× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চলনে বলনে জার্সি

জুবায়ের আহাম্মেদ

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ ১৪:৩৬ পিএম

চলনে বলনে জার্সি

চলনে বলনে জার্সি

গুলিস্তানের বাতাস সব সময়ই ব্যস্ত। তবে চার বছর পরপর ঢাকা শহরের ব্যস্ততম এই সড়কের হাওয়ায় বদল আসে। উৎসবের রঙ নিয়ে ফুটবল নামের বিনোদনের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ হাজির হয় ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো শহরে। আর চারশ বছরের পুরাতন শহর ঢাকায় বইতে থাকে তার হাওয়া। আর বিশ্বকাপ উৎসবের বড় অনুষঙ্গ জার্সি। প্রিয় দলের ঐতিহ্যবাহী রঙ নিজেদের মাঝে ধারণ করাটাই বিশ্বকাপে নিজেকে রাঙানোর সবচেয়ে ভালো উপায় বলা চলে। গুলিস্তান বহু কারণেই জনপ্রিয় ঢাকাবাসীর। বিশ্বকাপে জার্সির প্রাণকেন্দ্রও বলা চলে পুরাতন ঢাকার এই অংশটিকে। 

কেবল ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশেই জার্সির বেচাকেনা আর ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্র গুলিস্তান। যথারীতি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি চাহিদা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সিকে কেন্দ্র করে। ফুটবলের দুই আইকনিক চরিত্র পেলে ও ম্যারাডোনার কল্যাণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লাতিন ফুটবলের প্রতি মাদকতা দেশের তরুণদের মাঝে। 

জার্সির ধরন ও ক্রেতা 

জার্সির বড় ক্রেতাও তারাই। পুরো বছর জার্সির বাজারটা অনলাইন মাতিয়ে রাখলেও বাণিজ্যিক গতিবদল হয় বিশ্বকাপের মাসে। নানা মানের এবং গুণের জার্সি বাজার দখল করে রেখেছে। নিজেদের আর্থিক অবস্থান যেন কারও বিশ্বকাপ আমেজে ভাটা না ফেলে সেটাও যেন নজরে রাখার বিষয়। 

আর এই আর্থিক ভারসাম্য রাখতে গিয়েই জার্সির বাজার দখল করে বিভিন্ন নিম্ন মানের কাপড়। কখনও কখনও হারিয়ে যায় অফিসিয়াল নকশা। দেশি কারিগরদের নিজস্ব সৃষ্টিশীলতায় আসে বৈচিত্র্য। তাতে দামের সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেখা মেলে নানা অদ্ভুতুড়ে ডিজাইন। 

অবশ্য জার্সির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় থাই প্লেয়ার এডিশন। বৈশ্বিকভাবেই জার্সি তৈরির সবচেয়ে বাজার চীন, ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশ। তবে থাইল্যান্ডের বাজার ঘুরে আসায় চীনের জার্সিই পরিচিতি পায় থাই প্রিমিয়াম কিংবা থাই প্লেয়ার এডিশন হিসেবে। 

প্লেয়ার ভার্সন জার্সি মাঠে খেলোয়াড়দের ব্যবহৃত প্রযুক্তির আদলে তৈরি। অনেকটা হালকা, শরীরঘেঁষা এবং তুলনামূলক দামি এসব জার্সি। প্রায় ১০০০ থেকে ১৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয় একেকটি জার্সি। যদিও প্লেয়ার ভার্সন জার্সির বড় বাজার অনলাইনে। বিভিন্ন শপে নিজের নাম এবং পছন্দের নাম্বার লিখিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকায় অনলাইনেই এই বাজারের চাহিদা বেশি। জার্সিপ্রতি খরচ বাড়তে পারে ২০০ টাকা পর্যন্ত। 

ফ্যান ভার্সন জার্সি সাধারণ সমর্থকদের জন্য তৈরি, যা তুলনামূলক ঢিলেঢালা ও টেকসই। এর দাম সাধারণত ৭০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে ফ্যানমেইড জার্সি দেশীয়ভাবে তৈরি হওয়ায় তুলনামূলক সস্তা, যার দাম ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

জার্সির বাজারে বাড়তি ফ্যাশন যোগ হয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। অফিস কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোতে জার্সির ডিজাইনে টি-শার্ট তৈরির প্রবণতা বেড়েছে অনেকটাই। অবিকল জার্সির নকশায় কিছুটা উন্নত কাপড়ে তৈরি হয় এসব পোলো। সব বয়সীর জন্য পাওয়া যায় এসব টি-শার্ট। খরচ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মাঝেই। 

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রেট্রো শব্দটি। পূর্বের জার্সিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার প্রবণতাও গেল কয়েক বছরে বেড়েছে অনেকটা। এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেখা মিলেছে এমন রেট্রো প্রবণতার। চলতি বিশ্বকাপেই জার্মানি খেলতে নেমেছে ’৯০-এর দশকের অনুপ্রেরণা নিয়ে। রেট্রো পোলো টি-শার্ট কিংবা রেট্রো জার্সির রয়েছে আলাদা এক ক্রেতাসমাজ।

জার্সির আলাদা কদর 

অবশ্য বিশ্বকাপের বাইরেও জার্সির আছে আলাদা কদর। জার্সি এখন আর শুধু সমর্থনের প্রতীক নয়, হয়ে উঠেছে ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গও। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো সমর্থনপুষ্ট ক্লাব তো বটেই, নজরকাড়া যেকোনো ডিজাইনও এখন বেশ প্রচলিত। রোমা, ভেনেজিয়া, আয়াক্সের মতো কম পরিচিত ক্লাবের জার্সিও চোখে পড়তে পারে হরহামেশাই। আর বিশ্ব ফুটবলের বড় দলগুলো নিজেদের পরিচিতি গড়ে তুলেছে নির্দিষ্ট রঙ ও নকশার মাধ্যমে, ব্রাজিলের হলুদ কিংবা আর্জেন্টিনার আকাশি-নীল জার্সি এই মুহূর্তে খুবই পরিচিত দৃশ্য। 

তবে প্রজন্মের ব্যবধানে সমর্থকদের মাঝেও দেখা গেছে ভিন্নতা। স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, পর্তুগালের জার্সিও এখন দেশের বাজারের বড় অংশ দখল করেছে।

আধুনিক জার্সির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর আরামদায়ক ব্যবহারযোগ্যতা। তুলনামূলক হালকা ফেব্রিক, বাতাস চলাচলের সুবিধা এবং ঘাম শোষণের সক্ষমতা জার্সিকে দৈনন্দিন পরিধানেও জনপ্রিয় করে তুলেছে। রাস্তাঘাট, ক্যাম্পাস ও ফ্যাশন স্টাইলের অংশ হয়ে উঠেছে জার্সি। 

জার্সির বৈশ্বিক বাজারে আছে বাংলাদেশও। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে ২৩ লাখ ৬৫ হাজার পিস পোশাক। ফুটবল ও ফিফার লোগো-সংবলিত জার্সি, টি-শার্ট ও হুডি ছিল এর মাঝে। এসব পোশাকের রপ্তানিমূল্য প্রায় ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৩টি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা এসব পণ্য রপ্তানি করেছে ১৮টি দেশে।

বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এসব পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, জার্মানি, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারেও গেছে বাংলাদেশে তৈরি ফ্যান জার্সি। বিশ্বখ্যাত ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট, প্রাইমার্ক, নেক্সট, এমঅ্যান্ডএস, পুমা, ডিক্যাথলনসহ ৩৬টি প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য কিনেছে বাংলাদেশ থেকে।

ফ্যাশনে জার্সি 

বাংলাদেশের ফ্যাশনে স্পোর্টসওয়্যার কবে কখন থেকে জুড়ে গেল সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে হ্যাঁ, এই ফ্যাশন যে আবেগের সাথে সম্পৃক্ত সেটা বুঝতে সময় লাগে না। কারণ ক্রিকেট হোক বা ফুটবল, প্রিয় খেলা ভালো লাগার বহিঃপ্রকাশ ঘটে পোশাকে। বিশেষ করে ফুটবলের ক্ষেত্রে কোন দল পছন্দ সেটা যেন আর মুখে মুখে নয়, রাস্তায় বের হলেই বোঝা যায়। 

দেশীয় ফ্যাশনে জার্সির তুমুল জনপ্রিয়তার পেছনে আবহাওয়া ও আবেগ দুটোরই মেলবন্ধন রয়েছে। বিশেষ করে ঋতুভেদে পোশাকের প্রতি ভালোবাসা সহজে দেখানো যায়। 

গরমের আরামÑ আমাদের দেশে বছরের লম্বা একটা সময় গরম থাকে। এ সময় ভারী কাপড় পরা যায় না। অনেকে বেশ ঘামেন। তাদের জন্য জার্সির পলিয়েস্টার বা ড্রাই ফিট ফেব্রিক বেশ আরামদায়ক। এ ধরনের ফেব্রিক শরীরকে ঠান্ডা ও ঘামমুক্ত রাখে। 

আবেগের বহিঃপ্রকাশÑ বাঙালি খেলাপ্রিয় এ কথা আর নতুন কিছু নয়। ক্রিকেট বা ফুটবল, যেকোনো খেলার জার্সিই আমাদের কাছে অনেক ভালোলাগার। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা দেখানোর জন্য জার্সির বিকল্প আর কীই বা হতে পারে? 

জার্সি হয়ে উঠছে নিজস্ব স্টাইল স্টেটমেন্ট 

তরুণদের মাঝে জার্সি পরার ট্রেন্ড প্রচলিত হলেও সেটা যে একঘেয়ে তা নয়। ওয়েস্টার্ন ট্রেন্ডের সাথে দেশীয় ফিউশন ঘটিয়ে তারা একধরনের স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করছে। যেমনÑ 

ক্যাজুয়াল ও রিল্যাক্সড ভাইভ আনার জন্য তরুণরা এখন শরীরের সাথে আঁটসাঁট হয়ে থাকবে এমন জার্সি পরছে না। বরং এক বা দুই সাইজ বড় ওভারসাইজড জার্সি পরছে। 

জিন্স ছাড়াও কার্গো প্যান্টের সাথে জার্সির কম্বিনেশনও মন্দ লাগে না। পালাজ্জো বা স্কার্টের সাথে পছন্দের দলের জার্সি পরে ফিউশন তৈরি করে ফ্যাশন জগতে নিজস্ব স্তেটমেন্ট তৈরি করছে তরুণ তরুণীরা। 

জমকালো বা পার্টি লুকের ক্ষেত্রেও কিন্তু জার্সি পিছিয়ে নেই। জার্সির উপর ডেনিম জ্যাকেট বা ক্যাজুয়াল ব্লেজার পরলেই নজরকাড়া লুক ক্রিয়েট করা যায়।

জার্সির সাথে স্মার্ট এক্সেসরিজ 

ফুটবল জার্সি দিয়ে স্টাইল যখন করতেই চাচ্ছেন, তখন এক্সেসরিজের দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। যেভাবে এক্সেসরিজকে ফ্যাশনের অন্তর্ভুক্ত করবেনÑ 

একজোড়া সাদা বা চাঙ্কি স্নিকার্স পরুন। কারণ জার্সির সাথে স্নিকার্সের যুগলবন্দি বেশ মানানসই। 

রোদ থেকে বাঁচতে আর স্পোর্টি ভাইভ ধরে রাখতে স্ন্যাপব্যাক বা বাকেট হ্যাট কিন্তু মিস করা যাবে না। 

কাঁধে একটা ক্রসবডি ব্যাগ বা চেস্টে একটা স্লিং ব্যাগ ঝুলিয়ে নিলেই যেকোনো আউটিং, আড্ডা বা ক্লাসের জন্য আপনি একদম রেডি। 

মডেল : রোশান জাহান, শৈলী মাহবুব
সুমন রহমান, মো. দিদারুল ইসলাম
মো. আজাদ হোসাইন 
জার্সি : অ্যাথলিট স্পোর্টস গিয়ার
ছবি : আরিফুল আমিন 
শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা