× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অ্যানালগ ব্যাগ : ডিজিটাল ডিটক্সের নতুন উপায়

লাবিবা ইরম

প্রকাশ : ৫৭ মিনিট আগে

আপডেট : ৪৪ মিনিট আগে

অ্যানালগ ব্যাগ : ডিজিটাল ডিটক্সের নতুন উপায়

অ্যানালগ ব্যাগ : ডিজিটাল ডিটক্সের নতুন উপায়

ফোন হাতে নিয়ে রিলস দেখতে বসলেই কি জীবন থেকে ২-৩ ঘণ্টা নাই হয়ে যায় আপনার? সময় কোথা থেকে চলে যায় বুঝতেই পারেন না? মনোবিজ্ঞানীরা এটিকে বলছেন ডুমস্ক্রলিং। এই অনবরত স্ক্রিনটাইমিং বাড়াচ্ছে আমাদের চোখের ক্লান্তি, কমিয়ে দিচ্ছে মনোযোগের ক্ষমতা। এসব থেকে বাঁচতে বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এক দারুণ ডিজিটাল ডিটক্সের উপায় : অ্যানালগ ব্যাগ। চলুন এই সম্পর্কে একটু জেনে আসি। 

অ্যানালগ ব্যাগ কী

সহজ কথায়, অ্যানালগ ব্যাগ হলো এমন একটি ব্যাগ, যা সম্পূর্ণ অফলাইন বা অ-ডিজিটাল জিনিসে ঠাসা। এর মূল আইডিয়াটি খুব সাধারণ, যখনই আপনার অবচেতন মনে ফোন বের করে স্ক্রল করার তীব্র ইচ্ছা জাগবে, আপনি ফোনের বদলে হাত বাড়াবেন এই ব্যাগটির দিকে। এটি ডিজিটাল দুনিয়ার বিকল্প হিসেবে আপনার হাত ও মস্তিষ্ককে বাস্তব কোনো কাজে ব্যস্ত রাখবে। মোবাইল ফোনটি যেভাবে সবসময় সাথে রাখেন, ঘরের এক রুম থেকে অন্য রুমে যাওয়ার সময়, যাতায়াতে, রেস্তোরাঁয় কিংবা কোনো অপেক্ষার টেবিলে, ঠিক একইভাবে এই ব্যাগটিকেও সাথে রাখতে হবে।

অ্যানালগ ব্যাগ কীভাবে তৈরি করবেন

অ্যানালগ ব্যাগ তৈরি করাটা আসলে কঠিন কিছু না। এটা পুরোপুরি নির্ভর করে আপনার পছন্দের ওপর। আপনি যা করতে পছন্দ করেন, যেসব বিষয় আপনার মনকে খুশি করে তেমনই সব জিনিস দিয়ে সাজাতে পারেন আপনার ব্যাগটি। তবে হ্যাঁ, এই ব্যাগে যা-ই থাকবে তা হতে হবে অ্যানালগ, ডিজিটাল কোনো কিছু নয়। যেমনÑ

একটি নোটবুক বা ডায়রি ও কলম

মনের হুটহাট চলে আসা চিন্তাভাবনা, গল্প, বা দুই লাইন কবিতাÑ সেটাই হোক, লিখে রাখার জন্য জন্য ব্যাগে রাখতে পারেন নোটবুক বা ডায়রি আর সাথে কলম। যদি একদমই লেখার কিছু না পান তবে চোখের সামনে যা দেখছেন অথবা সারাদিনের কথাগুলো লিখে রাখতে পারেন। নিয়মিত ডায়রি লেখাও আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো একটা অভ্যাস।

স্কেচবুক, পেনসিল, রঙ

আঁকাআঁকি করতে ভালো লাগে? তাহলে ব্যাগে রাখুন স্কেচবুক ও আঁকার জিনিসপত্র। এই কাজের ফাঁকে, ফোন স্ক্রল না করে চেষ্টা করুন ছবি আঁকতে। অনেক বড় ছবি না আঁকতে পারলেও ছোট ছোট ডুডলিং দিয়ে শুরু করতে পারেন। এই অভ্যাসটি আমাদের ব্রেনকে শান্ত করার পাশাপাশি মনোযোগ বাড়াতেও বেশ সাহায্য করে।

আরও পড়ুন
ব্যাগ গুছিয়ে রাখার কৌশল

ম্যাগাজিন, কমিক্স, বই

এই ডিজিটাল ডিভাইস এসে আমাদের বই পড়ার অভ্যাসকে কমিয়ে দিচ্ছে। এই অভ্যাসটি আবার গড়ে তুলতে ব্যাগে রাখতে পারেন পছন্দের ম্যাগাজিন, কমিক্স কিংবা পছন্দের বিষয়ের বই। ফোন হাতে স্ক্রলিং করতে মনে চাইলেই দুই পাতা পড়ে ফেলতে পারবেন।

ক্রাফটিংয়ের জিনিস 

খুব সহজে করা যায় এবং আপনি করে আনন্দ পান এমন ক্রাফটিংয়ের জিনিস রাখুন ব্যাগে। হতে পারে সুঁই-সুতা, কুশিকাটার সরঞ্জাম, অরিগ্যামি পেপার ইত্যাদি। ছোট ছোট ক্রাফটিং প্রজেক্ট করুন।

মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখার জিনিস

মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখার জন্য ব্যাগে ভরে ফেলুন রুবিক্স কিউব, সুডোকুর বই, শব্দখেলার বই ইত্যাদি। এগুলো আপনার মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখবে, একঘেয়ে অনুভব করবেন না একদমই।

অ্যানালগ ব্যাগ অর্গানাইজ করার কিছু টিপস

জিনিসের বৈচিত্র্য : চিরচেনা পছন্দের জিনিসের পাশাপাশি ব্যাগে নতুন ও বৈচিত্র্যময় উপাদান রাখুন।

একাধিক ব্যাগের ব্যবহার : ঘরে ও বাইরে ব্যবহারের জন্য কিংবা বড় ও বাচ্চাদের জন্য আলাদা একাধিক ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।

নিয়মিত অদলবদল : একঘেয়েমি কাটাতে প্রতি মাসে বা কয়েক সপ্তাহ পর পর ব্যাগের ভেতরের জিনিসপত্র অদলবদল করুন।

মজবুত ব্যাগ বেছে নিন : জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার সুবিধার্থে অনেক পকেট ও চওড়া স্ট্র্যাপযুক্ত মজবুত ও আরামদায়ক ব্যাগ বেছে নিন।

ব্যাগটি নিজের মতো সাজান : চাইলে ব্যাগের বাইরে রঙ করে, পিন, প্যাচ, সুন্দর চার্মস বা ব্রোচ লাগিয়ে সেটিকে নিজের মতো আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন। 

পূর্ব প্রস্তুতি : বাইরে যাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো এড়াতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা প্রজেক্টগুলো আগেই ব্যাগে গুছিয়ে রেডি রাখুন।

আরও পড়ুন
ফ্যাশনে ক্রস বডি ব্যাগ

কেন এই অ্যানালগ ব্যাগ আপনার প্রয়োজন 

ডিজিটাল ডিটক্স ও মানসিক শান্তি : অনবরত নোটিফিকেশনের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে স্ক্রিনহীন অফলাইন কাজে মন দিলে ধ্যানের মতো মানসিক প্রশান্তি মেলে।

মনোযোগ ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি : অলস সময়ে ফোন ঘেঁটে ডোপামিন না খুঁজে অ্যানালগ জিনিসের সংস্পর্শে থাকলে চিন্তা করার গভীরতা ও সৃজনশীলতা বাড়ে।

ক্লান্তি দূর করা : দিনের একটা বড় সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার পর অফলাইন কাজে মনোযোগ দিলে চোখের ও শরীরের ক্লান্তি দূর হয় এবং মন সতেজ থাকে।

অ্যানালগ ব্যাগ মানে প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বর্জন করা নয়, বরং প্রযুক্তির ওপর আমাদের অন্ধ নির্ভরশীলতা কিছুটা কমিয়ে আনা। প্রতিদিনের ব্যস্ততায় বা যাতায়াতের সময়ে অন্তত এক ঘণ্টার জন্য ফোনটা সাইলেন্ট করে অ্যানালগ ব্যাগে হাত দিয়ে দেখুন। ডিজিটাল দুনিয়ার চেয়ে বাস্তব দুনিয়াটা যে কত বেশি নান্দনিক, তা নতুন করে আবিষ্কার করবেন।


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা