প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫৮ মিনিট আগে
আপডেট : ৫৮ মিনিট আগে
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিদুল ইসলাম তোহা
ভাবুন তো, ঈদের ভিড়ে হঠাৎ সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না। কিংবা গভীর রাতে নির্জন কোনো সড়কে বিপদে পড়েছেন একজন নারী। আতঙ্ক, অসহায়ত্ব আর অনিশ্চয়তার সেই মুহূর্তে যদি মাত্র একটি ক্লিকেই আশপাশের মানুষ, পরিবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা আপনার কাছে পৌঁছে যায়? শুনতে অনেকটা কল্পবিজ্ঞানের গল্পের মতো লাগলেও বাস্তবে এমনই এক উদ্যোগ নিয়ে এসেছে ‘সংকেত’।
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিদুল ইসলাম তোহার উদ্ভাবিত এই অ্যাপ সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্ট ২০২৬’-এ সিনিয়র ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। প্রকল্পটির গ্রোথ অ্যান্ড কমিউনিটি ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন মুজাহিদ হাসান মাহিন।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নিরাপত্তার নতুন সংজ্ঞা
‘সংকেত’ মূলত একটি অলাভজনক কমিউনিটি সেফটি নেটওয়ার্ক, যার লক্ষ্য বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে মানুষকে দাঁড় করানো। পুরো বাংলাদেশকে ১ হাজার ৩৫০টি পোস্টকোডভিত্তিক অঞ্চলে ভাগ করে একটি দ্রুত সাড়া প্রদানকারী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে এতে। তোহার ভাষায়, দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতির পর প্রথম কয়েক মিনিটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বা পেশাদার সহায়তা পৌঁছানোর আগেই যদি স্থানীয় মানুষ এগিয়ে আসে, তাহলে অসংখ্য জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
কী আছে ‘সংকেত’-এ?
অ্যাপটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হলো জরুরি SOS ব্যবস্থা। ব্যবহারকারী মাত্র একবার ক্লিক করলেই তার অবস্থানসহ সতর্কবার্তা পৌঁছে যায় পরিবার, বন্ধু এবং আশপাশের ভেরিফায়েড ব্যবহারকারীদের কাছে। শিশু বা প্রবীণ কেউ হারিয়ে গেলে কাজে আসে নিখোঁজ অ্যালার্ট। সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যবহারকারীদের ফোনে মুহূর্তেই পৌঁছে যায় ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য, ফলে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া হয়ে ওঠে আরও দ্রুত ও কার্যকর।
এ ছাড়া সেফ ম্যাপ ফিচারের মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেরাই চিহ্নিত করতে পারেন ঝুঁকিপূর্ণ স্থান—যেমন খোলা ম্যানহোল, জলাবদ্ধ এলাকা কিংবা ছিনতাইপ্রবণ সড়ক। ফলে অন্যরা আগেভাগেই সতর্ক হওয়ার সুযোগ পান। অ্যাপটিতে রয়েছে কমিউনিটি ও প্রশাসনিক বার্তা প্রচারের ব্যবস্থাও। রক্তদানের আহ্বান, মাদকবিরোধী সচেতনতা কিংবা জরুরি সরকারি নির্দেশনা ভেরিফায়েড পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় সহজেই।
স্বপ্ন একটি নিরাপদ বাংলাদেশের
বর্তমানে ‘সংকেত’-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন তানজিদুল ইসলাম তোহা। তার সঙ্গে রয়েছেন সিফায়েত রহমানসহ একদল উদ্যমী তরুণ। তাদের লক্ষ্য শুধু একটি অ্যাপ তৈরি করা নয়; বরং দেশের নাগরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি কার্যকর সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
তোহার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও টেলিকম অপারেটরদের সহযোগিতায় এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি হবে, যেখানে ইন্টারনেট ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জরুরি সংকেত পাঠানো যাবে। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তির সহায়তায় সমাজের সাধারণ ‘নীরব দর্শক’দের ‘সক্রিয় সহায়তাকারী’তে রূপান্তর করা সম্ভব।
তার ভাষায়, “নিরাপত্তা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার।” আর সেই অধিকার নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি স্মার্টফোনকে জীবন বাঁচানোর একেকটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছে ‘সংকেত’। এই সংস্করণটি সংবাদপত্রের ফিচার, প্রযুক্তি পাতা বা তরুণ উদ্ভাবক বিষয়ক বিশেষ আয়োজনের জন্য আরও উপযোগী ও পাঠকবান্ধব।