× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পোশাকে একুশ

লাবিবা ইরম

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৭ পিএম

পোশাকে একুশ

ফেব্রুয়ারি মাস ভালোবাসা আর বসন্তের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে আসে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি। বাংলাভাষী সকলে একুশকে হৃদয়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করে। তাই একুশের নানা আয়োজনের একটি বড় অংশে আলোচনায় থাকে পোশাক। একুশের পোশাক নিয়ে লিখেছেন লাবিবা ইরম

একুশে ফেব্রুয়ারির দিন শুরু হয় প্রভাতফেরি দিয়ে। দলে দলে সবাই ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে যান শ্রদ্ধা জানাতে। এ সময় সাদা-কালো, কালো পোশাক বেশি দেখা যায়। শাড়ি আর পাঞ্জাবি পরেই প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ করেন বেশিরভাগ মানুষ। তবে সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, শার্ট পাঞ্জাবি ইত্যাদি পোশাকও অনেকে বেছে নেন। ছোট বাচ্চাদের সাধারণত ফ্রক, স্কার্ট, থ্রিপিস, শার্ট, ফতুয়া, টি-শার্ট এগুলো পরাতে দেখা যায়।

ফেব্রুয়ারি মাসের এই সময় থেকে হালকা গরম পড়তে শুরু করে। তাই ফেব্রিক্সের ক্ষেত্রে সুতি, তাঁত এগুলোই সবার পছন্দের তালিকায় থাকে। এ ছাড়াও সিল্ক, হাফসিল্ক, অ্যান্ডি কটনের কাপড়ের পোশাক দেখা যায়। রাতের দিকে বা সন্ধ্যার আয়োজনে হালকা ঠান্ডার পরশ পাওয়া যায় বলে অনেকেই একটু পাতলা শাল ব্যবহার করেন। 

কার জন্য কেমন পোশাক

একুশের পোশাকের ক্ষেত্রে অনেক সময় দ্বিধায় পড়ে যান কে কেমন পোশাক পরবেন। সব বয়সী নারীর জন্য শাড়ি এক্ষেত্রে খুব ভালো একটি অপশন। তবে অনেকেই শাড়ি পরতে খুব একটা কমফোর্ট ফিল করেন না। এক্ষেত্রে থ্রিপিস, এ লাইন কুর্তি, রাউন্ড ফ্রক, টপস-স্কার্ট এগুলোও পরতে পারেন। টিনেজ মেয়েদের ক্ষেত্রে শাড়ির চেয়ে এগুলো বেশি কমফোর্টেবল অপশন হবে।

ছেলেদের জন্য সবচেয়ে ভালো চয়েস হলো পাঞ্জাবি আর পায়জামা। জিন্স বা চুরিদার পায়জামাও বেশ মানিয়ে যায় এক্ষেত্রে। তা ছাড়া একটু বয়স্ক মানুষেরা ফতুয়া বা শার্ট পরতে পারেন। এতে সারা দিন পরে থাকার জন্য কষ্ট কম হবে। টিনেজ ছেলেদের জন্য শার্ট-জিন্স, ফতুয়া বা টি-শার্ট বেছে নেওয়াটা ভালো হবে।

বর্তমানে অনেক অনলাইন পেজ, ফ্যাশান হাউস পুরো ফ্যামিলি ম্যাচিং ড্রেস সেট করে। পুরো পরিবার একসঙ্গে এই দিনটি উদযাপন করতে চাইলে এ ধরনের কোনো পেজ বা ফ্যাশন হাউস থেকে পোশাক বেছে নিতে পারেন। সাধারণত এসব সেটে সাইজ, স্টাইল এসব কাস্টমাইজ করে নিজেদের মতো বানিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। 

এ ছাড়াও রাত বা সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রোগ্রাম থাকলে হালকা শাল নিতে ভুলবেন না। এক্ষেত্রে এক কালারের কালো বা সাদা শাল নেওয়া যায়। তা ছাড়া একুশের থিমের শালও এখন মার্কেট, ফ্যাশন হাউস বা অনলাইন পেজে দেখা যায়, সেগুলোও নিতে পারেন।

কোন রঙের পোশাক বেছে নেবেন

একটা সময় পর্যন্ত দেশীয় একুশের ফ্যাশনে শুধু সাদা-কালো রঙের রাজত্ব দেখা গেছে। তবে বর্তমানে শোকের পাশাপাশি দেশের পতাকার রঙ লাল সবুজ, রক্তের রঙ লাল, তারুণ্যের উজ্জ্বলতা বোঝাতে উজ্জ্বল কমলা, বাসন্তী, হলুদ ইত্যাদি রঙও দেখা যাচ্ছে পোশাকে। 

কেমন ফেব্রিক বেছে নেবেন

ফেব্রুয়ারির এই সময়টা আবওহাওয়া থাকে নাতিশীতোষ্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দিনের বেলায় বেশ ভালোই গরম থাকে। তাই এ সময়ে ফেব্রিকের ক্ষেত্রে সুতি, ভয়েল এগুলোই বেছে নেওয়া ভালো। তা ছাড়া দেশীয় লুক আনতে তাঁত, খাদি, কোটা ইত্যাদি বেছে নিতে পারেন। সারা দিনের প্রোগ্রাম না থাকলে সিল্ক বা হাফ সিল্ক বেছে নেওয়া যেতে পারে। 

কেমন ডিজাইন 

একুশের পোশাক যেহেতু সবসময়ই থিম বেজড হয়ে থাকে। তাই পোশাকের ডিজাইনের ক্ষেত্রে অক্ষর, বাংলা ভাষার শব্দ, গানের লাইন, কবিতা এ ধরনের মোটিফগুলোই বেশি প্রাধান্য পায়। এ ছাড়াও জ্যামিতিক নকশা, ফুলের মোটিফ বিশেষত পলাশ, শিমুল, গাঁদা এগুলো দেখা যায়। হ্যান্ডপেইন্ট, প্রিন্ট ছাড়াও বর্তমানে ডিজিটাল প্রিন্টের ডিজাইন বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে।

অ্যাক্সেসরিজ 

অ্যাক্সেসরিজ হিসেবে সিম্পল গয়না, ব্যাগ ও জুতা বেছে নেওয়াটা ভালো। চকমকে জিনিস একুশের সাজের সঙ্গে খুব একটা মানায় না। কানে ছোট দুল, গলায় হালকা মালাই দারুণ মানিয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া চুড়ি, ব্রেসলেট, আংটি ইত্যাদিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এখন হ্যান্ডমেড নানারকম গয়না পাওয়া যায় যেখানে দেশীয় একটা ভাবের সঙ্গে একুশের চেতনাও ফুটে ওঠে। কাঠ, মাটি, ক্লে, কাপড়ের গয়নায় দেশি পুরো সাজে দেশীয় আমেজ আসে। 

এবারের স্টাইল 

বর্তমান ফ্যাশনে চলছে মিনিমাল স্টাইল। যতটা কমে স্মার্টলি ডিজাইন ফুটিয়ে তোলা যায় সেটারই প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে সব জায়গায়। এ ছাড়া দেশীয় ক্লাসিক ডিজাইনের সঙ্গে বিভিন্ন ডিজাইনের মিশেলে ফিউশন ডিজাইনেরও জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অন ক্লাউড নাইন অ্যান্ড হাফের স্বত্বাধিকারী আফরিন আহমেদ জানান, এবারের একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে ফ্যাশনের মূল থিম বরাবরের মতোই সাদা-কালো। এটা শোক, সম্মান আর ভাষা আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে অটুট। তবে অনেক বুটিক হাউসগুলো এবার নতুনত্ব এনেছেÑ ইউনিক প্রিন্ট আর কমফোর্টেবল ফেব্রিক ব্যবহার করেছে পোশাকে। ট্র্যাডিশনাল লুকের সঙ্গে মডার্ন টুইস্ট যোগ করে ট্রেন্ডি করেছে ডিজাইন।

শাড়িতে সাদা জমিনে কালো পাড় বা ব্লক প্রিন্ট, জামদানি মোটিফ বা কালো শাড়িতে সাদা অ্যাকসেন্ট ব্যবহৃত হয়েছে। অনেক কালেকশনে বাংলা অক্ষর (যেমন ‘অমর একুশে’) বা ভাষা আন্দোলনের মোটিফ দেখা গিয়েছে। ফেব্রিক হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে হাফ সিল্ক, কটন, ভয়েলÑ যেগুলো সহজে পরা যায় এবং আরামদায়ক।

