সায়েরা জাহান সুপ্রি
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪০ পিএম
সিয়াম সাধনার মাস রমজানে ভোররাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবারের পাশাপাশি পানি পান থেকে বিরত থাকেন মুসলিমরা। সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা, শক্তির ঘাটতি ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। শরীরে পানির ঘাটতি হলে মাথাব্যথা, দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে সহজেই ক্লান্তি দূর করা সম্ভব। দেখে নিন কোন খাবার এবং কীভাবে নিজেকে ক্লান্তিহীন রাখতে পারেন পুরো রমজান মাস।
হাইড্রেটেড থাকতে সেহরিতে বেছে নিন পুষ্টিকর খাবার
সেহরিতে এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায় এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। অন্তত ২-৩ গ্লাস পানি খাওয়া উচিত। সেহরিতে এমন খাবার খাওয়া ভালো যেগুলোতে পানি বেশি থাকে যেমনÑ শসা, তরমুজ, টমেটো, কমলা ইত্যাদি।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
ডিম, দুধ, দই, বাদাম ও চিয়া সিডস দীর্ঘক্ষণ শক্তি দেয়।
ফাইবারযুক্ত খাবার
লাল আটার রুটি, ওটস, ফলমূল (আপেল, কলা, খেজুর) হজম হতে সময় নেয়। ফলে ক্ষুধা কম অনুভূত হয়।
ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করুন
ইফতারে উচ্চ মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এ ধরনের খাবার শরীরে পানির চাহিদা বাড়ায়। ইফতারের সময় হঠাৎ করে অনেক বেশি পানি না খেয়ে ধীরে ধীরে পানি পান করা ভালো। প্রথমে খেজুর ও এক গ্লাস পানি বা ডাবের পানি পান করুন। তারপর স্যুপ, ফল, দই, সালাদ ও হালকা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান। ইফতারের পর থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ৬-৮ গ্লাস পানি ভাগ করে পান করা উচিত। এতে শরীর ধীরে ধীরে পানি শোষণ করতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুমে থাকুন সতেজ ও সুস্থ
রোজায় সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত ঘুম খুবই জরুরি। ঘুমের রুটিন এলোমেলো হয়ে গেলে শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত লাগতে পারে। তাই প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। সেহরির পর ১-২ ঘণ্টা বিশ্রাম নিন এবং দিনের মধ্যে সময় পেলে ২০-৩০ মিনিটের একটি পাওয়ার ন্যাপ নিন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম আপনাকে রাখবে সতেজ ও কর্মক্ষম।
হালকা ব্যায়াম করুন
রোজায় শরীর সতেজ রাখতে ইফতারের ১-২ ঘণ্টা পর ১৫-২০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন। গরমের দিনে সূর্যতাপে ব্যায়াম করলে প্রচুর পরিমাণে পানি পানের চাহিদা তৈরি হয়। এ কারণে রোজায় ব্যায়ামের সবচেয়ে ভালো সময় হলো ইফতারের পর। কারণ ইফতারের মধ্য দিয়ে শরীর পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানীয়র মাধ্যমে শক্তি পায়। রোজা ভেঙে ব্যায়াম করলে শরীর থেকে ঝরে যাওয়া তরলের চাহিদা পূরণের জন্যও পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত কাজ এড়িয়ে চলুন
রোজায় অতিরিক্ত কাজ ও মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন এবং কাজগুলো পরিকল্পনা করে ধীরে ধীরে সম্পন্ন করুন। সম্ভব হলে দুপুর বা বিকালে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন এবং চাপ অনুভব করলে গভীর শ্বাস নিন।
মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখুন
রোজার সময় মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে ইবাদত ও মেডিটেশন করুন এবং অযথা দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান ও ইতিবাচক চিন্তা করুন, এতে মন শান্ত ও প্রফুল্ল থাকবে।
ক্যাফেইন ও ধূমপান পরিহার করুন
এগুলো শরীরের পানি কমিয়ে তৃষ্ণা বাড়ায়। চা, কফি, এনার্জি ড্রিংক ও ধূমপান এড়িয়ে চললে শরীর থাকবে সতেজ ও স্বস্তিতে।