ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬ ১৩:০৯ পিএম
সফল তরুণ উদ্যোক্তা লাভলু
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জৈব কৃষির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে ট্রাইকো কম্পোস্ট সার। ছত্রাকভিত্তিক এই পরিবেশবান্ধব সার ব্যবহার করে কম খরচে বেশি ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। ফলে দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. ওসমান আলী লাভলু।
উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা লাভলু নিজ উদ্যোগে ট্রাইকো কম্পোস্ট উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার এই সফলতা আশপাশের অনেক তরুণ ও কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করছে। বর্তমানে তার উৎপাদিত সার স্থানীয় বাজারে বেশ পরিচিতি পেয়েছে।
ট্রাইকো কম্পোস্ট মূলত ট্রাইকোডার্মা নামের উপকারী ছত্রাকের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। গোবর, কচুরিপানা, মুরগির বিষ্ঠা, কাঠের গুঁড়া, ভুট্টা ও কলাগাছের কুঁচি, সরিষার খোল, নিমপাতা ইত্যাদি জৈব উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে এতে ছত্রাক প্রয়োগ করা হয়। প্রায় দেড় মাসের প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় এই জৈব সার। এই সার মাটির গুণাগুণ উন্নত করার পাশাপাশি গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এতে করে ফসলের উৎপাদন বাড়ে এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন লাভলু। ২০১৮ সালে ভার্মি কম্পোস্ট দিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীকালে ২০১৯ সালে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ট্রাইকো কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন। শুরুতে কিছুটা লোকসান হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সফলতা পান। বর্তমানে তার মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকার মতো।
লাভলু বলেন, ‘শুরুর দিকে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিল। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। এখন বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যদি সহজ শর্তে ঋণ ও উন্নত প্যাকেজিং সুবিধা পাওয়া যায়, তাহলে আরও বড় আকারে কাজ করা সম্ভব।’
তিনি জানান, বাজারে যেখানে টিএসপি সার প্রতি কেজি ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে তার উৎপাদিত ট্রাইকো কম্পোস্ট পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ টাকায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘জৈব সার ব্যবহার টেকসই কৃষির জন্য অত্যন্ত জরুরি। ট্রাইকো কম্পোস্টে থাকা উপকারী অণুজীব মাটির পুষ্টি সরবরাহ প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে এবং গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে অনেক কৃষক এই সার ব্যবহার করে ভালো ফলাফল পেয়েছেন। কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।’