থ্রি-পিস/সালোয়ার-কামিজে কালো-সাদা কম্বিনেশন, এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট প্রাধান্য পেয়েছে। ওড়নায় লং আঁচল বা ইউনিক প্যাটার্ন দেখা গেছে। কখনও গ্রে বা ডার্ক শেড মিক্স করে ভ্যারিয়েশনও আনা হয়েছে। পুরুষদের পোশাক সাদা পাঞ্জাবিতে কালো বর্ডার বা চেকপ্রিন্ট, বা কালো পাঞ্জাবিতে সাদা অ্যাকসেন্ট দেখা গেছে। অনেকে ফ্যামিলি ম্যাচিং আউটফিটও বানিয়েছেÑ মা-বাবা-সন্তান সবার জন্য একই থিমের পোশাক। অ্যাক্সেসরিজ হিসেবে সাদা-কালো জুতা, ব্যাগ বা গয়নাই প্রাধান্য পাবে। মোদ্দাকথা সবাই স্নিগ্ধ, এলিগ্যান্ট, ফ্রেশ লুকের সঙ্গে নতুন স্টাইলের মিশেল করতে চেয়েছে এবার পোশাকে।

কেমন পোশাক নিয়ে এবার কাজ করছেন তার উত্তরে তিনি জানান, আমি মূলত কাজ করেছি এবার মিনিমাল ডিজাইন নিয়ে। বেজ কালার হিসেবে সাদা ব্যবহার করেছি, যা ভাষা আন্দোলনের পবিত্রতা ও সত্যের প্রতীক। লাল রঙ শুধু রক্তের স্মৃতি নয়, প্রতিবাদ, সাহস ও পুনর্জাগরণের চিহ্নওÑ যা বুকের কাছে অবস্থান করে অনুভূতির কেন্দ্রকে প্রকাশ করছে। কালো রেখা ও বর্ডার শোকের গভীরতা এবং ইতিহাসের ভার বহন করেছে।

স্লিভের লাল-কালো স্ট্রাইপ ডিজাইনে গতিশীলতা এনেছে, সংগ্রামের ধারাবাহিকতা চলমান এটা বুঝিয়েছে। প্রতিটা সূক্ষ্ম মোটিফ ও মিনিমাল প্যাটার্ন সাংস্কৃতিক শেকড়কে স্মরণ করে করা হয়েছেÑ যা অতিরিক্ত অলংকরণ ছাড়া অর্থপূর্ণ লুক দিতে সাহায্য করেছে।

সাদা শাড়িতে লাল সূর্য ও বাংলা বর্ণমালার ছাপ ভাষা ও পরিচয়ের সরাসরি প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অক্ষরগুলো ছড়িয়ে থাকা মানে ভাষা আমাদের চারপাশে, আমাদের শ্বাসে, আমাদের সত্তায় মিশে আছে।

সব মিলিয়ে চেষ্টা করেছি আবেগপ্রবণ ডিজাইন করতে, কিন্তু তা যেন অতিরঞ্জিত না নয়। পোশাকগুলো যেন একুশের চেতনা ধারণ করে। কিন্তু এমনভাবে উপস্থাপন করে যে এগুলো শুধু একটি বিশেষ দিনের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং সচেতন ফ্যাশনের অংশ।

মুখের নকশা দিয়ে বোঝানো হয়েছে, মুখের ভাষা যতই কেড়ে নিতে চাক, আমাদের হৃদয় থেকে উৎসারিত ভাষা হলো আমাদের বাংলা ভাষা। 

একুশের পোশাক কেবল একটি দিনের ফ্যাশন নয়; এটি একটি জাতির ইতিহাসের একটি ধারক। রঙ, নকশা, কাপড় ও প্রতীকÑ সবকিছু মিলিয়ে এই পোশাক ভাষা আন্দোলনের চেতনা বহন করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। সময় বদলেছে, ফ্যাশন বদলেছে, কিন্তু একুশের আবেগ আজও একই শক্তিতে আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ধারণ করে রেখেছে।


ছবি কৃতজ্ঞতা : অন ক্লাউড নাইন অ্যান্ড হাফ


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা