন নতুন নারী এই কাজে আসছেন। কারণ অভাব তাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা রাখেনি।
খনি বন্ধ মানেই ঘরে অভাব
যখন ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ থাকে, তখন এই নারীদের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। কারণ তখন ড্রেনের পানিতে কয়লার গুঁড়া আসে না। যার ফলে বেকার হয়ে অবসর সময় পার করেন তারা।
নারীরা বলেন, খনি বন্ধ মানেই আমাদের ঘরে হাহাকার, দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চিয়তা। তখন ধার করে চলতে হয়। অনেক সময় ঠিকমতো খাবারও জোটে না। অনেকে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালান। পরে সেই ঋণের কিস্তি দিতে গিয়ে আরও বিপদে পড়েন।
শেষ হয় না তাদের এই কালো পানির যুদ্ধ
দিন শেষে রাত নামে। খনির আলো জ্বলতে থাকে। কালো পানির ওপর ভেসে থাকে কয়লার গুঁড়া। আর সেই পানির ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা নারীদের চোখে জমে থাকে অদৃশ্য ক্লান্তি আর না বলা কান্না। কাদামাখা শরীর নিয়ে তারা বাড়ি ফেরেন। তারপর আবার রান্না, সংসারের কাজ, সন্তানের দেখাশোনা। কয়েক ঘণ্টা পর আবার নতুন শিফট শুরু হবে। আবার তারা নামবেন গলাসমান কালো পানিতে। কারণ বড়পুকুরিয়ার এই নারীদের কাছে কয়লার গুঁড়া শুধু জ্বালানি নয়, এটাই তাদের জীবন, তাদের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন, শেষ আলো।
সচেতন মহলের ভাষ্য
এটি কেবল দারিদ্র্যের গল্প নয়, বরং অনানুষ্ঠানিক শ্রম ব্যবস্থার একটি কঠিন বাস্তবতা। যেখানে কেবল সামান্য আয়ের জন্য এসব নারী অনেক ঝুঁকি নিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় গলাসমান দূষিত পানিতে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তাদের শরীরের চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট ও নানা সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। এখানকার নিরাপদ কর্মসংস্থানের অভাবে মানুষ বাধ্য হচ্ছেন এত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে।
স্থানীয় সমাজকর্মীরা জানান, তারা কেউ শখে এই কাজে আসেননি। দারিদ্র্য, বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব এবং পারিবারিক সংকটই তাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় ঠেলে দিয়েছে। তাই শুধু সহানুভূতি নয়, বাস্তবসম্মত জীবিকা পরিচালনার জন্য বিকল্প আয়ের উৎস ব্যবস্থা করা জরুরি।
স্থানীয় চিকিৎসকদের ভাষ্য, ভূগর্ভ থেকে উত্তোলিত এই কয়লা পানির সঙ্গে কয়লার সূক্ষ্ম কণা ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মিশে যায়। দীর্ঘদিন এই পানির সংস্পর্শে থাকলে ত্বক, ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এসব নারী এখনও অধিকাংশই নিয়মিত চিকিৎসাসেবার বাইরে আছেন। যার ফলে ছোটখাটো অসুস্থতাও দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই তাদের চিকিৎসাসেবার আওতায় আনতে হবে। তাদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।