তৌকির মুহাইমিন
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:১৬ পিএম
অলংকরণ : ফাতিহা ফারহীন, শ্রেণি : চতুর্থ, বিএএফ শাহীন কলেজ, ঢাকা
দিনটি ছিল ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি। ফাল্গুনের সকাল, গাছে গাছে ফুটেছে পলাশ ফুল। শজনে গাছ সাদা ফুলে নুয়ে পড়েছে। আম আর জামগাছ মুকুলে মুকুলে ফলের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। সেদিন বাংলাদেশের আকাশের রঙ ছিল নীল আর মানুষের চোখের রঙ ছিল ক্ষুব্ধ লাল।
বাহাদুর, বায়েজিদ, সালমান আর নাফিজ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বাহাদুর রুমে বসে তার মায়ের লেখা চিঠি পড়ছে। মা লিখেছেন, খোকা ভালোভাবে পড়াশোনা করবি। তোকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। কোনো ঝামেলায় জড়াবি না, রাজনীতি করবি না। এমন সময় বাহাদুর শুনতে পায় বাইরে স্লোগান হচ্ছে, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। বায়েজিদ এসে বাহাদুরকে বলল, চল মিছিলে যাব। বাহাদুর বলল, কিন্তু বাইরে তো ১৪৪ ধারা চলছে। তখন সালমান, বায়েজিদ আর নাফিজ বলল, আমরা জীবন দিয়ে হলেও আমাদের মাতৃভাষাকে রক্ষা করব। কোনোভাবেই উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা মেনে নেব না।
বাহাদুর তার মাকে চিঠি লিখতে বসে গেল, মা, আমি রাজনীতি করি না। কিন্তু আমার মায়ের মুখের ভাষা আমি কেড়ে নিতে দেব না। মায়ের সম্মান আমি রক্ষা করবই। এই লিখে চিঠিটা পকেটে নিয়ে হাতে রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বাহাদুর সবার সঙ্গে মিছিলে যোগ দিল।
সবাই ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল নিয়ে দুর্বার গতিতে সামনে এগিয়ে যেতে থাকল। সবার বুকে ছিল সাহস, মনে ছিল মায়ের ভাষা রক্ষার প্রতিজ্ঞা, চোখে ছিল ক্ষোভ। হঠাৎ পুলিশ তাদের মিছিলে গুলিবর্ষণ করে। প্রথম গুলিতে আকাশ কেঁপে ওঠে, দ্বিতীয় গুলিটি বাহাদুরের পাশ দিয়ে চলে যায়, তৃতীয় গুলিতে বাহাদুর বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে। তারপর বাহাদুর দেখে তার মায়ের কাছে লেখা চিঠিটা রক্তে ভিজে গেছে। বাহাদুর তখন মৃদু হাসতে হাসতে বলে, মা তোমার ভাষার জয় হবেই। তোমার ভাষা ওরা কেড়ে নিতে পারবে না। এই বলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বাহাদুর।
কিছুদিন পরে বায়েজিদ রক্তে ভেজা সেই চিঠিটা বাহাদুরের মায়ের কাছে নিয়ে আসে। তার মা চিঠি পেয়ে বলেন, আমার ছেলে মারা যায়নি। সে চিরদিন আমাদের সবার মুখের ভাষায় বেঁচে থাকবে। আজও প্রতিটা বাঙালি তাদের এই আত্মত্যাগ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। একুশে ফেব্রুয়ারি তাদের এই মহান আত্মত্যাগকে সম্মান জানানোর জন্য খালি পায়ে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যায়। আর গান গায়।
ষষ্ঠ শ্রেণি, বরিশাল জিলা স্কুল, বরিশাল