ফরিদুর রেজা সাগর
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৯ পিএম
অলংকরণ : মিথিলা ভৌমিক, দশম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
মায়রা পাখি হতে চায়।
মায়রন প্রজাপতি হতে চায়।
মায়রা ফুল হতে চায়।
মায়রন বেলুন হতে চায়।
মায়রা ময়না হতে চায়।
মায়রন বিড়াল হতে চায়।
মায়রা নদী হতে চায়।
মায়রন আকাশ হতে চায়।
ওরা দুই ভাইবোন।
ওদের এইসব কথা মন দিয়ে শোনেন ওদের নানাভাই।
মাঝেমধ্যে বুবাই এসে ওদের মাঝখানে হাজির হয়। ওরা কথা বলে আর বুবাই মন দিয়ে শোনেন। বুবাইয়ের ভাবনা মায়রা আর মায়রন কি খাবে। বুবাই এসব নিয়ে ভাবে না। কিন্তু নানাভাই তাদের এসব কথা শুনে মজা পান।
কারণ নানাভাইও ছেলেবেলায় আকাশ হতে চাইতেন। নদী হতে চাইতেন। কিন্তু যখন তিনি নানাভাই হলেন তখন তার চুল পড়ে গেল। তার দাঁত পড়ে গেল দু-চারটে। তখনও নানাভাই নদী বা আকাশ হতে পারেননি।
তাই মায়রা যখন বলে নদী হব। মায়রন যখন বলে আকাশ হব, তখন নানাভাই খুব মজা পান।
নানাভাই ফিরে যান তার ছেলেবেলায়। দেখতে পান সেই বর্ষার নদী। ঝকঝকে আকাশ দেখেন।
এসব দেখেন আর খুব অবাক হন।
নানার সঙ্গে মায়রা আর মায়রন এর খুব বন্ধুত্ব। তিনজন একসঙ্গে হলেই নানা আলাপে তারা মেতে ওঠে।
নানাভাই গল্প বলেন, তারা মনোযোগ দিয়ে গল্প শোনেন। এখন মায়রা আর মায়রন নানাভাইকে গল্প শোনায়।
নানাভাই খুব মন দিয়ে তাদের গল্প শোনেন।
মায়রা এক দিন স্কুলের একটা গল্প বলল।
মায়রার ক্লাস টিচার এক দিন একটা গল্প শোনালেন।
তিনি বললেন, আমি এক দিন পাখি হতে চেয়েছিলাম। মায়রা-মায়রন টিচারের গল্প মন দিয়ে শোনে।
আকাশজুড়ে পাখি ওড়ে। আমি ওদের ভিড়ে হারিয়ে যাব। পাখিরা কত সুন্দর গান গায়। আমি গান গাইব। পাখিরা অশোক গাছের ডালে বসে গান গায়, আমি তাদের সঙ্গে গান গাইব।
তখন মায়রা ভাবে সবাই মনে হয় ছেলেবেলায় পাখি হতে চায়।
নানাভাই তুমি কি কোনোদিন পাখি হতে চেয়েছিলে?
নানাভাই মাথা চুলকিয়ে বলেন, শুধু পাখি হতে চাইনি। পাখিদের ভাষা বুঝতে চেয়েছিলাম। পাখিদের ডাকের মানে বুঝতে চেয়েছিলাম। পাখিরা যে দলবেঁধে চলে, কিচিমিচির করে ডাকে, সেই ভাষা বুঝতে চেয়েছিলাম।
মায়রাও বলে তাহলে আমিও পাখিদের ভাষা বুঝতে চাই। কথা বুঝতে চাই।
নানাভাই বললেন, শুধু পাখি নয়। নদী কথা বলে।
গাছপালা কথা বলে।
ফুল কথা বলে।
আকাশও কথা বলে।
প্রজাপতিও কথা বলে। সবার কথাই আমাদের বোঝা দরকার।
দুই ভাইবোন হাততালি দিয়ে বলে কাল থেকে আমরা সবার ভাষা বোঝার চেষ্টা করব। স্কুলের মাঠে কান পাতলে ঘাসেরা যে কথা বলে আমরা সেটা টের পাই। ঘাসেরাও কথা বলে।
তাহলে! কাল স্কুলে গিয়ে ফুলের সঙ্গে কথা বলব, দেখি ফুলেরা কী কথা বলে। নানাভাই খুশি হলেন। আসলে আমাদের চারপাশে যা আছে সবই আমাদের বোঝা দরকার।