তাছলিম সিদ্দিকী
প্রকাশ : ৭ ঘণ্টা আগে
আজকের ব্যস্ত জীবনে স্মার্টফোন শুধু একটা ডিভাইস নয়, এটা আমাদের সঙ্গী, বিনোদনের উৎস এবং কাজের সহায়ক। কিন্তু দামের ঊর্ধ্বগতিতে অনেকের স্বপ্নের ফোন হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। চিন্তা নেই! ২০২৬ সালে বাংলাদেশের বাজারে ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে এমন অনেক ফোন রয়েছে, যা দামি ফোনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। সঠিকভাবে বেছে নিলে আপনি টাকা বাঁচিয়ে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা পাবেন। চলুন ধাপে ধাপে জেনে নিই কীভাবে বাজেটের মধ্যে সেরা স্মার্টফোন নির্বাচন করবেন।
প্রথমে নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি আসলে কী চান? যদি আপনি সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা, সিনেমা দেখা এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করেন, তাহলে ভালো ডিসপ্লে ও ব্যাটারি সমৃদ্ধ ফোন খুঁজুন। আর যদি গেমিং বা ফটোগ্রাফি আপনার নেশা হয়, তবে প্রসেসর এবং ক্যামেরার দিকে বেশি নজর দিন। উদাহরণস্বরূপÑ Samsung Galaxy A সিরিজের মডেলগুলো দীর্ঘদিন স্মুথ পারফরম্যান্স এবং নিয়মিত আপডেট দিয়ে ব্যবহারকারীদের মুগ্ধ করে। ফোনের ‘মস্তিষ্ক’ হলো প্রসেসর। বাজেট রেঞ্জে Snapdragon 6 Gen সিরিজ, MediaTek Dimensity ৭০০০ সিরিজ বা Exynos চিপসেটযুক্ত ফোনগুলো দারুণ কাজ করে। Redmi Note সিরিজ বা Poco ফোনগুলো গেমারদের জন্য আদর্শ, কারণ এগুলোতে উচ্চ রিফ্রেশ রেট এবং ভালো কুলিং সিস্টেম থাকে। কল্পনা করুন, আপনি বাসে যেতে যেতে ল্যাগ ছাড়াই আপনার প্রিয় গেম খেলছেন, এই অনুভূতিটাই আলাদা। ডিসপ্লে হলো ফোনের আত্মা। AMOLED ডিসপ্লে আপনাকে গভীর কালো এবং প্রাণবন্ত রঙের অভিজ্ঞতা দেয়, যা IPS LCD-এর চেয়ে অনেক উন্নত। ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটে স্ক্রল করার সময় মনে হয় যেন হাতের আঙুল পিছলে যাচ্ছে মাখনের ওপর দিয়ে। বাংলাদেশের প্রখর রোদে স্ক্রিন দেখতে চাইলে কমপক্ষে ৮০০ নিটস ব্রাইটনেসযুক্ত ফোন বেছে নিন। ক্যামেরা নিয়ে কথা বললে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। শুধু মেগাপিক্সেল দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। Vivo এবং Oppo-এর কিছু মডেলে থাকা AI ফিচার এবং উন্নত নাইট মোড দিয়ে আপনি অন্ধকারেও অসাধারণ ছবি তুলতে পারবেন।
সেলফিপ্রেমীরা ভালো ফ্রন্ট ক্যামেরাযুক্ত ফোন খুঁজে নিন। মনে রাখবেন, একটা সুন্দর মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরে রাখার আনন্দই আলাদা। RAM এবং স্টোরেজ ভুললে চলবে না। কমপক্ষে ৮ জিবি RAM এবং ১২৮ জিবি স্টোরেজ নিন, যাতে মাল্টিটাস্কিং করতে কোনো সমস্যা না হয়। ৫জি সাপোর্ট থাকলে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকবেন। বাংলাদেশে ৫জি নেটওয়ার্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তাই এখনই এই ফিচার নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সফটওয়্যার আপডেট ফোনের আয়ু বাড়ায়। Samsung-এর মতো ব্র্যান্ড ৫-৬ বছরের আপডেট দেয়, যা সিকিউরিটি এবং নতুন ফিচারের নিশ্চয়তা দেয়। সার্ভিস সেন্টারের সুবিধা, ওয়ারেন্টি এবং ব্র্যান্ডের খ্যাতিও বিবেচনা করুন। রিভিউ পড়ুন, ইউটিউবে দেখুন এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন। বাজেট ফোনেও ছোট ছোট ট্রেড-অফ থাকবে, কিন্তু সঠিক চয়েস করলে প্রতিদিন ফোন হাতে নিয়ে আপনি হাসবেন। স্মার্ট কেনাকাটা করুন, স্মার্ট থাকুন।