ফাইল ছবি
হেমন্তের ধানক্ষেতে নীরব রাতেরা
শাহীন রেজা
শরতের শেষ সাদাটুকু ডানায় মেখে
উড়ে যাচ্ছে বকগুলো নীলের নদী সাঁতরে
কোনো এক অরণ্যের দিকে
শেষ বিকেলের শরীরে কুয়াশার
মোহন ছোঁয়া
না আমি নেই
তুমিহীন কবিতায় আমি নেই; কবি নেই
কবিকে স্পর্শ করে রোদ
শিশিরের টুপটাপ ধ্বনি
কবিও তাকিয়ে দেখেন জলের পেছনে ধাওয়া করা দুটো গাঙচিল;
তোমার চোখের আদলে চেয়ে থাকা
মেঘেরা কোথায় যায়?
হেমন্তের ধানক্ষেতে জেগে থাকা
নীরব রাতেরা
জোছনা-শরীর হয়ে কেন কবিকে ডাকে?
আলো আর অন্ধকার
আসিফ নূর
আলোকক্ষের ওপাশেই আবছা অন্ধকারের কোণÑ
আলোকসভায় হৈচৈ খুব, ফোটে উল্লাসের খৈ;
নিরালা আঁধারে বাজে মৌনতার গোপন গজল।
আলোকিত উৎসবের মধ্যমণি ছিলাম এক দিনÑ
হাসিঠাট্টা, গল্প-গানে জমিয়েছি আনন্দের হাট;
সুর ও সুরার মৌচাকে তুমুলে উড়িয়েছি ষাট।
এখন নির্জন অন্ধকারে থাকি চুপচাপ একা,
কোলাহল নয়; আফসোস-দীর্ঘশ্বাস সঙ্গী আজ।
হৃদয়ে-মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, দুচোখে অশ্রুঢলÑ
প্রায়শ্চিত্তের এদিনে আমাকে ডেকো না রংমহল।
নতুন প্রতিজ্ঞা
মহিউদ্দিন খান মোহন
থাকবো না আর এই শহরে, চলেই যাবো আমার গাঁয়েÑ
প্রাণ জুড়াবো মন মাতানো-ঢেউ খেলানো শীতল বায়ে।
ধুলার শহর, কাদার শহর
যানজট আর চাঁদার শহর
নরকতুল্য ঢাকা এবার ছেড়েই যাবো দূরে,
ফিরবো খুঁজে শান্তিকে ওই মেঠোপথে ঘুরে।
ইট-পাথরের এই শহরে হারিয়ে গেছে মায়া,
পড়ে আছে ‘বিবেক মিয়ার’ প্রাণশূন্য কায়া।
ছুটছে সবাই সুমুখ পানে
গন্তব্য কেউ না জানে
জানে শুধু ধরতে হবে সুখ নামের শুকপাখি,
এমন তরো শহরে ভাই কী করে আর থাকি?
অনেক ভেবে তাই তো এবার করেছি ভীষণ পণ,
চলে যাবো হিমালয়ে কঠিন করে মন।
যুদ্ধ
আমেনা তাওসিরাত
দুষ্প্রাপ্য উপযাচক।
স্তিমিত ও বিষণ্ন প্রচারক।
অন্তর্লিখিত বৃত্তে
সঙ্গীত-বর্ণ ফুল।
গ্রামোফোনে দুঃস্বপ্ন,
আর অপযশ;
অপরাভূত নৃত্যে
অর্ধ-উন্মুক্ত প্রণয়িনী।
স্বীকৃত আর্ট প্রজেক্টে—
ক্রাশড চাইল্ডহুড,
ধ্বংসাবশেষের ভাস্কর্য
আর সবুজাভ আঙুরের জল।
বিগ্রহ পূর্ববর্তী দিনের
তুচ্ছতম স্মৃতিও
উইস্টেরিয়া ফুলের
কস্তুরি গন্ধের মতো।
ক্ষয় এবং বিস্ফোরণের পরে
বসন্তের মানচিত্রে
ঝুলন্ত-চিত্রিত পর্দা
এবং মৃত্যুদূত।
দুরকমের মানুষ হয়—
বন্ধু কিংবা আততায়ী।